২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বশেষ খবর

ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করতে ৮ টাস্কফোর্স

এবার বাণিজ্য মেলায় দৈনিক ভিত্তিতে ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে। কয়েক বছর মেলার শেষ দিনেও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) আদায় করা হয়েছিল। প্রতিটি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্য মেলা চলার সময়ের জন্য আলাদা ভ্যাট নম্বর দেওয়া হয়েছে।

সঠিকভাবে রাজস্ব আদায় হচ্ছে কি না দেখার জন্য ঢাকা পশ্চিমের কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেটের ভ্যাট শাখার কর্মকর্তাদের নিয়ে আটটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে থেকে ভ্যাট আদায় করছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দাবি করছেন, এবার বাণিজ্য মেলা থেকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ভ্যাট আদায় হবে।

অন্যান্যবার শেষ দিনে মেলা প্রাঙ্গণে সাময়িকভাবে স্থাপিত ব্যাংক কাউন্টারের মাধ্যমে একবারে ভ্যাট আদায় করা হয়েছে। এবার এনবিআর দৈনিক ভিত্তিতে আদায় করছে। বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মেলার জন্য দেওয়া ভ্যাট নম্বরে ভ্যাট জমা দিচ্ছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, মেলার প্রথম দিন বিভিন্ন স্টল থেকে ভ্যাট আদায় হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা। দ্বিতীয় দিন ৩৩ হাজার টাকা, চতুর্থ দিনে এক লাখ ১২ টাকা আদায় হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা পশ্চিমের কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার রাকিবুল হাসান বলেন, ‘মেলার প্রথম দিকে বিক্রি কম হয়েছে। প্রথম সপ্তাহ পার হওয়ার পর ভ্যাট আদায় বাড়ছে। আশা করছি, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার বেশি ভ্যাট আদায় করতে পারব।’

এবার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্যে বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েছে। আগের দুই বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তাই ভ্যাট আদায় আশানুরূপ হয়নি।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, ‘বাণিজ্য মেলা একটি বড় আয়োজন। বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এখানে অংশ নিতে আসে। মানুষের আনাগোনাও এখানে বেশি। আশা করব, মেলায় অংশ নেওয়া সব প্রতিষ্ঠান রাজস্ব পরিশোধের ক্ষেত্রে সততার পরিচয় দেবে।’ তিনি জানান, রাজস্ব ফাঁকি ধরার জন্য এনবিআর কর্মকর্তারা কাজ করছেন। আশা রয়েছে, এবারের মেলা থেকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ভ্যাট আদায় হবে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, গত দুই বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারীরা ভালো ব্যবসা করতে পারেনি। এবার রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দেন বলেই এনবিআরের ভ্যাট আদায় বাড়ছে। ভালো বেচাকেনা হলে ভ্যাটের পরিমাণও বেশি হবে। ভ্যাট আদায়ে যেন হয়রানি না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।

ঢাকা পশ্চিমের কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার মো. মতিউর রহমান বলেন, এনবিআর কর্মকর্তারা বন্ধুসুলভ আচরণ করে বাণিজ্য মেলা থেকে ভ্যাট আদায় করছেন।

ওই কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার রাকিবুল হাসান বলেন, ‘আমি নিজে ব্যাণিজ্য মেলায় উপস্থিত হয়ে ভ্যাট আদায় করছি। কোনো প্রতিষ্ঠান যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে নজর দেওয়া হচ্ছে। ফাঁকিবাজ প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। মেলা শেষে তাদের জবাবদিহি করতে বলা হবে।’

এবার বাণিজ্য মেলায় ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) মেশিন ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান এটা ব্যবহার না করলে তার বিরুদ্ধে এনবিআর কঠোর হবে না। তবে ওই প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই ভ্যাট পরিশোধের রসিদ সংগ্রহ করতে হবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Latest Posts

আলোচিত খবর