১৯৮৭র ‘নির্বাক’ ছবি ‘পুষ্পক’। কমল হাসান-অমলা অভিনীত এই ‘ব্ল্যাক কমেডি’টি আদ্যোপান্ত হাসির হলেও, একটি চরিত্র ও তাকে ঘিরে কয়েকটি সিন, মনে পড়ে গেল বাস্তব ঘটনার জেরে।
একটি শিক্ষিত যুবক হাতে ডিগ্রি নিয়ে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে চাকরির খোঁজে। একই পথে যাতায়াতের ফলে জনৈক ভিখারির সঙ্গে দেখা হয় তার। একদিন ভিখারির ভাঙা থালায় একটিমাত্র আধুলি দেখে বেশ তাচ্ছিল্যভরে নিজের পকেটের এক টাকা বের করে দেখায় যুবকটি।
ভরত জেন (৫০), কৃষ্ণকুমার গিতে, শম্ভাজি কালে, সর্বতিয়া দেবী- মুম্বাই, শোলাপুর, পটনার এই বাসিন্দাদের প্রত্যেকেই বেশ স্বচ্ছল জীবনযাপন করেন। কারো রয়েছে দুটি করে ফ্ল্যাট, কারোর নিজস্ব বাড়ি, তাও আবার একাধিক। থাকতেই পারে। তা হলে এঁরা খবরের শীর্ষে কেন? কারণ, এঁরা প্রত্যেকেই পেশায় ‘ভিখারি’! অবাক হলেন?
মুম্বাইয়ে ভরত জেনের নিজস্ব দুটি ফ্ল্যাট আছে, যার দাম ৭০ লাখেরও বেশি। মাসে ১০ হাজার টাকা পান একটি দোকান ভাড়া দিয়ে। কিন্তু তাঁর সব থেকে বেশি ‘ইনকাম’ ভিক্ষাবৃত্তি করে, মাসে প্রায় ৭৫ হাজার। শহরের চার্নি রোডের কাছে সিপি ট্যাঙ্ক, কৃষ্ণকুমার গিতের পছন্দের ‘ঠেক’। সারাদিনে তাঁর উপার্জন ১৫০০ টাকার মতো। শোলাপুরে দুটি বাড়ি আর ভিরারে একটি ফ্ল্যাটের মালিক শম্ভাজির দৈনিক আয় প্রায় হাজার টাকা। এ ছাড়াও, শোলাপুরে তাঁর জমি রয়েছে। আর আছে ৫০ হাজার টাকার বিনিয়োগ।
এঁদের সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন সর্বতিয়া দেবী, ভারতের সব থেকে ‘পরিচিত’ মহিলা ভিখারি। পটনার বাসিন্দা। নিজগৃহ রয়েছে সেখানেই। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন স্বচ্ছল পরিবারে। বার্ষিক ৩৬০০০ টাকা প্রিমিয়াম দেন, বিমা বাবদ।

