ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও, লক্ষ্মীপুর, রংপুর, সুনামগঞ্জ, শরীয়তপুর ও রাজশাহীতে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির আটটি মামলা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়।
লক্ষ্মীপুরে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার মানহানির একটি মামলা হয়েছে। কমলনগর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রাজু বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মুনির হোসাঈন মামলাটি গ্রহণ করে শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আমলী আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মুহম্মদ সাদেক কুরাইশী বাদী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য সম্বলিত সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। পরে বিজ্ঞ আদালত ফৌজদারী কার্যবিধির ১৯৬ ধারা মতে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঠাকুরগাঁও থানার অফিসার্স ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন।
শরীয়তপুরে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি ও প্রাক্তন ভিপি নুরুল আমিন কোতোয়াল, জাজিরা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ মাতবর ও প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা হাসিবুল ইসলাম মিঠু বাদী হয়ে এ তিনটি মামলা করেন। শরীয়তপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দুটি মামলায় সমন জারি করে বাকি একটিতে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
অপরদিকে রংপুরে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার অপর একটি মানহানির মামলা করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন মণ্ডল। সোমবার কোতোয়ালি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সদরুল আলমের আদলতে তিনি এ মামলাটি করেন। আদালত আগামী ৩ মার্চ আসামিকে সশরীরে হাজির হওয়ার আদেশ দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ আদালতে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার মানহানির একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবুল কাসেম।
রাজশাহীতে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে জেলা সিএমএম (ক) অঞ্চলের বিচারক মকসেদা আসগরের আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম বাদী হয়ে ১২৩(ক)/১২৪(ক)/৫০০/৫০১ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি টেলিভিশনে এক আলোচনায় মাহফুজ আনাম বলেন, ২০০৭-০৮ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেনা গোয়েন্দাদের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই না করেই তারা ছেপেছিলেন। তিনি বলেন, তার এই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল এবং এজন্য তিনি দুঃখিত। এই স্বীকারোক্তির পর থেকেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহল থেকে মাহফুজ আনামের শাস্তির দাবি করা হচ্ছে এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।
