ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে মোবাইলের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন কার্যক্রম উদ্বোধন করবে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (ডিএসই)। তবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ নিতে হলে বিনিয়োগকারীকে নির্দিষ্ট অঙ্কের মাসিক ভিত্তিতে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। সার্ভিস চার্জ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। ডিএসই’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতবছর কয়েকদফা মোবাইলের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেনের সুবিধা উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করলেও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে মোবাইলের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন করার সুবিধা পুরোপুরি চালু করা হবে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে নিজেই শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন। এ ছাড়া নিজের পোর্টফোলিওর অবস্থা জানতে এবং বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারদর পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এমনকি পছন্দের শেয়ার ক্রয়ের মনস্থির করলে যে দরে শেয়ারটি কিনতে চান তা নির্ধারণ করে দিলে নির্দিষ্ট ওই দরে শেয়ার দর উঠলে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ট বার্তা পাবেন তিনি। একইভাবে বিক্রির সময় দর নির্ধারণ করে দিলে শেয়ারটির বাজার মূল্য ওই মূল্যে পৌঁছাতেই বার্তা পেয়ে যাবেন বিনিয়োগকারী।
ডিএসইর কর্মকর্তারা জানান, লেনদেন চলাকালীন বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট শেয়ারের বেস্ট বাই অফার (বিড প্রাইস) ও বেস্ট সেল অফার (আস্ক প্রাইস) দেখতে পারবেন। অবশ্য ডিএসইর ডেস্কটপ ভিত্তিক ওয়েবসাইটে সর্বোচ্চ ১০টি করে বিড প্রাইস ও আস্ক প্রাইস প্রদর্শন করা হয়। তবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ নিতে হলে বিনিয়োগকারীকে নির্দিষ্ট অঙ্কের মাসিক ভিত্তিতে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। আর নিজ নিজ ব্রোকারেজ হাউস থেকে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া যারা একাধিক বিও হিসাব পরিচালনা করেন, তাদের প্রতিটি বিও হিসাবের জন্য পৃথক ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ডিএসই গত জানুয়ারিতে বিশ্বখ্যাত নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জের সহযোগী আইপি কোম্পানি নাসডাক ওএমএক্স এবং অপর এক বিশ্বখ্যাত কোম্পানি ফ্লেক্সট্রেড থেকে শেয়ার কেনাবেচার আধুনিক ট্রেডিং প্লাটফর্ম কিনেছে। ইন্টারনেটভিত্তিক এ ট্রেডিং প্লাটফর্মে ডেস্কটপ ছাড়াও মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমেও শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ রয়েছে। ডিএসই সে সুবিধাটিই নিতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, সিএসইর মোবাইল ট্রেড অ্যাপের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচার অর্ডার প্লেস করা ছাড়াও নিজস্ব পোর্টফোলিও দেখা যায়। বিও হিসাবে কত টাকা জমা আছে তাও জানা যাচ্ছে। এ ছাড়া মার্কেটের শেয়ার লেনদেন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি পাতায় সবগুলো শেয়ারের সর্বশেষ বাজার দর, বেস্ট আস্ক এবং বেস্ট বিড প্রাইস দেখা যায়। আবার পৃথকভাবে নির্দিষ্ট শেয়ারের ১০টি বেস্ট আস্ক ও বিড প্রাইস দেখার সুযোগ রয়েছে। এতে ওই শেয়ারের দিনের সর্বশেষ বাজারদর, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দর প্রদর্শিত হয়। এমনকি সপ্তাহের ও বছরেরও সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দর জানা যায়। এ কথায় ডেস্কটপ কম্পিউটারে প্রদর্শিত সব তথ্য এ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে জানা যায়।

