ইরাক যুদ্ধের সময় সাধারণ নাগরিকদের ওপর নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটনের ঘটনায় অভিযুক্ত হতে পারেন ব্রিটিশ সৈন্যরা। ইরাক যুদ্ধে ব্রিটিশ সৈন্যদের অপরাধ তদন্তে গঠিত ‘ইরাক হিস্টোরিক এলিগেশন্স টিম’ এর প্রধান মার্ক ওয়ারউইক এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শনিবার বিবিসি, স্কাই ও গার্ডিয়ানসহ ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলোর খবরে মার্ক ওয়ারউকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ মামলার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে, যার ভিত্তিতে সার্ভিস প্রসিকিউটিং অথোরিটি (সামরিক ব্যক্তিদের বিচারিক কর্তৃপক্ষ) অভিযোগ আনতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এমন কিছু ‘গুরুতর অভিযোগ’ তদন্ত করা হয়েছে। যেগুলো হয়তো যুদ্ধাপরাধের মানদণ্ডে টিকে যেতে পারে। নির্যাতনের শিকার হওয়া ইরাকের সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে ব্রিটিশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে অব্যাহত অভিযোগ উঠার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০১০ সালের নভেম্বরে এই তদন্ত কমিটি গঠন করে। ২০০৩ সালে ইরাকে হামলার শুরু থেকে ২০০৯ সালের জুলাই পর্যন্ত ব্রিটিশ সৈন্যরা ইরাকে অবস্থান করে। এই সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও বন্দী অবস্থায় নির্যাতন চালানোর ঘটনায় ব্রিটিশ সৈন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগগুলো তদন্ত করছে ওই কমিটি। এই তদন্তে ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ কোটি ৭২ লাখ পাউন্ড।
ওয়ারউইক বলেন, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁরা সম্ভাব্য ১ হাজার ৫১৫ জন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ রয়েছে ২৮০টি। এখনো কমিটির কাছে নতুন নতুন অভিযোগ আসছে জানিয়ে প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, একক বিষয়ে একাধিক অভিযোগ কিংবা ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত হয়েছে- এমন অভিযোগ আসার ঘটনাও ঘটছে।
অপরাধ তদন্তে গঠিত দলের প্রধান মার্ক ওয়ারউইক বলেন, চাঞ্চল্যকর বাহা মুসার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও তাদের তদন্তে প্রাণ ফিরে পায়। ২৬ বছর বয়সী হোটেলকর্মী ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ সৈন্যদের অধীনে বন্দী অবস্থায় মারা যান। ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান স্যার উইলিয়াম গেইগ ২০১১ সালে তাঁর প্রতিবেদনে ইরাকে বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদে নিষিদ্ধ কৌশল চর্চার ঘটনাকে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা’ বলে সমালোচনা করেন।
২০০৪ সাল থেকে ইরাক যুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে কয়েকটি তদন্ত কমিটি কাজ করলেও আজ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। ওয়ারউইকের নেতৃত্বে যে তদন্ত বর্তমানে চলছে তা শেষ হবে ২০১৯ সালে। তদন্তের এমন ধীর গতির কড়া সমালোচনা করেছেন মানবাধিকার-বিষয়ক দাতব্য সংস্থা ‘রেডরেস’-এর কার্লা ফার্স্টম্যান। যে উদ্দেশে এই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, তা দ্রুত ও যথাযথভাবে করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগগুলো তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। পর্যাপ্ত প্রমাণ সাপেক্ষে সৈন্যদের বিচার করা যেতে পারে।

