১. চর্চা
সন্তানকে কিভাবে লালন করতে চান, তা নিজেদেরই চিন্তা করতে হবে। পরিকল্পনার যেগুলো কাজ করবে তার চর্চা করুন। আর যা কাজে দিচ্ছে না বাদ দিন। এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া। নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বর্জন অব্যাহত রাখতে হয়।
২. সাফল্য নাও আসতে পারে
আর এমনও হতে পারে, নিজেদের মাঝে বিশেষ কিছু পরিবর্তনের প্রয়োগে সন্তানের মাঝে কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। বিষয়টা নির্ভর করে সন্তানের স্বভাব-চরিত্রের ওপর। সন্তান বেড়ে ওঠার সঙ্গে তার ওপর অন্যান্য মানুষ, পরিবেশ ও পরিস্থিতির প্রভাব বিদ্যমান থাকে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, সন্তান কেমন হবে তার পেছনে জেনেটিক কারণও দায়ী।
৩. নির্দিষ্ট নিয়ম নেই
মূলত সন্তান পালনে মা-বাবার এমন কোনো পদ্ধতি নেই যাকে সেরা বা সঠিক বলে ঘোষণা করা যায়। প্রতিটি পরিবার, বাবা-মা এবং সন্তানের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এ কারণে সর্বোত্কৃষ্ট অভিভাবকত্বের বৈশিষ্ট্য নির্ণয় প্রায় অসম্ভব বিষয়।
৪. নিজস্ব স্টাইল
তবে বিশেষ কিছু ধারা সৃষ্টি হয়েছে। সন্তানকে কল্পনাপ্রবণ করবেন নাকি বাস্তববাদী করবেন এর জন্য ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্ব্বন করতে হবে। এভাবে একাধিক ধারার মিশ্রণে নিজস্ব স্টাইল গড়ে তুলতে পারেন মা-বাবারা।
৫. বিবাদ নয়
মা-বাবার বিবাদ-দ্বন্দ্ব সন্তানের জন্য সব সময় ক্ষতিকর। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সন্তানের মনে যে বিরূপ প্রভাব পড়ে তা দূর করতে সময় ও ধৈর্যের প্রয়োজন। আবার মা-বাবার সম্পর্কের তিক্ততা দূর হলে সমাধানের পথ মিলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের চোখে আদর্শ মানের অভিভাবকত্বের বৈশিষ্ট্য অনেকটা এমন—শর্তহীনভাবে সন্তানকে ভালোবাসুন। যে সন্তানটি আপনার রয়েছে তাকেই মনের মতো গড়ে তুলুন। তাদের এমন কিছু করে দেবেন না যা সে নিজেই করতে পারে। সন্তানের চোখে নিখুঁত মা-বাবা হয়ে ওঠার চেষ্টা করবেন না। অতীতের ভুল, ব্যর্থতা, ভয় ইত্যাদি তার সঙ্গে শেয়ার করুন।
৬. আদর্শ মা-বাবা
বেশ কিছু আদর্শ মানের অভিভাবকত্বের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা নিন।
কর্তৃত্বসম্পন্ন অভিভাবকত্ব : এটা আদর্শ মানের পদ্ধতি। এখানে মা-বাবা ক্ষমাশীল, বোদ্ধা এবং মনের আবেগ সন্তানের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন। নিজেদের অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে সন্তানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বিশ্বাসী নন তাঁরা।
সহনশীল অভিভাবকত্ব : সীমাবদ্ধতা থাকলেও এটা বেশ ভালো পদ্ধতি। এ ধরনের মা-বাবারা সন্তানের পরিচর্যা করেন, তাদের চাহিদা ও ইচ্ছার প্রতি ইতিবাচক থাকেন।
স্বৈরাচারী অভিভাবকত্ব : এটা কঠোর পদ্ধতি। তাই কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন প্রয়োজন। তাঁরা অটল নীতিমালায় সন্তানের জীবন বেঁধে দেন। তাঁদের নিয়মের প্রয়োগ শেষ পর্যন্ত শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এঁরা সন্তানের কাছে এত বেশি আশা করেন, যা বাস্তবতা বিবর্জিত।
উদাসীন অভিভাবকত্ব : সন্তান লালনে এ বৈশিষ্ট্যের মা-বাবা নিজের দায়িত্ব পালনে উদাসীন থাকেন। সন্তানের সঙ্গে তাঁদের আন্তরিক যোগাযোগ নেই বললেই চলে। তাঁরা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। পারিবারিক বন্ধন থেকে সন্তান ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়। তাই এ ধরণের মা-বাবার খুব দ্রুত নিজেদের বদলে ফেলা উচিত বলে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

