গজারিয়ায় দুই সন্তানের জননীকে পরকিয়ার অভিযোগে খুন!

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পরকীয়ার জেরে খুন হয়েছেন দুই সন্তানের জননী নাসরিন বেগম (৩৫)। তার স্বামী হেদায়াত উল্লাহ পিতা মৃত হাজী আ: লতিফ মাস্টার একজন গার্মেন্সের শ্রমিক। সোমবার (২২ জুন) অনুমান রাত সাড়ে ১২টার সময় উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নে ষোলআনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নাসরিন বেগমের নানদের জামাই মো: আলমগীর (৪০), ভাগিনা শাফায়াত উল্লাহ (২২) পিতা মৃত মোশাররফ হোসেন, সাফিয়া (৪০) স্বামী মৃত মোশাররফ হোসেন, শাহিনা (৩৫) স্বামী আলমগীর হোসেন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

নিহত গৃহবধূর শ্বাশুড়ি মাফিয়া আক্তার (৭৫) জানান, সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তার পুত্রবধু ঘর থেকে বাহিরে যায়। প্রায় দেড় ঘন্টা পরে জিসান ও তার পুত্রবধু নাসরিন ঘরের ভিতর প্রবেশ করে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এবং মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে সারমিনের হাতে পোচাইতে থাকে। পরে শ্বাশুড়ি এগিয়ে গেলে শ্বাশুড়িকে জিসান কিল-ঘুষি মেরে পালিয়ে যায়। এ সময় তার পুত্রবধু নাসরিনের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন দেখা যায়। পরে নাসরিনের অবস্থা অবনতি হলে পাশের বাড়ির লোকজনের সহয়তা গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎস মৃত্যু ঘোষনা করে।

তিনি আরো জানান জিসানের সাথে তার পুত্র বধু নাসরিনের দীর্ঘ দিনের অবৈধ সম্পর্ক ছিলো। তার ছেলে হেদায়েত উল্লাহ ঢাকা একটি গার্মেন্স কোম্পানিতে চাকুরী করে। পরে তার ছেলে বিষয়টি জানতে পেরে গত চারদিন আগে গজারিয়া থানায় জিসানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এএসআই মনির পরকিয়ার বিষয়টি নিয়ে রাত ৯টায় তদন্ত করে তার সত্যতা পান। পরকিয়ার বিষয় নিয়ে এলাকায় একাধিকবার বিচার শালিস হয়েছে বলেও জানান তিনি। এই ঘটনায় জিসান একবার বিষ পান করে আত্মহত্যারও চেষ্টা করে বেঁচে যায়।

এমন অভিযোগও উঠছে শারিরিকভাবে নির্যাতন করে এবং যৌন নির্যাতন করে নাসরিনকে মেরে ঘরে ফেলে রাখা হয়েছে। বিষয়টি খুবই রহস্যজনক বলে মনে করছে এলাকাবাসী। পরকীয়ার কারণে স্থানীয়দের নাসরিনের শ্বশুর বাড়ির লোকদের প্রতিও আঙ্গুল তুলেছেন কেউ কেউ। বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করলেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

বিষয়টি এখন খুবই রহস্যের দানা বাঁধছে। খুন কে করছে? প্রেমিক জিসান? না শ্বশুরবাড়ির লোকজন?

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গজারিয়া থানার এসআই জামাল জানায়, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরুদ্ধকরে হত্যা করা হয়েছে নাসরিনকে। লাশ মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেলে বলা যাবে হত্যা না আত্মহত্যা।