বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বিকে নির্যাতনের ঘটনায় এসআই মাসুদ শিকদারের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করতে মোহম্মদপুর থানার ওসি অথবা ঢাকার চিফ মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদেশে বলা হয়, গোলাম রাব্বিকে নির্যাতনের ঘটনায় থানা বা আদালতে মামলা করার স্বাধীনতা তার রয়েছে। যদি রাব্বি মামলা করতে চান তাহলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি অথবা ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রিটকে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
আদালতে রাব্বির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিমকোর্টের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালত মামলা গ্রহণ করতে হাইকোর্টের আদেশে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেন। শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।
আজ রাষ্ট্রপক্ষের সেই আবেদনের শুনানি শেষে রাব্বি নতুন করে মামলা করলে তা গ্রহণের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।
গত ১৮ জানুয়ারি এসআই মাসুদ শিকদারের বিরুদ্ধে রাব্বির অভিযোগ এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে মোহাম্মদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
১৭ জানুয়ারি রাব্বিকে নির্যাতনের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। আইনজীবী এহসানুর রহমান, জুলফিকার আলী জুনু ও রাব্বির বন্ধু সাংবাদিক জাহিদ হাসান এ আবেদন করেন।
রিট আবেদনে গোলাম রাব্বিকে নির্যাতন কেনো অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রাব্বির অভিযোগ এজাহার হিসেবে নেওয়া এবং এসআই মাসুদ শিকদারকে কেনো গ্রেফতার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়।
গত ৯ জানুয়ারি রাতে আসাদগেট এলাকায় রাব্বিকে পুলিশ নির্যাতন করে। এরপর পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে তাকে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন রাব্বি থানায় একটি অভিযোগ দিলে এসআই মাসুদকে প্রত্যাহার করে নিয়ে অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন ওই এলাকার সহকারী কমিশনার হাফিজ আল ফারুক। তদন্তে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় মাসুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ নিয়ে পুলিশ সদরদফতরে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়।
