২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সর্বশেষ খবর

অর্থনীতিতে মিশ্র প্রবণতার বছর

কেমন গেল ২০১৫ সালের অর্থনীতি? এই প্রশ্ন ছিল বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেনের কাছে। বললেন, অল্প কথায় এর উত্তর দেওয়া কঠিন। তবে মোটামুটিভাবে বলা যায়, গেল বছরে অর্থনীতিতে একটা মিশ্র প্রবণতা ছিল।

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বছরের শুরুটা ভালো ছিল না। গণ্ডগোল ছিল। রাজনীতির ওই পরিবেশে সামনের দিনগুলো নিয়ে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বড় ধরণের উদ্বেগ ছিল। বছরের শেষে এসে অর্থনীতির যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা শুরুর সময়কার প্রত্যাশার চেয়ে ভালো। মূল্যস্ফীতি কমেছে এবং তা লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই আছে। এর কারণ মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য কম থাকার প্রবণতা।

তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই মুদ্রার বিনিময় হারে যথেষ্ট অস্থিতিশীলতা ছিল। বাংলাদেশে বিনিময় হার বছরজুড়েই ছিল স্থিতিশীল। বহির্বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অনেক বেড়েছে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার কিছুটা কমেছে। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। অবশ্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ধীরগতি কাটানো যায়নি। অর্থবছরের শেষে এসে তড়িঘড়ি করে কাজ করার প্রবণতা থেকে বের হতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে সার্বিকভাবে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ছিল।

বিনিয়োগ নিয়ে কী বলবেন এমন প্রশ্নের উত্তরে জাহিদ হোসেন বলেন, বিনিয়োগে বিশেষত বেসরকারি খাতে গত কয়েক বছরে যে স্থবিরতা দেখা গেছে, তা থেকে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। সর্বশেষ পাওয়া উপাত্তে দেখা গেছে, গত অক্টোবরে এসে বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ হয়েছে। শিল্পের মেয়াদি ঋণও বেড়েছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামালের এলসির যে হালনাগাদ তথ্য রয়েছে, তাতে প্রবৃদ্ধি রয়েছে। এর মানে, আগামীতে এর আমদানি বাড়বে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সামান্য উন্নতির এই লক্ষণে আত্মতুষ্টির কোনো অবকাশ নেই বলে মনে করেন ড. জাহিদ হোসেন। তার মতে, উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যে বিনিয়োগ দরকার, তাতে খুব একটা অগ্রগতি হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। ফলে বিনিয়োগে চাঙ্গা ভাব এসেছে তা বলা যাবে না। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ডুয়িং বিজনেস রিপোর্ট এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্গ্নোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। বাংলাদেশের প্রতিযোগী কিছু দেশ কিন্তু ভালোই এগিয়েছে। এ কারণে অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ম-কানুন সহজ করাসহ বিদ্যমান নানা সংকট দূর করে বিনিয়োগে গতি আনার কাজটিই খুব গুরুত্ব সহকারে করতে হবে। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়াকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের জন্য বড় সুসংবাদ বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংকের এই অর্থনীতিবিদ। মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সুষমভাবে বণ্টিত হোক_ নতুন বছরে এই প্রত্যাশা তার।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Latest Posts

আলোচিত খবর