গজারিয়ায় তথ্য জালিয়াতি করে ভোটার হয়ে সাংবাদিক বনে গেলেন আসাদ উল্লাহ!

গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার, ডাটা অপারেটর ও এমএলএসএসের মাধ্যমে জঙ্গি, রোহিঙ্গা ও বড় ধরনের ভয়ঙ্কর অপরাধীরা গজারিয়ার ভোটার হচ্ছে। এখানে ১ লাখ থেকে শুরু করে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে এ ধরনের ভোটার করার অভিযোগ উঠছে। কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন ডাটা অপারেটর মো: ইকবাল হোসেন। নির্বাচন অফিসার অর্ডার করলে কোন কিছুই প্রয়োজন হয় না ডাটা অপারেটরদের। টাকার বিনিময়ে সকল দায় দায়িত্ব গ্রহণ করে নির্বাচন অফিসার। বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়ে যান এ সকল ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী, জঙ্গি, রোহিঙ্গারা। এমন একজন ভোটারের অস্তিত্ব অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

তথ্য গোপন করে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার পুরান বাউশিয়ার ঠিকানা ব্যবহার করে নির্বাচন অফিসে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ভোটার হওয়ায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। দীর্ঘদিন ধরে তথ্য গোপন করে গজারিয়ায় বসবাস করে আসছে মো: আসাদ উল্লাহ নামের এক যুবক। তার জাতীয় পরিচয়পত্রে যে সকল ঠিকানা দেয়া হয়েছে তাও ভূয়া। কোন ঠিকানারই অস্তিত্ব মিলেনি। জাতীয় পরিচয়পত্রে গজারিয়ার নয়াকান্দি পুরান বাউশিয়া পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা দেখানো হয়েছে আসলে অত্র এলাকায় এই নামে বসবাসকারী কোন যুবকের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর মো: আসাদ উল্লাহ পিতা সামসুদ্দিন আহমেদ, মাতা- নুরজাহান কিভাবে ২নং ওয়ার্ডের নয়াকান্দি পূর্বপাড়ার বাসিন্দা নয় এবং সে জঙ্গি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে যাচাই বাছাই করার জন্য আবেদন করে। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: মিজানুর রহমান প্রধান বর্তমান ২নং ওয়ার্ড মেম্বার ও স্থানীয় একাধিক সাবেক মেম্বারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে সরেজমিনে এসে খোঁজ খবর নিয়ে নিশ্চিত হন যে মো: আসাদ উল্লাহ পিতা সামসুদ্দিন আহমেদ মাতা নুরজাহান এই নামে কোন ব্যক্তি নাই এবং পূর্বেও ছিল না। এমনকি ইউপি হোল্ডিং অ্যাসেসমেন্ট রেজিষ্টার বহিতে ও উপরোল্লিখিত ব্যক্তির নামে কোন বসত বাড়ী নেই মর্মে স্মারক নং বা.ই.প/২০-২১/৩১ তারিখ: ১৩ অক্টোবর ২০২০ এই মর্মে একটি প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেছেন।

একটাই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মাঝে মো: আসাদ উল্লাহ যদি এলাকার বাসিন্দা না হয়ে থাকে তবে তার পরিচয় কী? তার পরিচয়ের জন্য তার জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদন কপি উদ্ধার করা হয়। সেই আবেদন কপিতে সে তার স্থায়ী ঠিকানা সাভার দেয়া হয়েছে। সেখানের তথ্যও আসাদ উল্লাহ গোপন করেছেন। ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা বিপিএ টিসি পোস্ট কোড ১৩৪৩, মৌজা/মহল্লা জামসিং দেয়া রয়েছে। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো গ্রামের নাম নেই, রাস্তার নাম নেই, বাসা/ হোল্ডিং নম্বরও নেই।

নিয়মানুযায়ী সাভার এলাকার বসবাস করা স্থানের মেয়র বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নাগরিক সনদপত্র দিয়ে আবেদন করতে হয় সেটাও তিনি করেন নি। সাভারের ঠিকানাও তথ্য গোপন করে কিভাবে গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে গজারিয়া উপজেলার স্থায়ী ভোটার হলেন এটাই এখন জানার বিষয়? যার কোন ঠিকানার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না সে কি আসলে জঙ্গি? রোহিঙ্গা না সন্ত্রাসী? সেটা নির্বাচন করার দায়িত্ব সাধারণ মানুষের।

