পঞ্চগড় জেলায় বিলুপ্ত ছিটমহলের যেসব নাগরিক ভারতে চলে গেছেন, তাদের সাড়ে আট একর জমির হস্তান্তর দলিলের উপর প্রযোজ্য কর (স্ট্যাম্প ডিউটি) মওকুফ করা হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব পারভীন বানুর সই করা প্রজ্ঞাপনে ওই কর মওকুফ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি সূত্র এ তথ্য জানায়।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের স্ট্যাম্প প্রশাসন অধিশাখার ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পঞ্চগড় জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার আধুনায় বিলুপ্ত ছিটমহলের ভারতে চলে গেছেন এমন ছয়টি পরিবারের আট দশমিক ৫০২৫ একর অবিক্রিত জমি সরকারের পক্ষে ক্রয়সূত্রে গ্রহণ করবে জেলা প্রশাসক। আর ওই জমির হস্তান্তর দলিলের উপর সব স্ট্যাম্প কর মওকুফ করা হয়েছে।
স্ট্যাম্প আইন ১৮৯৯’র সেকশন ৯(এ) তে দেওয়া ক্ষমতাবলে ওই আদেশ দেওয়া হয়েছে। যা ৩০ ডিসেম্বর থেকে কার্য্কর করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর জারি করা অপর এক প্রজ্ঞাপনে স্থায়ীভাবে ভারতে যাওয়া ছিটমহলবাসীর ভ্রমণ কর মওকুফ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একশ ৬২টি ছিটমহল বিনিময় হয়। যেখানে বাংলাদেশ পেয়েছে লালমনিরহাটের ৫৯টি, পঞ্চগড়ের ৩৬টি, কুড়িগ্রামের ১২টি, নীলফামারীর চারটিসহ মোট একশ ১১১টি ছিটমহল।
১৭ হাজার একশ ৬০ দশমিক ৬৩ একর ভূখণ্ডে থাকা মানুষের মোট সংখ্যা ৪১ হাজার চারশ ৪৯জন। পাঁচ দফায় বাংলাদেশ থেকে মোট নয়শ ১৭জন ভারতে স্থায়ীভাগে চলে যান। এর মধ্যে পঞ্চগড়ের চারশ ৭৮জন, কুড়িগ্রামের দুইশ ৪৫জন ও লালমনিরহাটের একশ ৯৪জন ভারতে গেছেন। যদিও সে দেশে যাওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন নয়শ ৭৯জন। তবে ভারতের অভ্যন্তরে বিলুপ্ত ছিটমহল থেকে একজনও বাংলাদেশে আসেননি।
সর্বশেষ ১ ডিসেম্বর নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি-হলদিবাড়ী সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে তিনটি বিলুপ্ত ছিটমহলের ১০টি পরিবারের ২৬জন সদস্য ভারত যায়।
অন্যদিকে ভারতের অধিকারে চলে যাওয়া ৫১টি ছিটমহলের মোট আয়তন হচ্ছে সাত হাজার সাতশ ১০ দশমিক ০২ একর। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার জেলায় এসব ছিটমহল অবস্থিত। সেখানকার বাসিন্দার সংখ্যা ১৪ হাজার দুইশ ১৫ জন। তাদের কেউই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণে রাজি হননি। ফলে তারা এখন ভারতের নাগরিক।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি সই হয় ১৯৭৪ সালে যা মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নামে পরিচিত। ওই সময়ে বাংলাদেশ চুক্তিটি অনুসমর্থন করলেও ভারত তখন তা করেনি। তারপর ২০১১ সালে সীমান্ত চুক্তির সঙ্গে সই হয় প্রটোকল।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রটোকলসহ সীমান্ত চুক্তি কার্যকর করতে ভারতের সংবিধান সংশোধন জরুরি হয়ে পড়ে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশটির পার্লামেন্টে সর্বসম্মতভাবে সংবিধান সংশোধনে সমর্থ হন। এরপরই প্রটোকলসহ সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হয়। অবশেষে চলতি বছরের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ৬৮ বছরের জটিলতার অবসান ঘটিয়ে সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন হয়।
