প্রথাগত টি-৮ ও টি-৫ টিউব লাইটের পরিবর্তে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি বাতির ব্যবহার জ্বালানি খরচ কমানোর পাশাপাশি ব্যবসায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
‘প্রোমোশন অব এনার্জি এফিশিয়েন্ট এলইডি লাইটিং ইন গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের প্রাপ্ত ফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার বিকেলে গুলশানের লেক শোর হোটেলে প্রকল্পের ফল উপস্থাপনের লক্ষ্যে এই কর্মশালা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জার্মান সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড ও বাংলাদেশ সরকারের সাসটেইন্যাবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (স্রেডা) যৌথভাবে ‘ওয়ার্কশপ অন প্রোমোশন অব এনার্জি এফিশিয়েন্ট এলইডি লাইটিং ইন গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি ইন এনার্জি সার্ভিস কোম্পানি (এসকো) মডেল’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত স্রেডার চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বিজিএমইএ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, জিআইজেডের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডেভিড হ্যানকক, পূর্বাণী গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বুয়েটের সেন্টার ফর এনার্জি স্টাডিজের পরিচালক ও তড়িৎকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এ সময় তিনি বলেন, এলইডির মান নির্ধারণ এবং এলইডি বাতি স্থাপনের পর তার যথোপযুক্ত দেখভালের জন্য এসকোকে সম্পৃক্ত করা এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
পোশাক শিল্পের সুক্ষ্ম কাজের জন্য প্র্রয়োজনীয় আলোর মাত্রা ঠিক রেখেও এলইডি বাতির ব্যবহার কতটা জ্বালানি সাশ্রয়ী হতে পারে তা উক্ত প্রকল্পে দেখানো হয়। প্র্রকল্পের অংশীদার পূর্বানী গ্রুপের মালাকানাধীন করিম টেক্সটাইলে পর্যাপ্ত আলোর চাহিদা মূল্যায়নের লক্ষ্যে একটি গবেষণা চালায় প্র্কল্পের কারিগরি সহযোগী বাংলাদেশ প্র্কৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
বিদ্যমান টি-৫ ও টি-৮ টিউব লাইটগুলোকে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও সঠিক মানের এলইডি বাতি দিয়ে প্রতিস্থাপিত করার বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে বুয়েট। এনার্জি সার্ভিস কোম্পানির (এসকো) ভুমিকার বিষয়েও কর্মশালায় আলোকপাত করা হয়। এনার্জি সার্ভিস কোম্পানি (এসকো) হিসেবে কাজটি করে এনার্জি+ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স প্রাইভেট লিমিটেড।
ছয় মাসের তুলনামূলক চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় এলইডি বাতিগুলো ব্যবহারে টি-৮ টিউব লাইটের তুলনায় ৫৭ শতাংশ ও টি-৫ টিউব লাইটের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম জ্বালানি খরচ হয়েছে। এলইডি বাতি স্থাপনে খরচ একটু বেশি হলেও এক বছরের মধ্যেই তা উঠে আসে।
গবেষণায় আরও দেখা যায় যে, শিল্প প্রতিষ্ঠানটিতে বিদ্যমান লাইটের পরিবর্তে এলইডি বাতি ব্যবহার করলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের পরিমাণ বছরে ২৫০ টনেরও বেশি কমে যাবে।
