দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর – অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি বলেছেন, সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার ও আওয়ামী লীগ সর্বদা বদ্ধপরিকর। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে আজ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রোল মডেল। তিনি আজ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতির মূল স্তম্ভ।

আজ বিজয়ী দশমীর দিনে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মুন্সীগঞ্জ জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি শ্রী সমর ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক শ্রী নবীন রায়, অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা তপন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আল মাহমুদ বাবু, কাউন্সিলর মকবুল হোসেন, জাকির হোসেন, আব্দুল মান্নান দর্পন, জেলা পরিষদ সদস্য আরিফুর রহমান, গোলাম রসুল সিরাজী রোমান, শ্রমিক লীগ নেতা আবুল কাশেম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক আপন দাস প্রমুখ।

অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ঐহিত্যবাহী একটি রাজনৈতিক সংগঠন। সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সৌহার্দ্য ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার ও আওয়ামী লীগ সর্বদা বদ্ধপরিকর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথপরিক্রমায় মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার শৃঙ্খল ভেঙে একটি অসম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আবারও উগ্র-সাম্প্রদায়িকতার বীষবৃক্ষ রোপণ করা হয়। সেই বীষবৃক্ষ সমূলে উৎপাটনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশে^ আজ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রোল মডেল। তিনি আজ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় সংহতির মূল স্তম্ভ।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান ইশতেহার ছিল- বাংলাদেশ হবে অসাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দেশ। এ দেশ সবার দেশ। যার যার ধর্ম সে স্বাধীনভাবে পালন করবে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তস্নাত বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানের দ্বিতীয় অংশের ৮নং অনুচ্ছেদে উল্লিখিত চারটি রাষ্ট্রীয় মূলনীতির অন্যতম হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকা-ের পর দেশে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, বৈষম্য, নিপীড়ন ও নির্যাতনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরে থেকে পূর্ণ মাত্রায় পাকিস্তানি কায়দায় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ শুরু করে। সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের শাসনামলে জাতীয় সংসদ কর্তৃক পাসকৃত ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ নীতির বিলোপ করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে ১৯৮৮ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট জেনারেল এইচ এম এরশাদের শাসনামলে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের চূড়ান্ত ষড়যন্ত্র করা হয়। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট ৫ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করেছে এবং সংবিধানের মৌল নীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে পুনর্বহাল করেছে। যা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ তথা গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠী এ দেশের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নসাৎ করার জন্য চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। একটি মহল ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি ধ্বংসের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। ধর্মীয় সংঘাত সৃষ্টি করে এরা বারবার কলুষিত করতে চেয়েছে বাংলাদেশের মাটি। এই উগ্র-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এখানে ঈদ-পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব সবাই সমানভাবে ভাগাভাগি করে নেয়। দেশের প্রত্যেকটি জেলা শহর, উপজেলা এবং গ্রাম পর্যায়ের পূজা মন্ডপসমূহে ব্যাপক উৎসাহ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দূর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি আবহমান বাংলার শাশ্বত সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেবী পক্ষে আমাদের এই শপথ হোক আমরা ঐক্যে অটল থাকবো, আমরা আসুরিক ঔদ্ধত্যকে সহিংসতা দিয়ে বরণ করে না নিয়ে বরং সহিষ্ণুতা দিয়ে তাকে প্রতিরোধ করবো দেশ ও জাতির কল্যাণে।