সর্বশেষ খবর

জামাই আদরে হাসপাতালে এমপি পুত্র রনি

মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পিনু খান এমপির পুত্র বখতিয়ার আলম রনি জামাই-আদরেই আছেন হাসপাতালের কেবিনে ।

মনে চাইলেই কেবিনের সামনে বিনা বাধায় ঘুরে বেড়ান। হাসপাতালের খাবার তিনি খান না। তাঁর জন্য বাসা থেকে খাবার আসে। প্রায় সারা দিনই লোকজন আসে কেবিনে ।

কর্তব্যরত কারারক্ষী আবদুর রহমান জানালেন, ‘ওনার পাহারায় সার্বক্ষণিক দুজন কারারক্ষী থাকেন। তবে উনি ভদ্র মানুষ, তাই হাতকড়া পরানোর আর দরকার হয় না। আর কেবিনের ভেতরেও তাঁকে হাতকড়া পরানো হয় না।

কারা সূত্র জানায়, বখতিয়ার কারাগারে ডিভিশনভোগী আসামি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারাধ্যক্ষ মো. নেছার আলম বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, বখতিয়ার অর্থোপেডিক সমস্যায় ভুগছেন কারা কর্তৃপক্ষকে এ কথা বলার পর চিকিৎসকের পরামর্শে গত ৩১ জানুয়ারি তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানেই আছেন। কারাধ্যক্ষ এই কথা বললেও গত বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বখতিয়ার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধীন ১১০ নম্বর ভিআইপি কেবিনে চিকিৎসাধীন। তাঁর তত্ত্বাবধানকারী চিকিৎসক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস এম হাফিজ বলেন, বখতিয়ারের কিডনির সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া রাতে তাঁর ঘুম হয় না। এ কারণে তাঁকে সাইকোথেরাপি দেওয়া হচ্ছে। তাঁকে শিগগিরই ছেড়ে দেওয়া হবে।

হাসপাতাল ও কারা সূত্র জানায়, এর আগেও বখতিয়ার অসুস্থতার কথা বলে চার দফায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁর কোনো রোঁগ খুজে পাননি। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বখতিয়ারকে তিন দফায় মোট ১১ দিনের রিমান্ডে নিলে তিনি তিন দফায় অসুস্থতার কথা বলে বিএসএমএমইউর প্রিজন সেলে ভর্তি হয়েছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) দীপক কুমার দাস সে সময়ে আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে বলেছিলেন, তিন দফায় অসুস্থতার ভান করায় বখতিয়ারকে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা করানো হয়। কিন্তু সেখানের চিকিৎসকেরা তাঁর কোনো রোগ খুঁজে পাননি।

গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর বখতিয়ার বিএসএমএমইউর প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন থাকাকালে হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল মজিদ ভূঁইয়া তাঁর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিপত্র দেখে বলেছিলেন, বখতিয়ারের কোনো রোগ খুঁজে পাননি চিকিৎসকেরা। এরপরই বখতিয়ারকে প্রিজন সেল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ইস্কাটনে জোড়া খুনের মামলায় মহানগর দায়রা জজ আদালতে বখতিয়ারের বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। গত জানুয়ারিতে বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তাঁর আইনজীবী আবেদন করে দুই দফায় তারিখ পরিবর্তন করেন। অভিযোগ রয়েছে, আয়েশে থাকার জন্য বারবার অসুস্থতার কথা বলে বখতিয়ার হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। আর কালক্ষেপণ করতে বিচার কার্যক্রম বারবার পেছানো হয়েছে।

এই বখতিয়ার আলম নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গত বছরের ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে প্রাডো গাড়ি থেকে তাঁর পিস্তল দিয়ে চার-পাঁচটি গুলি ছোড়েন। এতে রিকশাচালক আবদুল হাকিম ও দৈনিক জনকণ্ঠর অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী আহত হন। হাকিম ১৫ এপ্রিল ও ইয়াকুব ২৩ এপ্রিল মারা যান। এ ঘটনায় হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম ১৫ এপ্রিল রাতে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। ডিবি পুলিশ সূত্রবিহীন এই মামলায় তথ্যপ্রযুক্তি ও দৈনিক জনকণ্ঠর ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) সহায়তায় সাংসদপুত্রের প্রাডো গাড়ি এবং তাঁর ছেলে বখতিয়ারের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Latest Posts

আলোচিত খবর