নির্বাচন অফিসের ডাটা অপারেটর মো: ইকবাল হোসেন জানান, এমএলএসএস নুরুল ইসলামের মাধ্যমে তদবিরটি পাই। পরর্তীতে নির্বাচন অফিসার আবুল বাশার সাবের নির্দেশে অনলাইনে আবেদন পাঠাই। অফিসার আদেশ করলে কোন কিছুই প্রয়োজন হয় না। আমরা অনলাইনের ফরম ফিলাপ করে আবেদন করে ফেলি।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবু তালেব জানান, মো: আসাদ উল্লাহর কোন আবেদনের রেকর্ড আমাদের অফিসে নাই। তার কোন তথ্য আমি দিতে পারবনা। আমাকে মারেন কাটেন যা খুশি করতে পারবেন আমি কিছুই করতে পারবো না।

সারা দেশে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী, জঙ্গি বা রোহিঙ্গাদের নিয়ে সরকার যেখানে আতঙ্কিত। দেশের বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে সকল ধরনের অপরাধ সংঘটিত করে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় মো: আসাদ উল্লাহ গজারিয়ার ঠিকানার অস্তিত্ব নাই, সাভার উপজেলার ঠিকানার কোন অস্তিত্ব নাই, সে নুর জাহান গ্রুপের মালিক নুরজাহান বেগমের একমাত্র ছেলে বলে তিনি বিভিন্ন সময় পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন এলাকায়। রামপুরার সবচেয়ে বড় ভবনটি তাদের বলে তিনি বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়াচ্ছেন। এমনকি মো: আসাদ উল্লাহ জাহাঙ্গীর নগর বিশ^ বিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অনার্স মাস্টার্স করেছেন। অথচ তার জাতীয় পরিচয়পত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা দেয়া হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক। বিভিন্ন তথ্য গোপন করে জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে তিনি মহান পেশায় প্রবেশ করেছেন। সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এই পেশায় এই ধরনের ভয়ঙ্কর অপরাধীরা প্রবেশ করলে সেই পেশাটি কলঙ্কিত হয়। মাই টিভির স্টীকারে চোরাই গাড়ীতে মাদক বিক্রি করায় গাড়ি আটকের আবেদন করা হয়েছিল ২১/০৭/২০২০ তারিখে। কিন্তু কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি তৎকালিন গজারিয়া থানার অফিসার মো: ইকবাল হোসেন।

বর্তমানে মো: আসাদ উল্লাহ যে ভবনটিতে বসবাস করে আসছেন সেই ভবনটির কেয়ার টেকার ভয়ে ভয়ে জানান, এই বিল্ডিংয়ে থাকে দুই টনের এসি চালান। শুধুমাত্র বিদ্যুৎবিল দেন কোন ভাড়া দেন না। এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও ভয়ঙ্কর মাদক ব্যবসায়ী ও কয়েকজন সাংবাদিকের ছত্রছায়ায় সে তার এ সকল অপরাধ করে যাচ্ছে।

অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর সম্প্রতি আবেদন করা হয়েছিল জঙ্গী সন্দেহের অবসানে সঠিক নাম পরিচয় জানার। কিন্তু উজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান সাদী তদন্ত করার জন্য গজারিয়া থানা পুলিশের কাছে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু গজারিয়া থানা পুলিশ সেই বিষয়টিরও কোন তদন্ত রিপোর্ট অদ্য পর্যন্ত জমা দেননি। দুইটি অভিযোগেরই তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই উত্তম।

এ ব্যাপারে তথ্য জালিয়াতকারী মো: আসাদ উল্লাহ জানান, আমি এই দেশের স্থায়ী যোগ্য নাগরিক। আমার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে আইসিটি মামলা করতেছি। আমি মামলার করার পরই বুঝতে পারবে আমি আসাদ কি জিনিস।

এ বিষয়ে গজরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি (পরিদর্শক তদন্ত) মামুন আল রশিদ জানান বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তদন্ত কর্মকর্তা এস. আই উত্তমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার উপর চাপিয়ে দিয়েন না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেভাবে বলবে সেভাবেই তদন্ত করবো।