সর্বশেষ খবর

ভালো ব্যবসা করতে পারেনি ব্যাংক

খেলাপি ঋণ কমাতে বছরজুড়েই ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। ঋণ পুনঃতফসিল, বড় ঋণ পুনর্গঠনসহ নানা সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হয়। আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়ায় ব্যাংকগুলোও চেয়েছে খেলাপি ঋণ কমিয়ে মুনাফা ধরে রাখতে। এতসব উদ্যোগের পরও ২০১৫ সালে খেলাপি ঋণ না কমে বেড়েছে। তবে আশার বিষয় হলো- বেসিক ব্যাংক, হলমার্ক, বিসমিল্লাহর মতো বড় কোনো অনিয়মের ঘটনা গেল বছরে ঘটেনি।

ব্যাংক খাতে অনিয়ম প্রতিরোধে তদারকি কৌশলে ব্যাপক পরিবর্তন আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জোর তদারক সত্ত্বেও মাঝারি মানের নানা অনিয়ম ছিল। বিশেষ করে বিদেশি ঋণে অনিয়ম হয়েছে বেশি। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ির ফলে ঋণ বিতরণে অতি সতর্কতা দেখিয়েছে অনেক ব্যাংক। এমনিতেই এখন ঋণ চাহিদা রয়েছে অনেক কম। এর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর অতি সতর্কতার কারণে ঋণ বিতরণ আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি হয়নি। বছরের শেষভাগে এসে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ কৃষি ও বিডিবিএলে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেশ আগ থেকে পর্যবেক্ষক রয়েছে বেসিক ব্যাংকে ও বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংকে।

২০১৪ সালে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বছরের উল্লেখযোগ্য সময় ব্যাংকগুলোর আশানুরূপ ব্যবসা হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন পক্ষের দাবির ফলে ঋণ পুনঃতফসিলে বিশেষ সুবিধা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিদায়ী বছরের শুরুর তিন মাস ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা। এ কারণে বিশেষ সুবিধার আওতায় বিদায়ী বছরও অনেক ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর আবার বড় ঋণ পুনর্গঠনে আলাদাভাবে সুযোগ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সুবিধা নিয়ে ১১টি গ্রুপ ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণে বিশেষ সুবিধা নিয়েছে। এরপরও খেলাপি ঋণ না কমে বেড়েছে। ২০১৪ সাল শেষে যেখানে খেলাপি ঋণ ছিল ৫০ হাজার কোটি টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৫৫ হাজার কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় ভালো রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নানা সুযোগ-সুবিধার পরও বিনিয়োগে ধীরগতি ও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণে প্রথম ৬ মাসে ব্যাংকের মুনাফা কমেছে। বছরের প্রথম ৬ মাসে ব্যাংকগুলোর পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৯ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১০ হাজার ৪৩ কোটি টাকা।

আশানুরূপ ঋণ বিতরণ করতে না পারায় ব্যাংকগুলোর কাছে বর্তমানে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার মতো উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। এর মধ্যে একেবারে অলস তথা কোনো ধরনের বিনিয়োগে নেই এমন রয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থের বিপরীতে ব্যাংকগুলো নিয়মিত সুদ দিলেও কোনো আয় তাদের আসছে না। এর বাইরে খেলাপি ও অবলোপন করা ঋণের বিপরীতে ব্যাংক কোনো আয় দেখাতে পারে না। ব্যাংকগুলোতে এমন ঋণ রয়েছে প্রায় ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এসব অর্থ যেহেতু কোনো না কোনো আমানতকারীর তাই এর বিপরীতেও ব্যাংক থেকে সুদ গুনতে হয় নিয়মিত।

গেল বছর একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণ বৃদ্ধি। এখন কম সুদে বিদেশি ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন অনেকেই। দেশীয় উৎসে সুদহার কমানোর পরও এখন শিল্প খাতের ঋণের জন্য ১২ থেকে ১৫ শতাংশ সুদে দিতে হয়। আর বিদেশ থেকে এ ধরনের ঋণ পাওয়া যায় ৬ শতাংশের কম সুদে। বর্তমানে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ রয়েছে ৬ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্যমান প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

আশানুরূপ ঋণ চাহিদা না থাকায় ব্যাংকগুলো বেশ কিছুদিন ধরে সুদহার কমিয়ে আনছে। একটি সময় যেখানে প্রতি বছরই আগের তুলনায় বাড়ছিল গত দু’ বছরে গড় সুদহার ২ শতাংশের বেশি কমে এখন ১১ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে। এর আগে স্বাভাবিকভাবে দেখা যেত গড় সুদহারের তুলনায় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে (কলমানি) সুদহার বেশি থাকে। তবে চাহিদা কমার পরিপ্রেক্ষিতে এখন সে ক্ষেত্রেও চলছে ভাটার টান। বর্তমানে কলমানিতে ৩ শতাংশের কাছাকাছি সুদে লেনদেন হচ্ছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Latest Posts

আলোচিত খবর