১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

সর্বশেষ খবর

গজারিয়ায় টেংগারচর রাজিয়া কাদের স্কুলের জমি জবর দখল করে নেয়ার পায়তারা দাইয়ান সর্দার ও চেয়ারম্যানের

জমির মালিক না হয়েই দুই পক্ষই জমি দখল করার চেষ্টা। মন্ত্রীর এপিএস লগডাউন পরিস্থিতিতে ১৫/২০টি মটর সাইকেল নিয়ে মহরা দিতে গেলে চেয়ারম্যানের ভাতিজা ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলেন। এপিএস মোটর সাইকেল বাহিনী দেখতে পেয়ে চেয়ারম্যানের ভাতিজাকে মারধর করে মোবাইল কেড়ে নেয়। পরে চেয়ারম্যানের লোকজন ও এলাকার লোকজন এপিএস ও বহিরাগতদের মটর সাইকেলের উপর হামলা ঘটনা ঘটায়। হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কায়েকজনকে আসামী করে থানায় মামলা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার টেংগারচর এলাকায় রাজিয়া কাদের উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৫৩ শতাংশ জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। আর এস রেকর্ডিয় ৬০০ দাগে ১৭শতাংশ এপিএস ফরহাদের দাদা চান মিয়া সর্দার ও আফসার উদ্দিন সর্দারের ক্রয়কৃত ১৭ শতাংশ জায়গাই লিখে দান করেন সংশ্লিট দাগে নিঃসত্তবান হন। কিভাবে ভূয়া কাগজ তৈরী করে মন্ত্রীর এপিএস ও মামলার বাদী ফয়সাল এর বাবা দাইয়ান সর্দার গং নামে সাড়ে ৮শতাংশ জায়গা খারিজ করে জবর দখলের পায়তারা করেন। প্রধান শিক্ষক বলেছেন দাইয়ান সর্দারের কোন জায়গা স্কুলের ভিতরে নেই।

স্থানীয় ও পুলিশ থেকে জানা যায়, ৩০ মার্চ অভিযোগ দিলে সেই অভিযোগের আলোকে তদন্ত্র করতে যান এস.আই ডালিম। সেখানে ২০টি মটর সাইকেল এক কথায় হোন্ডা বাহিনী নিয়ে মহরা দেয় ফয়সাল ও ফরহাদ গ্রুপের সমর্থকরা। হোন্ডা মহরার ছবি তোলে সালাউদ্দিন চেয়ারম্যানের ভাতিজা। সেই ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে অভিযোগে থানায় মামলা হয়। মামলায় দেখানে হয় ১০/১২টি মটর সাইকেল ভাংচুরে অভিযোগ হয়েছে।

স্কুলটিতে দাইয়ান সর্দারের কোন সম্পত্তি অবশিষ্ট নেই। স্কুল কমিটির সভাপতি ঢাকায় থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দাইয়ান সরদার ও তার ছেলেরা অন্যায়ভাবে অবৈধ কাগজপত্র তৈরী করে ছেলেদের নামে লিখে নেয়ার পায়তারা করছে বলে একাধিক সূত্র থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরদিকে যারা রাস্তা নির্মাণ করার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন তারাও স্কুলের জায়গা দিয়েই জোড়পূর্বক রাস্তা নির্মানের পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি।

অপরদিকে চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন ও তার দলবল নিয়ে এখান থেকে তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য একটি রাস্তা তৈরী করার পরিকল্পনা করে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে মস্ত্রীর এপিএস ফরহাদের ভাই ফয়সাল তার পৈত্রিক জমির উপর দিয়ে জোড়পূর্বক রাস্তা করতেছে মর্মে থানায় অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের আলোকে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ঘঠনাস্থলে যান তদন্ত করতে। কিন্তু ঘঠনাস্থলে পূর্বেই বিক্রিকৃত সম্পত্তি দখল করার নিমিত্তে বিশাল একট হোন্ডা বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির বাদী ফয়সাল ও মন্ত্রীর এপিএস ফয়সালের ভাই ফরহাদ সরদার ও তার দলবল।

কিভাবে তারা সাড়ে ৮ শতাংশ জায়গা খারিজ করেছে তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখলেই মন্ত্রীর এপিএস ফরহাদের লম্বা হাতের বিষয়টি বেরিয়ে আসবে বলেও সচেতন মহল মনে করেন। এপিএস ফরহাদের ভাই ফয়সাল বাদী হয়ে এজহারে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ৪/৫ জন অজ্ঞাত রেখে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে গজারিয়া থানায়।

অভিযোগকারী ফয়সাল জানান, তাদের সাড়ে ৮শতাংশ জায়গা রয়েছে স্কুলের পার্শ্বে। সেই জায়দায় সালাউদ্দিন চেয়ারম্যানের ছেলে সোহেল, সুমন, মামুন রাস্তা নেয়ার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে। টেংগারচর হাইস্কুলের পাশ্ব সড়ক তৈরী করতে ছিল। তার অভিযোগ বিভিন্ন মডেলের ১০টি মটর বাইক ভাংচুর করেছে চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসীরা। এজন্য থানায় মামলা করেছি। তার বাবা দাইয়ান সর্দারকেও ১৭ শতাংশ বিক্রি করার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেন নি।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি সাহেব জানান, ১৭ শতাংশসহ সর্বমোট স্কুল জায়গা ১৫৩ শতাংশ। এই জায়গা স্কুলের নামে খারিজ করা আছে। প্রতিবছরই ১৫৩ শতাংশের খাজনা প্রদান করে আসছি। এই জায়গার মধ্যে দাইয়ান সর্দারের কোন সম্পত্তি নেই। স্কুলের জায়গা উভয় পক্ষই দখল করার পায়তারা করছে বলে আমার মনে হচ্ছে।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল হোসেন গজারিয়া নিউজকে জানান, জনস্বার্থে রাস্তা করতে হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটির সাথে বসে আলোচনা সাপেক্ষে সমঝোতা করে রাস্তা নির্মাণ করবে। সেটা না করে সে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করতে যাওয়ায়ই এই ঘটনাগুলো ঘটেছে। মামলার আইও এসআই ডালিম বলছেন অভিযোগের ভিত্তিতে আর ওসি বলছেন জিডির ভিত্তিতে।এখানে প্রশ্ন হলো ওসি সাহেব যে অভিযোগে তদন্ত করতে গেলেন সেই অভিযোগের কোন অস্তিত খুজে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রা্জিয়া কাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রফেসর ডা: সরদার আব্দুল নাঈম জানান, আমার স্কুলের জায়গা স্কুলেই থাকবে। এখান থেকে কোন রাস্তা তৈরী করতে দেয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে গজারিয়ায় আলোচনার ঝড় বইছে। জায়গা স্কুলের দখল করতে চায় দুইটি গ্রুপ। স্কুলের জায়গা নিয়ে এক গ্রুপ আবার অন্য গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলাও দেয় কিভাবে? বিষয়টি সর্বত্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Latest Posts

spot_imgspot_img

আলোচিত খবর