২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বশেষ খবর

এক বছরে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অভিবাসন ঋণ বিতরণ বেড়েছে দ্বিগুণ

এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের (পিকেবি) অভিবাসন ঋণ বিতরণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্যাংকটি ২০১৫ সালে ছয় হাজার ৩২৭ জন বিদেশগামী কর্মীকে সাড়ে ৫৮ কোটি টাকার অভিবাসন ঋণ দিয়েছে। যা এর আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

২০১৪ সালে পিকেবি তিন হাজার ৯৬৪ জনকে ২৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করে।

পিকেবি সূত্র জানায়, এসব শ্রমিক ঋণ নিয়ে মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, বাহরাইন, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালী, মরিশাসসহ বিভিন্ন দেশে গেছেন।

এর পাশাপাশি এ সময়ে দেশে ফেরত আসা ১৮ জন শ্রমিককে ব্যাংক ৫০ লাখ টাকার পুর্নবাসন ঋণ দিয়েছে।

পিকেবির অভিবাসন ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোশাররাফ হোসেন চৌধুরী বাসসকে বলেন, ‘একেবারে বিশেষায়িত কার্যক্রম নিয়ে শুরু হওয়া এই ব্যাংকটি জনশক্তি রফতানি সম্প্রসারণে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে আমরা ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর প্রতি বিশেষ নজর দিয়েছি।’

তিনি জানান, বিভাগীয় শহরছাড়াও বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব জেলা শহরমিলে পিকেবির মোট ৪৯টি শাখা রয়েছে। এর প্রত্যেকটি শাখাকে বার্ষিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। ঋণ বিতরণ বাড়ার পেছনে এটি বড় কারণ বলে তিনি মনে করেন।

মোশাররাফ হোসেন বলেন, যেসব বিদেশগামী শ্রমিক ঋণের আবেদন করে,তাদের প্রত্যেককে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। তহবিল সম্প্রসারণ হলে আগামীতে আরো বেশিসংখ্যক শ্রমিককে ঋণ দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, বিদেশগামী কর্মীরা প্রতিদিন ঋণের আশায় ব্যাংকে আসছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেখে এ সব কর্মীকে স্বল্প সুদে এক সপ্তাহের মধ্যে জামানতবিহীন ঋণ প্রদান করা হয়।

এদিকে, গেল বছরে ঋণ বিতরণের পাশাপাশি আদায়ের পরিস্থিতিও বেশ ভাল। এ সময়ে ঋণ আদায়ের হার ছিল ৮০ শতাংশ। আলোচ্য বছরে মোট ৩২ কোটি টাকার ঋণ আদায় হয়েছে।

বিদেশ গমনেচ্ছু শ্রমিকদের আগে ৮৪ হাজার টাকা করে ঋণ প্রদান করা হলেও গতবছর থেকে এর পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এখন একজন বিদেশগামী কর্মীকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হচ্ছে।

বিদেশ গমনেচ্ছুদের জামানতবিহীন ঋণ এবং প্রত্যাবর্তনকারী বাংলাদেশীদের পুনর্বাসন ঋণ সহায়তা দেওয়ায় লক্ষ্যে ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক যাত্রা শুরু করলেও ব্যাংকিং শুরু করতে বেশ সময় লেগে যায়। সে বছরের ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকটি পুরোদমে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। মাত্র ৯ শতাংশ সুদহারে বিদেশ গমনেচ্ছু শ্রমিকরা পিকেবি থেকে ঋণ পাচ্ছেন।

মোশাররাফ হোসেন বলেন,অধিকসংখ্যক শ্রমিককে ঋণ সহায়তা দিতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে তহবিল সংগ্রহে শ্রমিক আমদানিকারক বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যাংকের কার্যক্রম সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একশ’ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিশেষায়িত এই ব্যাংকটি অচিরেই বৃহৎ পরিসরে অভিবাসীদের দোরগোড়ায় কল্যাণমুখী ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Latest Posts

আলোচিত খবর