আসুন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ মানবিক কল্যাণকর সমাজ বিনির্মাণে ব্রুতী হই – অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি বলেছেন, আসুন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ মানবিক কল্যাণকর সমাজ বিনির্মাণে ব্রুতী হই। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণে সকলে মিলে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করুন। উগ্র-সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ও ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

আজ মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদীখান, শ্রীনগর, লৌহজং ও টংগীবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন, শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন, মুন্সীগঞ্জ জেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি শ্রী সমর ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক শ্রী নবীন রায়, হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের সভাপতি শ্রী অজয় চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক শ্রী সুবির চক্রবর্তী, আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদুর রহমান ডাবলু, স্বপন মোদক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আল মাহমুদ বাবু, শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমান ঝিটু, জেলা পরিষদ সদস্য আরিফুর রহমান, হোসনে আরা, শ্রমিক লীগ নেতা আবুল কাশেম প্রমুখ। এ সময় তিনি সিরাজদিখান উপজেলার সন্তোষপাড়া মন্দির, শেখর নগরের ঐতিহ্যবাহী কালী মন্দির, আনন্ত দেবের মন্দির, বালাশুরের জমিদার যুদনাথ রায়ের বাড়ির মন্দির, কনকসারের পূজা্মন্ডপ ও টংবাড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঘোষবাড়ির পূজাম-পসহ বিভিন্ন পূজা্মন্ডপ পরিদর্শন করেন।

অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বলেন, আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান সবাই রক্ত দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব, সমর্থকদের ওপর পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী ও তাদের এদেশীর দোসররা সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করেছে। আর এককভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর লোকেরা সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রধান ইশতেহার ছিল- বাংলাদেশ হবে অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতর দেশ। এ দেশ সবার দেশ। যার যার ধর্ম সে স্বাধীনভাবে পালন করবে। অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘রাজনীতিতে হিন্দু, মুসলমান খ্রিস্টান বলে কিছু নেই। আমার কাছে সবাই মানুষ।’

তিনি বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলমন্ত্র ‘সবার উপর মানুষ সত্য’। ধর্মীয় প্রার্থক্যের কারণে মানুষকে বিভেদের আগুণে দগ্ধ করা কিংবা সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গীতে কারও প্রতি হিংসা করা মহাপাপ। একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণকর সমাজ বিনির্মাণের মধ্য দিয়ে উন্নত সমৃদ্ধ জাতিরাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রয়োজন সমাজ-জীবনে সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। আসুন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ মানবিক কল্যাণকর সমাজ বিনির্মাণে ব্রুতী হই। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণে সকলে মিলে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করুন।

তিনি বলেন, প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানি হানাদারের দোসররা এদেশে সম্প্রীতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিনষ্টে সব সময় ষড়যন্ত্র করে আসছে। এরাই আমাদের জাতিগত অগ্রগতির প্রধান প্রতিবন্ধক। এই অশুর অশুভ অপশক্তির বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। উগ্র-সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ও ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।