গজারিয়ায় দাখিল মাদ্রাসার সুপারের খুটির জোর কোথায়? ৯বারে সাড়ে ৩শ দিন অনুপস্থিতের বেতন ভাতা উত্তোলন

গজারিয়া প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দি দাখিল মাদ্রাসা চলছে হযবরল অবস্থায়। এখানকার সুপার তার ইচ্ছেমত মাদ্রাসায় আসেন এবং ছুটি ভোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আইনগত ব্যবস্থাও নিয়েছিলেন। সাময়িক বরখাস্ত করেছিলেন সুপারকে। কিন্তু তার ক্ষমতা এতটাই বেশী যে, সকল কিছুর উর্ধ্বে তিনি। সকল আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে তিনি দিনের পর দিন প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকে সরকারি টাকার অংশ তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে আইন শৃংখলা মিটিংয়েও কয়েক দফা বিষয়টি উত্থাপিত হলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি বহাল তবিয়্যতে রয়েছেন। মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সালাম অবৈধভাবে হজ্জ্ব কাফেলের নামে প্রতি বছরই অবৈধভাবে ছুটি ভোগ করেছেন। ২০০৬, ২০১১ সালে তিনি রমজান মাসে পবিত্র ওমরা হজ্জ্ব কাফেলা নামে ১৪দিন ছুটি ভোগ করেছেন কিন্তু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। ২০১২, ১৩, ১৪ সালে ৪৫দিন করে মায়ের বদলীসহ পবিত্র হজ্জ্ব কাফেলার নামে ছুটি ভোগ করেছেন কিন্তু হাজিরা খাতায় হাজিরা দিয়েছেন। ২০১৫, ১৬ সালে ৪৫দিন করে পবিত্র হজ্জ্ব কাফেলা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা দেখিয়ে ছুটি কাটিয়েছেন কিন্তু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। ২০১৭ সালে ৪৫দিন ও ২০১৮ সালে বিনা অনুমতিতে ৪৫দিন ছুটি কাটিয়েছেন। সর্বমোট প্রায় সাড়ে তিনশ দিন অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় অনৈতিকভাবে হাজিরা দিয়েছেন সুপার।
২৮ জুলাই ২০১৮ তারিখে কর্মস্থলে যোগদানের নোটিশ প্রদান করা হয়। ১৬ আগস্ট ২০১৮ সালে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মইনুল হক সরকার (বাদল) স্বাক্ষরিত সাময়িক বরখাস্তের কপিতে দেখা যায়, বিনাঅনুমতিতে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকায় কারণ দর্শাণো নোটিশ ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সকল বিষয়ে নিয়ে ১১ মার্চ ২০১৯ ইং তারিখে গজারিয়া উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মার্চ’ ১৯ মাসের সভায় হোসেন্দি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকদের সরকারি অংশের বেতন ভাতা না পাওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় বিষয়টির সুরাহা করা হয়।
মাদ্রাসাটিতে গিয়ে জানা যায়, সুপার আব্দুস সালামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে ঐ সময় সহ-সুপারকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এরই মধ্যে সুপার হজ্জ্ব কাফেলা থেকে আসার সাথে সাথে ম্যানেজিং কমিটিকে না জানিয়েই দায়িত্বভার সুপারের হাতে তুলে দেন। ফলে কমিটি সহ-সুপার ও সুপারের কর্মকান্ডে ক্ষিপ্ত হয়ে বেতনের সরকারি অংশের বিল বন্ধ করে দেন। ফলে সকল শিক্ষক বেতনের সরকারি অংশ থেকে বঞ্চিত হন সকল শিক্ষক। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: জাকির হোসেনের সহযোগিতায় পুনরায় সকলের বেতন বিল চালু হয়। কিন্তু সুপার আব্দুস সালাম কিভাবে এতদিন ছুটিতে থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতনের সরকারি অংশে কিভাবে ম্যানেজিং কমিটি স্বাক্ষর করে বিল উঠানোর সুযোগ করে দিলেন এটাই এখন ভাবিয়ে তুলেছে স্থানীয়দের।
একটি মাদ্রাসার সুপার কিভাবে এতগুলো হজ্জ্ব কাফেলায় জান, কোন অজ্ঞাত ক্ষমতার বলে তিনি এতদিন অনুপস্থিত থেকে বেতনের সরকারি অংশ তুলেছেন এটাই ভাবনায় ফেলে দিয়েছি গজারিয়া বাসীকে।
মাদ্রাসার সুপার মো: আব্দুস সালাম প্রথমে সাময়িক বরখাস্তের কথা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে বরখাস্ত করাটা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন। তার কাজে সন্তষ্ট হয়ে প্রতিবছরই তাকে হজ্জ্ব কাফেলায় যাওয়ার ছুটি মঞ্জুর করেছেন কমিটি।
এ বিষয়ে হোসেন্দী মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মইনুল হক সরকার বাদল বলেন, মাদ্রাসার সুপারের অনিয়মে অতিষ্ঠ। আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ করেছি। কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ না নিলে আমার কি করণীয় আছে। তিনি বলেন, মাদ্রসার সুপার চরমভাবে অনিয়ম করেই চলেছেন।