ধর্মীয় পরিচিতির ভিত্তিতে না দেখে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে – অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি বলেছেন, বাঙালি জাতির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি হলো সৌহার্দ্য ও সংম্প্রীতির সংস্কৃতি। যত ধরনের মতাদর্শগত বিভেদ থাক না কেন, ধর্মীয় পরিচিতির ভিত্তিতে না দেখে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। সাম্প্রদায়িকতার বীষ মানুষের মধ্যে হিংস্রতার জন্ম দেয় আর সম্প্রীতির দর্শন মানুষকে মানবিক হতে শেখায়।
আজ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা ও মীরকাদিম পৌরসভার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মুন্সীগঞ্জ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সমর ঘোষ, নদী গোপাল হালদার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আল মাহমুদ বাবু, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর জাকির হোসেন, মকবুল হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য আরিফুর রহমান, গোলাম রসুল সিরাজী রোমান, শ্রমিক লীগ নেতা আবুল কাশেম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-আইন বিষয়ক সম্পাদক আপন দাস প্রমুখ।

অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বলেন, বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি হলো সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সংস্কৃতি। প্রতিক্রিয়াশীলদের ষড়যন্ত্র প্ররোচনায় সংঘটিত কয়েকটি ঘটনা ব্যতীত বাঙালি জাতির ইতিহাস মিলনের ইতিহাস- ভ্রাতৃত্বের ইতিহাস। সকল ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি সমন্বয়ে উৎসবমুখর ছিল বাঙালি সমাজ। বিভিন্ন ধর্ম ও মতাবলম্বীদের আচার-অনুষ্ঠানেও রয়েছে সার্বজনীন অংশগ্রহণ। ধর্মীয় অনুষ্ঠানও পরিণত হয় সার্বজনীন উৎসবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় অংশের ৮নং অনুচ্ছেদে উল্লিখিত চারটি রাষ্ট্রীয় মূলনীতির অন্যতম হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। এ দেশে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীগণ পাশাপাশি বসবাস করছে। সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে সমুন্নত রাখতে হবে। সমাজে সৌহার্দ্য, সাম্য, শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় আত্ম-সংযম ও আত্মত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে হবে। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি পেশা নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। যত ধরনের মতাদর্শগত বিভেদ থাক না কেন, ধর্মীয় পরিচিতির ভিত্তিতে না দেখে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তাই আজ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। মতাদর্শগত অসহনশীলতার কারণে যে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প সৃষ্টি হয় তা থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্গা শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ দুর্গতি-নাশিনী। দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসবের মধ্যে দু’টি তত্ত্ব নিহিত আছে। একটি জাগতিক বা সাংসারিক এবং অন্যটি আধ্যাত্মিক। দুর্গাপূজার মঙ্গলময় আহ্বানে সাড়া দিয়ে সকলকে মানবিক কল্যাণকর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দুর্গতি-নাশিনী জগজ্জননী মা দুর্গার আগমনে বাঙালি প্রাণে সঞ্চারিত হোক নতুন আশা, মাতৃবন্ধনায় মুখরিত হোক দিক-দিগন্ত।