সর্বশেষ খবর

সোহরাওয়ার্দীতে না হলে নয়াপল্টনে সমাবেশ

৫ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে অনুমতি দেওয়া সম্ভব না হলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি চায় বিএনপি।

বিরোধী রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ পালনের জন্য সমাবেশের অনুমতি দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে দলটি।

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

৫ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দীতে বিএনপির সমাবেশ করার ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যে একই স্থানে সমাবেশের ডাক দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিষয়টির এখনো কোনো সুরাহা না হলেও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বলছে, সার্বিক দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত বছর ঠিক একইভাবে পাল্টাপাল্টি এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংস হয়ে ওঠে রাজনৈতিক ময়দান। এর জের ধরে বিএনপির টানা তিনমাসের হরতাল-অবরোধে অস্থির সময় পার করে দেশের মানুষ।

রিজভী বলেন, বিএনপির জনসভার জায়গায় আওয়ামী লীগ কর্মসূচি ডেকে মূলত পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে সংঘাত-সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি শান্তি চায়। সেজন্য সংঘাত এড়াতে প্রয়োজনে নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি চাইছে। এবার দেখা যাবে তারা কতটুকু শান্তির পক্ষে।

সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, শান্তির জন্য সংঘাত-সংঘর্ষ এড়াতে শান্তিপূর্ণ জনসভার অনুমতি দিন। এটি গণতান্ত্রিক অধিকার, এতে বাধা দেবেননা।

“যদি মনে করেন, সোহরাওয়ার্দীতে অনুমতি দিতে পারবেন না, তাহলে নয়াপল্টনে পার্টি অফিসের সামনে দিন। কোনো আপত্তি নেই। কিন্ত বিরোধীদলের যে আইনগত অধিকার সেই অধিকার হরণ করবেন না।”

বিএনপির ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবসের কর্মসূচি বানচাল করতে শাসকদল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। পুলিশ, উদ্যান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কিন্তু এরপরে আওয়ামী লীগের হঠাৎ এই কর্মসূচি অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা দেশবাসি সহজেই বুঝতে পারে। পায়ে পাড়া দিয়ে কর্মসূচি বানচাল করার চেষ্টা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব। এটা তাদের অপরাজনীতি নোংরা রাজনীতির অংশ।’

‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবসে অপরাধ বোধ থেকেই সরকার বিএনপি কর্মসূচি পালন করতে দেয়না- দাবি করেন রিজভী বলেন, ‘তারা জনগণের আওয়াজে চমকে উঠছে। আতঙ্কিত হয়ে সর্বশক্তি দিয়ে বিরোধীদলের কর্মসূচিকে বানচাল করতে চাচ্ছে।

“৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে তাদের এই ধরনের অবস্থান আরো স্পষ্ট হচ্ছে। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে আওয়ামী লীগ নিষ্ঠুর দমন-নীতি গ্রহণ করে জনগণকে তাদের শত্রুপক্ষ বানিয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব তাদের গা জ্বলার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

শেষ পর্যন্ত সমাবেশের অনুমতি না পেলে বিএনপির পরিকল্পনা জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত দেখতে চাই। কারণ অনেক সময়ে সমাবেশের আগের রাতে অনুমতি মেলে। সেজন্য এখনই কোনো কর্মসূচির কথা চিন্তা করছিনা। সমাবেশের জন্য আমাদের অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, শিরিন সুলতানা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Latest Posts

আলোচিত খবর