বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন চিরকাল বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে- পথ দেখাবে  -অ্যাড. মৃণাল কান্তি দাস এমপি

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি বলেছেন- সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনদর্শন চিরকাল বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে- পথ দেখাবে। বাংলা ও বাঙালি যত দিন থাকবে, এই পৃথিবী যত দিন থাকবে, পৃথিবীর ইতিহাস যত দিন থাকবে তিনি একইভাবে প্রজ্জ্বলিত হবেন প্রতিটি বাঙালি হৃদয়েÑ প্রতিটি মুক্তিকামী-শান্তিকামী মানবতাবাদী হৃদয়ে। জাতির পিতার মহান আদর্শ ও চেতনার ভিত্তিতে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। এছাড়াও তিনি গতকাল সকালে মুন্সীগঞ্জ শহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মুন্সীগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমা- আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা রাখেন ও খাদ্য বিতরণ করেন। তাছাড়া গতকাল মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা ও গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন কর্মসূচি অংশগ্রহণ করেন তিনি। গজারিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতির পিতার প্রকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন ও সাধারণ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এরপর বাউশিয়া ও গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। তারপর গজারিয়া কলিমুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।

অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি বলেন, অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বলেন, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে একটি বেদনাবিধূর শোকের দিন। এই দিন মানব-সভ্যাতার ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংসতম ঘৃণ্য হত্যাকান্ডের শিকার হন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, আমাদের অন্তহীন প্রেরণার উৎস্য, চেতনা ধমনীতে প্রবাহিত শুদ্ধতম নাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই হত্যাকা-ে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী মহিয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভ্রাতা শেখ আবু নাসের, জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেল, নবপরিণীতা পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও জাতির পিতার ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নৃশংসভাবে নিহত হন। ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।

তিনি বলেন, ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক কালজয়ী নাম। বিশ^বাঙালির গর্ব- মৃত্যুঞ্জয়ী মহামানব। তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও বাঙালি মানসে জাতীয়তাবোধ সৃষ্টির নির্মাতা। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে তিনি বাঙালি জাতির জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর অবিনাশী নেতৃত্বেই হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পায় বাংলাদেশ; মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। পরাধীনতার নিকষ অন্ধকারে নিমজ্জিত বাঙালি জাতির ভাগ্যাকাশে উদিত হয় মুক্তির প্রদীপ্ত প্রভাকর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবন এদেশের মাটি ও মানুষের অধিকার আদায় ও কল্যাণের জন্য সংগ্রাম করেছেন। বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য জীবনের ১৪টি বছর পাকিস্তানি কারাগারের অন্ধপ্রকোষ্টে বন্দি থেকেছেন, দুই বার ফাঁসির মঞ্চে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু আত্মমর্যাদা ও বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কখনো মাথা নত করেননি, পরাভব মানেন নি।

তিনি বলেন, খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর চেতনা ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতির অবিভাজ্য সম্পর্কের কোন পরিসমাপ্তি নেই। বাংলা ও বাঙালি যত দিন থাকবে, এই পৃথিবী যত দিন থাকবে, পৃথিবীর ইতিহাস যত দিন থাকবে তিনি একইভাবে প্রজ্জ্বলিত হবেন প্রতিটি বাঙালি হৃদয়েÑ প্রতিটি মুক্তিকামী-শান্তিকামী মানবতাবাদী হৃদয়ে। বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শন চিরকাল বাঙালি জাতিকে অনুপ্রাণিত করবেÑ পথ দেখাবে। বাঙালি জাতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসায় বাংলাদেশের ইতিহাস বিনির্মাণের কালজয়ী এ মহাপুরুষকে চিরকাল স্মরণ করবে।

তিনি বলেন, আমাদের বড়ই দুভার্গ্য ও জাতি হিসেবে অত্যন্ত লজ্জার বিষয় যে, ইতিহাসের ঘৃণিত কালো আইন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করে খুনি মোশতাক ও জিয়াউর রহমান চক্র। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের যাতে বিচারের সম্মুখীন হতে না হয় সে জন্য খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে অন্যতম জেনারেল জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে উক্ত অধ্যাদেশটি সংসদে অনুমোদনক্রমে আইনে পরিণত করা হয়। সেদিন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি শুধু সংবিধান লঙ্ঘন করেনি, তা একই সঙ্গে সার্বজনীন মানবাধিকার সনদও লঙ্ঘন করেছে। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে বৈধতা দেওয়ায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা দায়মুক্তি পেয়ে যায়। ভবিষ্যতে কেউ যাতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে পারে তার পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করে রাখেন জিয়াউর রহমান। এমনকী খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। জাতি হিসাবে আমাদের জন্য যা অত্যন্ত লজ্জা ও কলঙ্কজনক অধ্যায়।

তিনি বলেন, আর যেন বাঙালি জাতিকে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশে মতো সেই কালো আইনের প্রবক্তা, বঙ্গবন্ধুর খুনি, জাতি-দ্রোহী, দেশদ্রোহী, মানবতা ও আইনের শত্রুদের কবলে পড়তে না হয়। তাদের লালনকারী বিএনপি-জামাত অশুভ শক্তি যেন আর রাজনীতিতে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে তা প্রত্যেকটি দেশপ্রেমিক নাগরিককে খেয়াল রাখতে হবে। এই অপশক্তির চূড়ান্ত পরাজয় নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সুন্দর ও পরিুছন্ন রাজনীতির ধারা প্রবর্তনের পথে এগিয়ে নিতে হবে আগামী প্রজন্মকে। সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহান আদর্শ ও চেতনার ভিত্তিতে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।