না ফেরার দেশে এডুয়ার্ডো গ্যালিয়ানো

১৩ এপ্রিল ছিল বিশ্ব সাহিত্যে এক বিষাদময় দিন। এই দিনে নোবেলজয়ী জার্মান সাহিত্যিক কবি, গ্রন্থকার, নাট্যকার, ভাস্কর ও শিল্পী গুন্টার গ্রাস মারা যান। বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হওয়ায় এ দেশের গণমাধ্যমে গুন্টার গ্রাসের মৃত্যুর খবরটি বেশ গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়। অনেকেই আবার গুন্টার গ্রাসকে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক কলাম ও প্রবন্ধ লিখেছেন। সে দিক থেকে আরেক বিখ্যাত উরুগুয়ের লেখক এবং সাংবাদিক এডুয়ার্ডো গ্যালিয়ানোর মৃত্যু অনেকটাই আড়ালে থেকে যায়।

উরুগুয়ের লেখক এবং সাংবাদিক এডুয়ার্ডো গ্যালিয়ানো আর নেই। ৭৪ বছর বয়সে মন্টেভিডিওতে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত ১৩ এপ্রিল তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এডুয়ার্ডো গ্যালিয়ানো ছিলেন ল্যাটিন আমেরিকার নেতৃস্থানীয় বিরোধী পুঁজিবাদী কণ্ঠস্বর। তার মৃত্যুতে এক শোক বার্তায় ল্যাটিন আমেরিকা মানুষের মুক্তির সংগীত হারিয়েছে উল্লেখ করে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস বলেন, তার বার্তা এবং কাজ সব সময় আমাদের জাতির সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করেছে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেভ বলেন, তার মৃত্যুতে বড় ক্ষতি হয়ে গেল। বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকার ঐক্যের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

এডুয়ার্ডো গ্যালিয়ানোর জন্ম ১৯৪০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর উরুগুয়ের মন্টেভিডিওতে। ১৯৬০ সালে তিনি পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন। তিনি সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। এ ছাড়াও ইউনিভার্সিটি প্রেস-এর এডিটর-ইন-চিফ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ১৯৭৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে তিনি আর্জেন্টিনা পালিয়ে যান। পরবর্তীতে স্পেনে নির্বাসিত হন।

এডুয়ার্ডো গ্যালিয়ানোর প্রথম বই ‘দ্য ফলোয়িং ড্রেস’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ সালে। তার বিখ্যাত বই ‘ওপেন ভ্যানিস অফ ল্যাটিন আমেরিকা’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। বইটি আমেরিকায় বেস্ট সেলারের তালিকায় শীর্ষে ছিল। বইটি পরে ২০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য আরেকটি বই ‘মেমোরি অফ ফায়ার’। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। ‘দ্য বুক অফ অ্যামব্রেস’, ‘উই সে নো’ তার পাঠকপ্রিয় আরো দুটি বই।