৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বশেষ খবর

অ্যামোনিয়া সংকটে বন্ধের পথে দেশের একমাত্র ডিএপি সার কারখানা

বর্তমানে যে পরিমাণ অ্যামোনিয়া মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। এরপর নতুন করে কাঁচামাল সরবরাহ না পাওয়া গেলে বন্ধ রাখতে হবে উৎপাদন। কারখানাটির উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) রবিউল আলম খান বণিক বার্তাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডিএপি সারের প্রধান কাঁচামাল অ্যামোনিয়া ও ফসফরিক অ্যাসিড। এ সার উৎপাদনে ডিএপিএফসিএলকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ করে মূলত চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)। আর ফসফরিক অ্যাসিডের চাহিদা মেটানো হয় মরক্কো, জর্ডান, চীন, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানি করে। তবে গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ থেকে সিইউএফএল ও কাফকোর কারখানা বন্ধ রয়েছে। ফলে অ্যামোনিয়া না পাওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ডিএপি সার উৎপাদনে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএপিএফসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক রবিউল আলম খান বলেন, ‘কাঁচামাল হিসেবে মাসে দুই হাজার টনের মতো অ্যামোনিয়ার চাহিদা রয়েছে। সিইউএফএল ও কাফকো থেকে তা আমরা পাই। বর্তমানে যে পরিমাণ অ্যামোনিয়া মজুদ আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। এর মধ্যে ওই দুটি (সিইউএফএল ও কাফকো) কারখানার কোনো একটি চালু না হলে আমাদেরও সার উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করতে হবে।’

গ্যাস সংকটে বন্ধ থাকা কাফকো ও চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা দুটি চালুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের পরিচালক (বাণিজ্যিক, উৎপাদন ও গবেষণা) মো. মনিরুজ্জামান গত ৩ এপ্রিল এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে জানিয়েছিলেন, গ্যাসের সংকট থাকায় নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানাটি ছাড়া বাকিগুলো চলতি মাসের পুরোটা সময়ই বন্ধ রাখতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে সারের চাহিদা গিয়ে দাঁড়াবে ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টনে। এর মধ্যে ডিএপির চাহিদা ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭০০ টন। দেশীয় কারখানা ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা রয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টন। চাহিদার বাকিটা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়ে থাকে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কারখানাটির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এক লাখ টন ডিএপি সার উৎপাদনের।

দেশে সারের চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ আসে সৌদি আরব থেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করেছে ইরান। ফলে চলতি ক্যালেন্ডার বছরে (জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর) সৌদি আরব থেকে চুক্তি অনুযায়ী ছয় লাখ টন ডিএপি সার আমদানি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সারের বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে সরকার। আবার হাতে থাকা সারের মজুদও কমে আসছে। যদিও কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, তাদের কাছে থাকা মজুদ দিয়ে জুন পর্যন্ত অনায়াসেই চলে যাওয়া সম্ভব। তবে জুলাই-আগস্টে আমন মৌসুম শুরু হলে তখন সারের চাহিদা বাড়লে সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ।

এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডটি চালু রেখে বহুজাতিক কাফকোসহ পাঁচটি ইউরিয়া কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন থেকে বারবার কারখানাগুলো চালু করতে গ্যাস সরবরাহ চেয়ে চিঠি দেয়া হয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে। তবে সরকার সবগুলো কারখানা চালু না করে রেশনিং পদ্ধতিতে ৩ এপ্রিল থেকে ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানাটি চালু করে শাহজালাল কারখানাটি বন্ধ করে দেয়। শাহজালালের তুলনায় দৈনিক দেড় হাজার টন বেশি উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ঘোড়াশাল-পলাশ কারখানাটির।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বৈশ্বিক সারের সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আমদানিনির্ভরতা বিপাকে ফেলতে পারে। সেজন্য যেকোনো উপায়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Latest Posts

আলোচিত খবর