ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরুর তৃতীয় দিনে দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখরিত হলেও বেচাকেনা এখনো জমে উঠেনি। এছাড়া অনেক স্টলে মালামাল গোছানোর কাজ এখনো শেষ হয়নি।
রোববার মেলা প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা গেছে, দর্শনার্থীরা বিভিন্ন পণ্য যাচাই বাছাই করছেন। ঘোরাফেরা করে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে।
সকালে দর্শনার্থীদের সংখ্যা কম থাকলেও দুপুরের পর মেলায় ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে দর্শনার্থীদের পদচারণায়। তবে মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় থাকলেও স্টলগুলোতে বেচাকেনা তেমন নেই।
মেলায় অংশ নেওয়া দোকানিরা বলছেন, মেলার প্রথম দিন থেকেই দর্শনার্থীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে দর্শনার্থীরা পণ্য কেনার চেয়ে এর গুণগত মান ও দরদাম যাচাই করছেন বেশি। অবশ্য কিছু কিছু মানুষ পণ্য কিনছেন।
ড্রেস লাইন বিডি স্টলের ইনচার্জ শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘মেলা শুরু থেকেই প্রচুর ক্রেতা প্যাভিলিয়নে আসছেন। তারা আমাদের পণ্যগুলো দেখছেন। অনেকেই কিনছেনও। মাসের শুরুতে ক্রেতাদের হাত অনেকটা ফাঁকা, টাকা-পয়সা নেই। তাই ক্রেতারা পণ্যগুলো দেখছেন এবং গুণগত মান যাচাই করছেন। তারা বলছেন, মেলায় আবার আসবেন এবং পণ্য কিনবেন। আর কয়েক দিন পর মেলায় পুরোদমে বেচাকেনা জমে উঠবে।’
বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পণ্যে নানারকম ছাড় ও অফার দিচ্ছে।
মেলায় আরএফএল প্যাভিলিয়নে কথা হয় মোহাম্মদপুর এলাকার খাদিজা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঘোরার উদ্দেশে মেলায় আসা। আজ বিভিন্ন স্টল ঘুরে পণ্যগুলো দেখা হচ্ছে। তেমন কিছু কেনাকাটা করা হয়নি। সামান্য কিছু প্লাস্টিকের গৃহস্থলি পণ্য কেনা হয়েছে। মেলায় প্রতিবারই তিন-চার বার আসা হয়। অন্য কোনোদিন পণ্য কিনতে আবার মেলায় আসব।’
মিতফার কালেকশন স্টলের ইনচার্জ মিঠু মিয়া বলেন, ‘মেলা উপলক্ষে আমাদের পণ্যে বিশেষ ছাড় রয়েছে। আমাদের স্টলে গ্রাহকরা বেশ ভালো আসছেন, তারা পণ্য দেখছেন, অনেকে কিছু কিনছেন। তবে কেনাবেচা এখনো জমে উঠেনি।
প্রসঙ্গত, শের-ই-বাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে শুরু হয়েছে এই মেলা। চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। মেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশ মূল্য বা টিকিট মূল্য ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা।
এ বছর বাণিজ্য মেলায় ১৩ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৫৩টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ৬০টি, জেনারেল প্যাভিলিয়ন ১০টি, রিজার্ভ প্যাভিলিয়ন ৩টি ও ফরেন প্যাভিলিয়ন ৩৮টি। এ ছাড়া থাকছে প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন ৩৬টি, জেনারেল মিনি প্যাভিলিয়ন ১৩টি, রিজার্ভ মিনি প্যাভিলিয়ন ৬টি, ফুডস্টল ২৫টি ও রেস্টুরেন্ট ৫টি।
এবারের মেলায় বিশ্বের ২২টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে মরিশাস, ঘানা, নেপালসহ সাতটি নতুন দেশ অংশ নিচ্ছে। এ ছাড়া বিগত বছরে অংশগ্রহণ করা দেশগুলোর মধ্যে থাকছে ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, নেপাল, হংকং, জাপান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
মেলায় প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিক্স অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য, পাটজাত পণ্য, লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ঘড়ি, জুয়েলারি, সিরামিক, দেশি-বিদেশি বস্ত্র, ক্যাবল, মেলামাইন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, আসবাবপত্র ও হস্তশিল্প অন্যতম।
