জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ছিল বাংলার মাটি ও মানুষের কল্যাণে আত্মনিবেদিত -অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি বলেছেন, ১৫ আগস্ট মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকা-ের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধূর একটি শোকের দিন। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট মানবতার দুশমন, প্রতিক্রিয়াশীল, স্বাধীনতা বিরোধীগোষ্ঠী, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী কুচক্রিরা জাতির পিতাকে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা করে। সারাজীবন বাংলার মাটি ও মানুষের কল্যাণে আত্মনিবেদিত ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবন। দেশের মানুষের কল্যাণে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতেও তিনি পিছপা হননি। একজন নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ছিল অতুলনীয় দেশপ্রেম এবং জনগণের প্রতি অপরিমেয় ভালোবাসা। একজন মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অসীম সাহসী, বিশাল হৃদয়ের এবং উদার দৃষ্টিভঙ্গীর সহজ সরল মানুষ। নীতি ও আদর্শে তিনি ছিলেন দৃঢ় প্রতীজ্ঞ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই সুখি সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলায় পরিণত হতো। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- জাতি হিসেবে আমাদের অনেক পিছিয়ে দিয়েছে।

গতকাল মুন্সীগঞ্জ উপজেলার মিরকাদিমে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কথা বলেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শ্রদ্ধায় মিলাদ, দোয়া, মোনাজাত ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শ্রী সুশীল চন্দ্র পাল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার আবদুল মোমেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হামিদুর রহমান, কৃষক লীগের সভাপতি মোহসীন মাখন, মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র হাজী আবদুল সালাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আল মাহমুদ বাবু, শ্রমিক লীগের সভাপতি আবুল কাসেম, সাবেক ছাত্রনেতা মোয়াজ্জেম হোসেন, এ্যাড. গোলাম মওলা তপন, মিরকাদিম পৌরসভার প্যানেল মেয়র আওলাদ হোসেন, প্যানেল মেয়র বাদশা প্রমুখ। এছাড়াও এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিরকাদিম পৌরসভার কাউন্সিলরগণ ও পলিটেকনিকের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ।

অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি বলেন, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকা-ের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধূর একটি শোকের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মানবতার দুশমন প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকদের হাতে আমাদের মহান পথ প্রদর্শক, বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, সমকালীন বিশ্বের অবিসংবাদিত নেতা, বিশ্বের লাঞ্চিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের পথিকৃৎ, মুক্তিকামী মানুষের অকৃত্রিম সুহৃদ, সা¤্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ উপনিবেশবাদ, নয়া উপনিবেশবাদ ও বর্ণ বৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াকু বীরসেনানী, জোট-নিরপেক্ষ তৃতীয় বিশ্বের অনন্য প্রবক্তা নিরস্ত্রীকরণে বিশ্বাসী শান্তিরদূত, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, আবহমান বাংলা ও বাঙালির হাজার বছরের আরাধ্য পুরুষ, আমাদের অন্তহীন প্রেরণার উৎস, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন।

তিনি বলেন, ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই হত্যাকা-ের শিকার হয়েছিলেন সেদিন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী মহিয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবÑ যিনি নীরবে-নিভৃতে প্রেরণা যুগিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা ও বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভ্রাতা শেখ আবু নাসের, জাতির জনকের জ্যেষ্ঠপুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ ফুটবলের আধুনিকতার স্রষ্টা, আবাহনীর প্রতিষ্ঠাতা ও সাংস্কৃতিক জগতের অন্যতম পুরোধা শেখ কামাল, বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় পুত্র বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গর্বিত বীর সেনানী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ জামাল, বঙ্গবন্ধুর আদরের কনিষ্ঠপুত্র নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেল, জাতির জনকের নবপরিণীতা পুত্রবধূ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্লু’ উপাধিপ্রাপ্ত দেশসেরা অ্যাথলেট সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক কৃষক নেতা জাতির জনকের ভগ্নিপতি তাঁর মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, জাতির জনকের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গর্ব বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও কর্তব্যরত অনেক পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারী।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার বক্তব্যের শুরুতেই গভীরভাবে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৭৫-এর ১৫ আগস্টের নিহত সকল শহীদদানকে। ইতিহাসের ঘৃণিত কালো আইন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করে খুনি মোশতাক ও জিয়াউর রহমান চক্র। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের যাতে বিচারের সম্মুখীন হতে না হয় সে জন্য খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে অন্যতম জেনারেল জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে উক্ত অধ্যাদেশটি সংসদে অনুমোদনক্রমে আইনে পরিণত করা হয়। সেদিন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি শুধু সংবিধান লঙ্ঘন করেনি, তা একই সঙ্গে সার্বজনীন মানবাধিকার সনদও লঙ্ঘন করেছে। ছয় দফা আন্দোলনের প্রণেতা, স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যার বিচার চাওয়ার অধিকার সেদিন জাতির ছিল না। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বজায় থাকায় আইন নিজস্ব গতিতে চলেনি। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ দ্বারা দেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ ছিল।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য ও পরিতাপের বিষয় এই যে, ভিনদেশি পাকিস্তানি হানাদার সৈন্যরাও সাহস পায়নি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে; সেই ঘৃণ্য কাজটিই করেছে বাঙালি জাতির কতিপয় বিশ্বাসঘাতক বিপথগামী সেনাসদস্য। কতিপয় রাজনৈতিক নেতা, সামরিক ও বেসামরিক চক্রান্তকারী।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় জীবনের কেন্দ্র ছিল জনগণ। জনগণের জন্য ভালোবাসা ছিল তার সব কর্মকা-ের প্রেরণা, জনগণের ওপর বিশ্বাস ছিল তার কর্মকা-ের ভিত্তি এবং জনগণের কল্যাণই ছিল তার সব কর্মকা-ের লক্ষ্য। নির্যাতিত-নিপীড়িত, লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-শোষিত মানুষের মুক্তিই ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনের একমাত্র ব্রত। বাঙালি জাতির পরম সৌভাগ্য এমন একটি ‘সোনার ছেলে’ জন্মেছিল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। যে ছেলেটি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতেও পিছপা হন নি। শেখ মুজিবুর রহমান নামের সেই ‘সোনার ছেলে’র কল্যাণেই ‘বাঙালির বাংলা’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর সেই ‘সোনার ছেলে’টি হয়ে উঠেছেন বাঙালি জাতির পিতা।