মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ক্রেতাদের চাহিদা ও রুচির ভিন্নতা অনুযায়ী ৪ শতাধিক মডেলের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছে ওয়ালটন।
মেলা ও নতুন বছর উপলক্ষ্যে ওয়ালটন ব্র্যান্ড বাজারে ছেড়েছে অর্ধশতাধিক নতুন মডেলের পণ্য। পাশাপাশি দাম কমানো হয়েছে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, সিআরটি ও এলইডি টেলিভিশনসহ অনেক পণ্যের। মূলত, মেলায় আগতদের মন জয় করতেই ওয়ালটনের এতো সব চমক।
জানা গেছে, মেলার মাধ্যমে বছরের শুরুতে ক্রেতাদের হাতে নতুন পণ্য তুলে দিতে ওয়ালটন বাজারে নিয়ে এসেছে ইনভার্টার প্রযুক্তির বেশ কয়েকটি নো-ফ্রস্ট রেফ্রিজারেটর, ডোনাট মেকার, স্যান্ডউইচ মেকার, কেক মেকার, ট্রাভেল ব্লেন্ডার, এলইডি বাল্ব, স্যুইচ, সকেট, সিলড লিড রিচার্জেবল ব্যাটারি, হোল্ডার, ফ্যান রেগুলেটরসহ অনেক ধরনের ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ৫২৬ লিটারের ৩ দরজা বিশিষ্ট নো ফ্রস্ট ফ্রিজ।
এবার মেলায় ওয়ালটনের রয়েছে দৃষ্টিনন্দন দুটি সেলস ও ডিসপ্লে সেন্টার। একটি প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন নম্বর ২৩ ও অন্যটি স্টল (নম্বর ৩১এ ও ৩১বি)। যেখানে প্রদর্শন করা হচ্ছে ওয়ালটনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি উচ্চ গুণগতমানের ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস।
মেলার মূল প্রবেশদ্বারের সোজাসুজি ফোয়ারার পশ্চিম পাশে এবং বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের দক্ষিণ পাশেই স্থাপন করা হয়েছে ৩ তলা বিশিষ্ট ওয়ালটনের দৃষ্টিনন্দন প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন। এখানে নিচতলায় রয়েছে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, সিআরটি ও এলইডি টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্য। আরো আছে এলইডি বাল্ব, স্যুইচ, সকেট, সিলড লিড এসিড রিচার্জেবল ব্যাটারি, জেনারেটরসহ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সেস। দ্বিতীয় তলায় প্রদর্শনী ও বিক্রির জন্য রয়েছে ডিপ ফ্রিজ এবং ওয়ালটন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনসেট। দর্শক-ক্রেতা এবং পণ্য উঠানামা সহজ করতে প্যাভিলিয়নে সংযুক্ত করা হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লিফ্ট। অন্যদিকে ওয়ালটনের স্টলে (স্টল নম্বর ৩১ এ, ৩১ বি) প্রদর্শণ করা হচ্ছে ইলেকট্রনিক্স হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস।
ওয়ালটনের সূত্রমতে, মেলায় প্রদর্শিত ৪ শতাধিক মডেলের উচ্চমান সম্পন্ন ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৪৪টি মডেলের ফ্রিজ, ৩২টি মডেলের সিআরটি এবং ২৫টি মডেলের এলইডি টেলিভিশন, ৭টি মডেলের এয়ার কন্ডিশনার, ১৮টি মডেলের জেনারেটর, ১১টি মডেলের রাইস কুকার, ৬টি মডেলের আইপিএস, ২৬টি মডেলের এলইডি বাল্ব, ৯টি মডেলের ইলেকট্রিক স্যুইচ, ৮টি মডেলের ইলেকট্রিক কেটলি, ১১টি মডেলের ব্লেন্ডার, ১৩টি মডেলের কিচেন কুকওয়্যার, ৫টি মডেলের ইন্ডাকশন কুকার, ওয়াটার পিউরিফায়ার, গ্যাস স্টোভ, এয়ার কুলার, অটো ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার, রিচার্জেবল পোর্টেবল ল্যাম্প, ৪টি করে মডেলের ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, সুইং মেশিং, সিলড লিড এসিড রিচার্জেবল ব্যাটারি, ভ্যাকুয়াম ফ্লাস্ক, ৩টি করে মডেলের কেক মেকার ও মাল্টি কারি মেকার, ২টি করে মডেলের ওয়াটার ডিসপেন্সার, রুম হিটার, ইলেকট্রিক ওভেন, জুসার, মাল্টি কুকার, ক্লথ ড্রায়ার, রিচার্জেবল ফ্যান, ওয়েট মেশিন, টোস্টার ও স্যান্ডউইচ মেকার।
এছাড়া রয়েছে অটোমেটিক ভোল্টেজ প্রোটেক্টর, মপ সেট, ফ্যান রেগুলেটর, হোল্ডার, জাংশন বক্স, প্রাইস কম্পিউটিং ওয়েট স্কেল, এয়ার ফ্রায়ার, ফুড প্রসেসর, রুটি মেকার, স্ট্যান্ড মিক্সার, ভেজিটেবল মেকার, প্রেসার কুকার ইত্যাদি পণ্য।
ওয়ালটন প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়নের ম্যানেজার মোহাম্মদ আকরামুজ্জামান অপু বলেন, ‘এবার মেলায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি আকর্ষণীয় ডিজাইন ও মডেলের সর্বোচ্চ সংখ্যক ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য প্রদর্শন করছে ওয়ালটন। মেলায় আসা ক্রেতারা যাতে এক জায়গাতেই দরকারি সব ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য পান সেজন্যই সর্বোচ্চ সংখ্যক পণ্য নিয়ে এসেছে ওয়ালটন।’ তিনি জানান, শিগগিরই বাজারে আসবে এমন অনেক মডেলের বাহারি ও আকর্ষণীয় রংয়ের ফ্রিজ প্রদর্শন করা হচ্ছে।
ওয়ালটন প্যাভিলিয়নের কর্মকর্তারা জানান, মেলার শুরুতেই ক্রেতা-দর্শণার্থীদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে তাদের প্যাভিলিয়ন। ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে এনার্জি সেভিং ও পরিবেশ বান্ধব উচ্চপ্রযুক্তির এলইডি বাল্ব ও সিলড লিড এসিড রিচার্জেবল ব্যাটারি। হট কেকে পরিণত হয়েছে ওয়ালটনের নতুন ডোনাট মেকার, স্যান্ডউইচ মেকার, কেক মেকার ও ট্র্যাভেল ব্লেন্ডার পণ্যসামগ্রী।
ওয়ালটনের বিপণন বিভাগের ফার্স্ট সিনিয়র অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘মেলায় আগত বিদেশী ক্রেতাদেরকে ওয়ালটন পণ্যের গুণগত মান সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যে আমরা রপ্তানির জন্য প্রস্তুতকৃত বেশকিছু আপকামিং মডেলের ফ্রিজ ও টেলিভিশন প্রদর্শন করছি।’ মেলা এবং নতুন বছরে ক্রেতাদের বাড়তি কিছু উপহার দিতে রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার, সিআরটি ও এলইডি টেলিভিশনসহ অনেক পণ্যের দাম কমানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
