আগামী মার্চে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে নতুন উদ্যমে তৃণমূল পুনর্গঠন শুরু করেছে বিএনপি। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ফের জেলা-উপজেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে দল পুনর্বিন্যাসে তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
এদিকে কাউন্সিলের আগে ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে অধিকাংশ জেলা কমিটি পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। দলে কাক্সিক্ষত পদ-পদবি পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা তৃণমূল পুনর্গঠনে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করছেন। অবশ্য মামলা, গ্রেফতার ও দলের মধ্যকার কোন্দল, নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতাসহ নানা কারণে তৃণমূল পুনর্গঠন কাক্সিক্ষত মাত্রায় গতি নাও পেতে পারে বলে শঙ্কিত নেতারা।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান এক বিশেষ সাক্ষাতকারে বলেন, জাতীয় কাউন্সিলের উদ্যোগে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এই উদ্যমকে কাজে লাগিয়ে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের পুনর্গঠন কাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে আশা করেন তিনি।
আগামী মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে জাতীয় কাউন্সিল করতে যাচ্ছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে তিনটি সম্ভাব্য ভেন্যু চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে দলটি। কাউন্সিলের এ উদ্যোগে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন মাঠ নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতারা বলছেন, গত ৯ আগস্ট কেন্দ্র থেকে চিঠি পাঠিয়ে গ্রাম পর্যায় থেকে সংগঠন ঢেলে সাজানোর যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা এতদিন ঢিলেঢালাভাবে চললেও এখন তা প্রাণ পেয়েছে।
দায়িত্বশীল নেতাদের মতে, জেলা নেতাদের মধ্যে যারা জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেতে চান, তারা এখন নিজ উদ্যোগেই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় পুনর্গঠন সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ শুরু করেছেন অনেকেই। লক্ষ্য, নিজেদের সক্রিয়তা হাইকমান্ডের দৃষ্টিতে এনে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে একধাপ এগিয়ে থাকা। ইতিমধ্যে জেলা নেতারা নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় দপ্তরে এসে জেলা কাউন্সিলের সম্ভাব্য তারিখ দিয়ে যাচ্ছেন। কয়েকটি জেলায় কাউন্সিলের তারিখ চূড়ান্তও হয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অন্তত ২২টি জেলায় সম্মেলন হতে যাচ্ছে। অথচ গত আগস্ট থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত ৫ মাসে মাত্র রাঙামাটি ও কুড়িগ্রাম জেলা কমিটি পুনর্গঠিত হয়েছে।
এদিকে, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা ও নওগাঁ জেলায় সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজশাহী মহানগরের সম্মেলন হতে যাচ্ছে ১৫ ফেব্রুয়ারি। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে লালমনিরহাট, কুষ্টিয়া, রংপুর, জয়পুরহাট, ঝালকাঠি, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও রাজবাড়ী জেলা সম্মেলন করা হবে বলে কেন্দ্রকে জানিয়েছেন নেতারা।
বিএনপির অন্যতম সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, অধিকাংশ জেলা নেতারা জানিয়েছেন সরকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখলে মার্চের মধ্যে অধিকাংশ জেলা পুনর্গঠনের কাজ শেষ হতে পারে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাংগঠনিক সম্পাদক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বিভিন্ন জেলায় আহ্বায়ক কমিটি নিয়েও বড় রকমের ‘ঝামেলা’ রয়েছে, যা স্বাভাবিক নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার চেয়েও বেশি। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে। মামলা ও নেতাদের কারারুদ্ধ থাকার মতো ঘটনার মতোই এ ধরনের সমস্যাও তৃণমূল পুনর্গঠনে দীর্ঘসূত্রতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে জাতীয় কাউন্সিলের আমেজে অনেক বাধাই অতিক্রম করা সম্ভব হবে বলেও নেতারা আশা প্রকাশ করছেন।

