মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও মুক্তারপুর সংলগ্ন মেঘনা ও ধলেশ্বরী নদীতে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চ চরে আটকা পড়েছে। চালকদের বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত এবং নৌ পুলিশের সময়োচিত হস্তক্ষেপে কোনো প্রাণহানি ছাড়াই উদ্ধার করা হয়েছে লঞ্চ দুটিতে থাকা প্রায় ৭৫০ জন যাত্রীকে।
গজারিয়ায় এমভি সমতার রুদ্ধশ্বাস রক্ষা
রোববার সন্ধ্যায় চাঁদপুরের ষাটনল ঘাট থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘এমভি সমতা’ লঞ্চটি মেঘনা নদীর গজারিয়া অংশে পৌঁছালে হঠাৎ তীব্র ঝড়ের মুখে পড়ে। প্রচণ্ড ঢেউ ও বাতাসের তোড়ে লঞ্চটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর উপক্রম হলে আতঙ্কিত যাত্রীরা কান্নাকাটি শুরু করেন। এ সময় লঞ্চের মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দ্রুত লঞ্চটিকে নিকটস্থ চর রমজান বেগ এলাকায় তীরে তুলে দিয়ে নোঙর করেন। এতে লঞ্চে থাকা প্রায় ২৫০ যাত্রী নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পান।
লঞ্চের মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে মাঝনদীতে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। যাত্রীদের জানমাল রক্ষায় দ্রুত লঞ্চটি চরে তুলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।
ধলেশ্বরীতে ‘ঈগল-৯’ ও নৌ পুলিশের উদ্ধার অভিযান
একই সময়ে ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী প্রায় ৫০০ যাত্রী নিয়ে ‘ঈগল-৯’ লঞ্চটি ধলেশ্বরী নদীর মুক্তারপুর ও কাঠপট্টির মাঝামাঝি এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চরে আটকে যায়। মাঝনদীতে এমন বিপর্যয়ে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত খবর দেওয়া হয় নৌ পুলিশকে।
সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে সদরঘাট থেকে ‘এমভি জামাল’ নামে অপর একটি লঞ্চ এনে আটকে পড়া ৫০০ যাত্রীকে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়। মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আব্দুল মাবুদ নিশ্চিত করেছেন যে, দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
স্বস্তি ও নিরাপত্তা সতর্কতা
উভয় ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও আকস্মিক এই ঝড়ে নদীপথে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী দলগুলোর মতে, চালকদের তাৎক্ষণিক সঠিক সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপ আজ এক বড় ধরনের ট্র্যাজেডি রুখে দিয়েছে।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, বৈশাখী মৌসুমে নদীপথে চলাচলের সময় আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চালকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

