হত্যাকান্ডের নয় ঘন্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটনসহ আসামীদের গ্রেফতার

হত্যাকান্ডের ৯ ঘন্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটনসহ আসামীদের গ্রেফতার করেছে গজারিয়ার থানা পুলিশ। ভোর ৪টার সময় খবর পেয়ে শাহ আলম (২৩) এর লাশ উদ্ধার করা হয়। শনিবার দুপুর ২টার সময় তিনজন আসামীকে গ্রেফতার করে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে। তিন জন আসামী শাহ আলমের বোন নার্গিস আক্তার (২১), স্বামী সবুজ (২৮), মা হামিদা বেগম (৪৫)।

গজারিয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রইছ উদ্দিন জানান, শনিবার ভোর ৪.৩০ ঘটিকার সময় টেলিফোনে সংবাদ পাওয়া যায় যে, গজারিয়া থানাধীন টেঙ্গারচর ইউনিয়নের অন্তর্গত বৈদ্যারগাঁও গ্রামের মো: সাদেক হোসেন সিকদার এর বসত ঘরে তার ভাই শাহ আলম (২৩) এর লাশ পড়ে আছে। উক্ত সংবাদ পেয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রইছ উদ্দীনের নেতৃত্বে সংগীয় অফিসার ফোর্সসহ ঘটনাসথলে উপস্থিত হয়ে মৃত লাশের মা, বোন, ভাইদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে তারা জানায় যে, উক্ত শাহ আলম মাদক সেবী ছিল। সে নিজেই তার মাথা এবং শরীরের অন্যাণ্য জায়গায় আঘাত করে আত্মহত্যা করেছে।

তিনি আরো জানান, শাহ আলমের মা হামিদা, বোন নার্গিস ও বোনের স্বামী সবুজের আচরণ এবং পারিপার্শ্বিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সন্দেহ হলে মৃত শাহ আলমের বোন নার্গিস আক্তার (২১), স্বামী সবুজ, মা হামিদা বেগম (৪৫), স্বামী মৃত নজরুল ইসলাম, সবুজ মিয়া (২৮) পিতা মো: মোকলেছ মিয়াকে আকট করা হয়। শাহ আলমের ভাই মো: সাদেক হোসেন সিকদারকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জানান যে, তার মার স্বভাব চরিত্র ভাল ছিল না। সে জন্য সে এবং তার ভাই মৃত শাহ আলম বিভিন্ন সময়ে ভালভাবে চলার জন্য বললে তাদের মা প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তাছাড়া ভিকটিমের বোন নার্গিস ও তার স্বামী নিয়ে পিত্রালয়ে থাকত। ভিকটিম এবং তার ভাই সম্প্রতি তাদের বোন নার্গিসকে শ্বশুর বাড়ি চলে যেতে বলায় বর্ণিত ৩ জন আসামীর যোগসাজসে ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১১ ঘকিটার মধ্যে যে কোন সময় শাহ আলমের মাথা, হাত ও গলায় আঘাত করে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মৃত লাশ রশিতে ঝুলিয়ে রাখে। কিছুক্ষণ পরে নিজেরাই লাশ রশি থেকে নামিয়ে ফেলে।

এ সংক্রান্ত ভিকটিম শাহ আলমের ভাই সাদেক হোসেন সিকদার বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে গজারিয়া থানার মামলা নং ২১ ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পিসি রুজু করা হয় এবং বর্ণিত ১-৩ নং আসামীদের গ্রেফতার করা হয়।