সর্বশেষ খবর

মুন্সিগঞ্জে দুই মেয়েকে পানিতে ফেলে হত্যা, আদালতে দোষ স্বীকার করলেন মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে পানিতে ফেলে যমজ দুই কন্যাকে হত্যা করে আদালতে দোষ স্বীকার করলেন মা। বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫ টার দিকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: আশীকুর রহমান আসামি শান্তা বেগম (২২) এর স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন। শান্তা বেগম শ্রীনগর উপজেলার বিবন্দি বিলের বাড়ি গ্রামের সোহাগ শেখের স্ত্রী।
জানা গেছে, উপজেলার বিবন্দী গ্রামের দিন মুজুর সোহাগ শেখের সাথে প্রায় দুই বছর আগে উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের মজিদপুর দয়হাটা গ্রামের শাহ আলমের মেয়ে শান্তা বেগমের বিয়ে হয় । ৫ মাস আগে শান্তা যমজ কন্যা সন্তান প্রসব করে। যমজ কন্যা সন্তান প্রসব বিষয়টি সাধারণভাবে মেনে নেয়নি সোহাগ শেখ। এনিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকতো। শান্তা সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকলেও বেশ কয়কদিন আগে স্বামীর বাড়িত আসে। গেলো সোমবার রাত আটটার দিকে সোহাগের ঘর থেকে হট্টগোলের শব্দ শুনে প্রতিবশীরা এগিয়ে এসে জানতে পারেন তাদের দুই কন্যা লামিয়া ও সামিহাকে পার্শ্ববর্তী পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এসময় স্থানীয়রা পুকুরে নেমে লামিয়া ও সামিহাকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু দুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শ্রীনগর থানার পুলিশ ঘটনার পর শিশু দুটির বাবা সোহাগ শেখ ও মা শান্তা বেগমকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শান্তা বেগম ঘটনার বিষয়ে স্বীকার করলে শান্তা বেগমকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সালমান রহমান আদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দির আবেদনসহ শান্তা বেগমকে আদালতে আনলে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: আশীকুর রহমান শান্তা বেগমের স্বিকারোক্তি মুলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোর্ট পরিদর্শক মো: কামরুল ইসলাম মিঞা জানান, যমজ শিশু হত্যার ঘটনার ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহণের আবেদনসহ আসামি শান্তা বেগমকে আদালতে আনা হলে আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার পর বিচারক আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Latest Posts

আলোচিত খবর