মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পরিত্যক্ত ঘর থেকে ১৩টি জবাই করা ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। আজ বুধবার সকালে উপজেলার আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পেছনে থাকা ওই ঘর থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় এক যুবকের কাছ থেকে খবর পেয়ে গ্রামবাসী ঘরটিতে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতরে ও আশপাশে জবাই করা ঘোড়ার দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। জবাইকৃত ঘোড়াগুলোর মধ্যে একটি গর্ভবতী ছিল; পাশেই নাড়ির সঙ্গে বাচ্চাটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘরের চারপাশে খোঁড়া বড় বড় গর্তে আগে জবাই করা ঘোড়ার হাড় পুঁতে রাখার আলামত পাওয়া গেছে। ঘরে মাদক সেবনের সরঞ্জামও পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশ এলাকার বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় গরুর মাংস বলে ঘোড়ার মাংস সরবরাহ করে আসছে একটি চক্র। বিষয়টি গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালনা করতে চক্রটি ঘোড়া জবাই করে মাংস কাটার জন্য রাজধানীর উপকন্ঠ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ৬-৭ মাস আগে আস্তানা গড়ে তোলে।
স্থানীয় তোফাজ্জল মিয়াজী বলেন, ৬-৭ মাস ধরে পরিত্যক্ত ঘরটিতে রহস্যজনক কর্মকাণ্ড চলছিল। এজন্য গ্রামবাসী নজরদারি চালিয়ে আসছিল। বুধবার এক যুবকের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা ১৩টি জবাই করা ঘোড়া দেখতে পান। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িতরা পালিয়ে যায়।
নাজমুল হোসেন নামে আরেকজন বলেন, প্রতি রোববার ও বুধবার গভীর রাতে ওই ঘরের সামনে গাড়ি আসত। সকালে সেখানে রক্ত ও হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। পরে জানা যায়, একটি চক্র ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস বস্তাবন্দি করে গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় সরবরাহ করছে।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ যাওয়ার আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। গ্রামবাসী জানিয়েছেন, গরুর মাংস বলে ঘোড়ার মাংস বিক্রি করা হতো। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ অনুযায়ী ঘোড়া জবাইয়ের কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, পুলিশকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাইকৃত ঘোড়াগুলো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা হবে।
