অমাবস্যা-

ছোটবেলা থেকে একটি বহুলপ্রচলিত কথা শুনে আসছি, কেউ বলে ‘নতুন বোতলে পুরাতন মদ’ আবার কেউ বলে ‘পুরাতন বোতলে নতুন মদ’।কথা বলতে গিয়ে অনেকে হয়ত বোতল এবং মদের স্হান পরিবর্তন করে ফেলেন।যে যেভাবেই বলুক না কেন আমি কথাটির ভাবার্থের তেমন কোন ফারাক দেখিনা।

এমন একটি বহুলপ্রচলিত কথা দিয়ে সূচনা করা এজন্য যে,বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে দূর্নীতিগ্রতস্থ দেশের তালিকায় প্রথমস্থান থেকে টপ টেনের মধ্যেই উঠানামা করতেছে বাংলাদেশের অবস্থান।এটাকেও আমি অসম্মানের চোখে দেখিনা, কারন দূর্নীতি করতে হলেও মেধাবী হতে হয়।সেই দিক চিন্তা করলে অন্তত আমরা নিজেদেরকে স্বাবলম্বী বলতে পারি।
এই অর্জনটা একদিনে হয়নি।ভার্চুয়াল জগতের উৎকর্ষতায় আমরা অনেক অজানা বিষয়, কথা, ফুটেজসহ আরো অনেক কিছু জেনে যাই।যেমন বেশ কিছুদিন আগে বঙ্গবন্ধুর একটি ভাষণে শুনেছিলাম এরকমই দূর্নীতির গুনে গুণান্বিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলতেছিলেন “আমি হাত পেতে টাকা আনি যুদ্ধবিধ্বস্ত, গরীব, অসহায় মানুষের জন্য আর চাটুকারেরদল,মুনফাখোর,ঘুষখোরেরা সব চেটেপুটে খেয়ে নেয়”।কিন্তু দুঃখের বিষয় এমন দৃঢ়কন্ঠের পেশীটান হয়ে যাওয়া মর্মস্পর্শী ভাষনগুলো গণমাধ্যমে প্রচারিত না হয়ে সোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
তখন কিন্তু কোন বিরোধীদল ছিলনা।এই নির্লজ্জ লোকগুলি উনারই আশেপাশের,দলীয় কিংবা উচ্চপদস্থ আমলারা, তিনি কাউকে পরোয়া করে বা ছাড় দিয়ে কথাগওলো বলেননি।তারপর থেকে যত সরকার দেশের শাসনভার হাতে নিয়েছেন দূর্নীতিদমন ব্যুরো থেকে কমিশন বানিয়েও কোন লাভ হয়েছে কি?

শংকিত হই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে, যেভাবে  রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে জনগনের বিভক্তি সৃষ্টি করছে আর হিংসাত্বক মনোভাব তৈরী হচ্ছে, নিরীহ সাধারণ জনগনের পিঠে দলীয় সীল দিয়ে আপামর আর্থসামাজিক উন্নয়নকে একপেশেতে পরিণত করছে। এতে অন্য নিরীহ সাধারণ জনগন হচ্ছে বলিরপাঠা।

আমি আরো শংকিত এজন্য যে দেশে এখন মেধাশূন্যতা দেখা যাচ্ছে কারন হিসেবে আমার অভিজ্ঞাতা থেকে বলছি,আমি নিজেকে কখনই মেধাবী ভাবিনি তারপরেও বেশকিছু চাকুরীর নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাতালিকায় থেকেও এমনকি প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় হয়েও আমার চেয়ে অনেক তুখোড় মেধাবী তরুণের চাকুরী না হয়ে কালের অন্ধকারে হারিয়ে গেছে। আর অন্যদিকে চাকুরী বাণিজ্যের বদৌলতে কিংবা দলীয় লেজরবৃত্তির সুবাদে অথবা আত্বীয়করনের মাধ্যমে একটা দায়িত্বশীল পদে অযোগ্য লোক নিয়োগপ্রাপ্ত হচ্ছে।
পর্যায়ক্রমে ঐ ব্যক্তিটি যদি সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান হয়ে যায় পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাড়ায় ইতিমধ্যে তার কিছু নজীর হয়তবা আপনারা দেখেছেন।
টাকার বিনিময়ে পাগলের হাতে কুড়াল তুলে দিয়ে আমরা দূর্নীতি প্রতিরোধ করতে চাই।দূর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তাকে ঘুষের বিনিময়ে চাকুরী নিয়ে ঘুষের টাকার চক্রবৃদ্ধিসহ উসুল না করে ঐ নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি কি ঘুষ নেয়া বন্ধ করবে? আপনাদের নিকট প্রশ্ন।
কত বিচিত্র সেলুকাস! অথচ একটি মেধাবী, সৎ, যোগ্যতাসম্পন্ন তরুন  যদি নিজের যোগ্যতা বলে ঘুষ বিনিময় ছাড়া কোন দায়িত্বশীল পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়, আমার বিশ্বাস তার দ্বারা দেশ উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
পরিশেষে জাতীয়স্বার্থে দেশকে মেধাশূন্যতার কাল অমাবস্যা থেকে বাঁচাতে হলে দূর্নীতির করালগ্রাস থেকে মুক্ত করতে হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই।
সরকারি, আধাসরকারী প্রতিষ্ঠানে সিবিএ নামধারী দলীয় দূর্বিত্যায়ন,লেজরবৃত্তি বন্ধ না হলে এ দেশ কখনোই দূর্নীতিমুক্ত হবে না।