সন্তান লালন-পালনে বেশ কিছু বিষয় রয়েছে, যা অনেকেরই জানা থাকে না। এ লেখায় রয়েছে তেমন কিছু বিষয়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
১. সন্তানের সঙ্গে সংযুক্ত থাকুন
সন্তানের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং যথাসম্ভব সংযোগ স্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বলেন, সন্তানের সঙ্গে যত বেশি সংযোগ স্থাপন করা হবে ততই ভালো। এ জন্য সন্তানকে যথাসম্ভব সময় দিতে হবে। এক্ষেত্রে তার সঙ্গে যে ২৪ ঘণ্টাই সময় দিতে হবে, এমনটা নয়। তবে দিনের একটি বড় সময় তার সঙ্গেই কাটানো যেতে পারে।
২. কার্যকর ভূমিকা নিন
আপনার সন্তানকে প্রতিপালনে কার্যকর ভূমিকা নিন। এক্ষেত্রে দিনের অন্য কাজগুলোকে সংক্ষিপ্ত করে তার জন্য কিছুটা সময় বরাদ্দ করুন। এ সময় শুধু তাকে সময় দিন।
৩. হা-হুতাশ বাদ দিন
আপনার হয়ত হা-হুতাশ করা অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু শিশুর জন্য এ অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। এ জন্য প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে শান্ত হওয়ার শিক্ষা নেওয়া। এ জন্য মাথাটা ঠাণ্ডা করুন, রেগে গেলে মুখে পানির ঝাপ্টা দিন, প্রাণ খুলে হাসুন এবং শিশুর সঙ্গে নির্মল মনে সময় দিন।
৪. নিজের প্রতি খেয়াল রাখুন
সন্তানের সুস্থতার জন্য নিজের সুস্থতারও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অন্যথায় আপনার পাশাপাশি সন্তানও অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই বিষয় প্রযোজ্য মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও। নিজের মানসিকতা ঠাণ্ডা রাখুন। সন্তানের যে কোনো ভুল-ভ্রান্তি ঠাণ্ডা মাথায় মোকাবেলা করুন।
৫. ভুলকে সহজভাবে নিন
ভুলের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দিলে বা তার ওপর নির্ভর করে থাকলে এর ফলাফল কখনোই ভালো হয় না। শিশু বহু সময়েই ভুল করবে। এসব ভুলকে সহজভাবে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, ভুলের মাধ্যমেই সে সঠিক বিষয়টি শিখবে।
৬. মানসিক চাপ লক্ষ্য রাখুন
আপনার নিজের মানসিক চাপের ওপর নজর রাখুন। এটি যদি মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায় তাহলে আপনার ব্যবহার খিটখিটে হয়ে যেতে পারে। এতে শিশুর সঙ্গে স্বাভাবিক কথাবার্তা বলা বা সময় ব্যয় করতে সমস্যা হতে পারে।
৭. দয়ালু হোন
দয়া বড় একটি গুণ। শিশুর সঙ্গে আচরণে সব সময়েই দয়ালু আচরণ করতে হবে। কখনোই কঠোর আচরণ কিংবা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা যাবে না।
৮. গুরুত্ব বুঝে কাজ করুন
আপনার বাড়ির বারান্দায় সামান্য ধুলো পড়েছে, কয়েকটা ছোটখাট কাজ বাকি পড়েছে ইত্যাদি বিষয়ে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সবার আগে আপনার শিশুকে গুরুত্ব দিন। এরপর অন্য সব বিষয়ের কথা চিন্তা করুন।
৯. কেনাকাটায় সুখ
সামাজিক মনোবিদ্যার কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কেনাকাটায় মানুষের সুখের মাত্রা বাড়ে। এ কারণে মাঝে মাঝে কিছু কেনাকাটা করতে পারেন। এতে আপনার মন ভালো থাকবে, যার প্রভাব আপনার সন্তানের ওপরেও পড়বে।
১০. একে অন্যকে সময় দিন
নিয়মিত রুটিন করে পিতা-মাতার একে অন্যকে সময় দেওয়া উচিত। এতে শিশুর নানা বিষয়ে যেমন আলোচনা সারা যাবে তেমন অন্য পারিবারিক বিষয়গুলোও সহজ হবে। প্রতিদিন ১০ মিনিট হলেও শিশুর লালন পালনে কিছু বিষয় আলোচনা করে নিতে ভুলবেন না।

