গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নিজেকে মুসলমান দাবী করে এক মুসলিম কিশোরীর সাথে দীর্ঘ এক বছর প্রেমের অভিনয় করে নিজের বাসায় আটকে রেখে ওই কিশোরীকে সঙ্গবদ্ধ ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে কথিত প্রেমিক ও তার বন্ধুর বিরুদ্ধে। বন্দী অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে ওই কিশোরী ঘটনাটি স্থানীয় লোকজনদের কাছে জানালে তারা প্রেমিকের বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গা ঢাকা দিয়েছে ঐ প্রেমিক ও তার বন্ধু।
অভিযুক্ত ওই প্রেমিকের নাম সঞ্জয় চন্দ্র বাউল(২২)।সে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার দড়িয়া হাওলাপাড়া গ্রামের রবি চন্দ্র বাউলের ছেলে। তবে বাবার চাকরির সুবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে গজারিয়া উপজেলার বিশ্বদ্রোন গ্রামে আলাউদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকছেন। অন্যদিকে সঞ্জয়ের বন্ধু হিমু(২২) এর নাম জানা গেলেও তার পরিচয় জানা যায়নি।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী বলেন, তার বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় গত কয়েক বছর আগে পারিবারিকভাবে তার একটি বিয়ে হয়েছিল তবে বনিবনা না হওয়ায় সংসার টিকেনি। বর্তমানে তিনি তার মামার বাড়ি ঢাকা নারিন্দা এলাকায় বসবাস করেন। সঞ্জয়ের বন্ধু পেশায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক হিমুর মাধ্যমে তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। দীর্ঘ এক বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক। এ সময়ের ভেতর তাদের মধ্যে একাধিকবার দেখা-সাক্ষাৎ হলেও সঞ্জয় নিজেকে মুসলমান দাবী করে তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পলুব্ধ করতে থাকে। এদিকে সর্বশেষ গত শনিবার( ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায়) সঞ্জয় তাকে বিয়ে করবে বলে বাড়ি থেকে চলে আসতে বলে। সঞ্জয়ের কাছে চলে আসার উদ্দেশ্যে তিনি সন্ধ্যার দিকে ঢাকা থেকে রওনা হন এবং রাত নয়টার দিকে গজারিয়া উপজেলার ভাটেরচর এলাকায় আসেন। এ সময় সঞ্জয় তাকে বিশ্বদ্রোন ভাটেরচর গ্রামে তাদের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। তিনি বাসায় গিয়ে দেখতে পান সঞ্জয়ের বাবা-মা বা পরিবারের কেউ বাসায় নেই এবং ঘরের অবস্থা দেখে তিনি বুঝতে পারেন তারা হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এ সময় জোরপূর্বক তার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে সঞ্জয় তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। সোমবার ( ৩০ অক্টোবর) সকালে সঞ্জয় তার বন্ধু হিমুকে মুঠোফোনে ডেকে আনে পরে হিমু জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। পরে বিকাল তিনটার দিকে দিকে তিনি কৌশল করে বাসা থেকে বের হয়ে বিষয়টি স্থানীয় লোকদের জানালে তারা পুলিশে খবর দেয়। পরে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গা ঢাকা দিয়েছে প্রেমিক সঞ্জয় ও তার বন্ধু হিমু।উত্তেজিত জনতা সঞ্জয়ের ফ্ল্যাটের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।
ভুক্তভোগী ঐ কিশোরীর বাবা বলেন, আমি পেশায় একজন দরিদ্র কৃষক। আমার মেয়ে শনিবার রাত থেকে নিখোঁজ এ খবর পেয়ে আমরা আশেপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। সোমবার সন্ধ্যায় ফোন পেয়ে আমরা গজারিয়া উপজেলার বিশ্বদ্রোন ভাটেরচর গ্রামে ছুটে আসি। আমার মেয়ের সাথে ঘোর অন্যায় হয়েছে আমি এর কঠিন বিচার চাই। আমরা এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করবো।
অভিযুক্ত সঞ্জয়ের বাবা রবি চন্দ্র বাউল বলেন, আমি স্থানীয় একটি কারখানায় মেকানিক্যাল ফোরমান হিসেবে কাজ করি। দুর্গাপূজার ছুটিতে আমি আমার স্ত্রী এবং এক বড় ছেলে রাজেশ গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর পলাশেবেড়াতে যাই। অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে সঞ্জয় এখানে থেকে যায়। সোমবার দুপুর তিনটার দিকে আমাদের বাড়িওয়ালা মুঠোফোনে সঞ্জয়ের বিষয়টি জানালে আমরা দ্রুত ছুটে আসি। এসে দেখি ঘরে স্থানীয় লোকজন তালা লাগিয়ে দিয়েছে। আমার ছেলে যদি কোন অন্যায় করে থাকে আমি বাবা হিসেবে তার বিচার চাই।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা সোহেব আলী বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুইজন পলাতক তবে এই ব্যাপারে এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

