মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের হোগলাকান্দি এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে একটি পরিবারের ওপর দফায় দফায় বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। দুই দিনের পৃথক হামলায় নারীসহ একই পরিবারের অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতির দাবি
ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হোগলাকান্দি এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ আক্তারের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এর সূত্র ধরে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে শাহনাজের দুই ভাই শাহাজুল ও শাহ আলমকে কবরস্থান সংলগ্ন সড়কে গতিরোধ করে প্রতিপক্ষের লোকজন।
পরিবারের দাবি, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে শাহাজুলের মাথায় গুরুতর জখম এবং বাম পা ভেঙে যায়। এ সময় শাহ আলমকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা শাহাজুলের কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং একটি মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে। পরবর্তীতে হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং ফলদ গাছ কেটে ফেলে। এতে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
দ্বিতীয় দফা হামলা ও চুরির চেষ্টা
প্রাথমিক হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে পুনরায় অভিযুক্তরা শাহনাজের বাড়িতে চড়াও হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্য হাসি বেগমকে (৬০) নির্মমভাবে মারধর করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
এ ছাড়াও একই দিন গভীর রাতে ওই বাড়ির গোয়ালঘর থেকে গরু চুরির চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। টের পেয়ে বাড়ির লোকজন বের হলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পরিবার
ভুক্তভোগী শাহনাজ আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“প্রতিবেশিদের সাথে বিরোধের জেরে তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের হুমকি দিয়ে আসছিল। এখন আমরা ও আমাদের পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা এই হামলার সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।”
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, পুলিশ অভিযোগ হাতে পেয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

