আইসিটি মামলা করে ফেঁসে গেলেন আমার বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশকসহ ৬ জন॥ গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করলো সাইবার ট্রাইব্যুনাল

এসএসসি, এইচএসসি ও ডিগ্রী পরীক্ষায় পাসের জাল সনদ দিয়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত আমার বার্তা নামে একটি দৈনিকের সম্পাদক ও প্রকাশক। বিষয়টি এখন সত্যিতে রুপান্তরিত হতে যাচ্ছে। তিনটি শিক্ষা সনদ জাল করে পুলিশের এসবি, এনএসআই ও তথ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের পাঁচ পাঁচটি বিভাগকে বোকা বানিয়েছেন দৈনিক আমার বার্তা’র সম্পাদক মো. জসীম। এ বিষয়ে গজারিয়া নিউজ ডট কমের সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইসিটি মামলা করে মো: জসিম। দীর্ঘদিন মামলার কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন মিথ্যা মামলার আসামী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর-২০২০) সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে আমার বার্তা সম্পাদকের সকল সনদ নিয়ে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও সে হাজির হয়নি।

আমার বার্তা সম্পাদকের সকল কার্যক্রম সম্পাদন করে আসছিলো গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া গ্রামের নিজামুল হাসান শফিক (৫০)। কাগজে কলমে সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জসিম থাকলেও সকল অপকর্ম করেছেন শফিক। দ্বিতীয় স্থানীয় সাংবাদিক মকবুল (৪২), নাছির (৩২), জাকির (৫০) যিনি বর্তমান খুনের মামলার পলাতক আসামী। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী আব্দুল আজিজ মাহফুজ (৬০), আমার বার্তা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জসিম (৪৫) এই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আইসিটি ট্রাইব্যুনাল গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন।

আমার বার্তা সম্পাদকের সার্টিফিকেট জালিয়াত চক্রের সাথে সম্পৃক্ত গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া গ্রামের নিজামুল হাসান শফিক, রসুলপুরের জাকির দর্জি ও টেকপাড়ার মুকবুল হোসেন মুকুল।

এসএসসি, এইচএসসি ও ডিগ্রী পরীক্ষায় পাসের জাল সনদ দিয়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত আমার বার্তা নামে একটি দৈনিকের সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জসিম। এই সংবাদ প্রকাশ করেন গজারিয়ার একটি অনলাইনে। সেই নিউজের ভিত্তিতে পোটালটির সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে আইসিটি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন মো: জসিম। দীর্ঘদিন লড়াইয়ের পরে প্রমাণিত হতে যাচ্ছে তার সকল সনদই জাল। তার কোন সার্টিফিকেট নিয়ে আদালতে উপস্থিত হতে পারেন নি। কয়েক দফা তারিখ দিলেও তিনি তার জাল সার্টিফিকেট নিয়ে হাজির হননি। ফলে জাল সনদ জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকা ছয় জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল।

দৈনিক আমার বার্তার ডিক্লারেশন পেতে করা আবেদনপত্রের সাথে দাখিল করা তিনটি শিক্ষা সনদের মধ্যে ১৯৯৪ সালে এসএসসি পাসের সনদ নিরীক্ষার পর ‘ভেরিফাইড এন্ড ফাউন্ড ফেক’ বলে লিখিত মন্তব্য করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-নিয়ন্ত্রক মাসুদা বেগম। ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পাস করা দেখানো জাল সনদে উল্লেখ করা রোল নম্বরটি (৩২৭৩০৫) ছিল পদ্মা কলেজের শিক্ষার্থী মো. মোজাফ্ফর হোসেনের। ঢাকা কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম জালিয়াতি করতেও চিন্তা করেননি মো. জসীম । ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী পরিচয়ে ১৯৯৮ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রী পাস সনদটি দেখলেই বোঝা যায় এটি জাল।