চাঁদাবাজী বন্ধ ও অবৈধ গ্যাস সংযোগের টাকা ফেরত চাওয়াই কাল হল বি. আলমের

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে বুধবার ভোরে সন্ত্রাসী রাসেল বাহিনীর হামলায় আহত একজনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম বি. আলম (৩৫)। সে সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগের গজারিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। গজারিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয় টায় মারা যান তিনি। শুক্রবার বাদ আছর জানাজা দিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে পরিবার। রাসেল আলুর ট্রলি ও বালু ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজী ও বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের অবৈধ গ্যাস সংযোগের ৩২লাখ টাকাই কাল হয়ে অকালেই বি আলমের জীবনের প্রদীপ নিভিয়ে দিল সন্ত্রাসী বাহিনী।

রাসেল দীর্ঘদিন ধরে ইমামপুর ইউনিয়নের রাসুল গ্রামে চাঁদাবজী করে আসছিল। মিলন মিজি ও বি. আলম ও আলমের ভাই মকসুদ মোল্লা রাসেলের চাঁদাবাজী বন্ধ করে। অপরদিকে বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান রসুলপুর এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়ার জন্য জনপ্রতি ২৫০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা করে নেয়। ৪০০ রাইজারের পিছনে সর্বমোট ১ কোটি টাকা ওঠে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়ার জন্য। এই এক কোটি টাকা তুলে দেয়ার কাজটি করেন মারুফ মিয়াজী ও মকসুদ মোল্লা। গ্যাসের সংযোগ দিতে সর্বমোট প্রতি রাইজারে ১৭০০০ টাকা করে ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অবশিষ্ট ৩২ লাখ টাকার কোন হিসাব দিচ্ছিল না বিএনপি নেতা মজিবুর রহমান। এই ৩২ লাখ টাকা উত্তোলনের দাবীতে এলাকাবসী ঝাড়ু মিছিল করে। পরবর্তীতে এই ঝাড়ু মিছিলের জের হিসেবে মোহন মিয়াজি ও মিলন মিয়াজীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে আক্রমনাত্মক লিখালিখা করে মজিবুর রহমান গ্রুপ। বিষয়টি নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান ৩২ লাখ টাকা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করার জন্য সন্ত্রাসী রাসেল গ্রুপের সাথে যোগাযোগ করে। রাসেল গ্রুপ তখন রসুলপুর এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজী শুরু করে।

মিলন মিয়াজী জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মারুফ মিয়াজীকে মারধর করে ৭লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ এনে গজারিয়া থানায় একটি মামলা করা হয়। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ রাসেল ও মামলার অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করার দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানব বন্ধন করে।

মিলন মিজি আরো জানান, রাসেলের বিরুদ্ধে মামলার স্বাক্ষী জমশেদ আলীর ছেলে রাজীব সাক্ষী হওয়ার জের হিসেবে এবং মকসুদ এবং বি. আলমের সাথে থানায় আসা যাওয়া করার কারণে স্বাক্ষী রাজীবের বাবা জমশেদ আলী, বি.আলম ও মিলন মিজির বাড়ীতে একই সময় হামলা করে রাসেল ও বিএনপি নেতা মজিবুর বাহিনী। তিনটি বাড়ির লোকজনই ঘুমের মধ্যে ছিল। মিলন মিজি মসজিদে নামাজ না পড়ে বাড়িতেই নামাজ পরে হামলার খবর পেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান, মিলন মিজির স্ত্রী জানান, ভোর ৬টার সময় তার বাড়ির দরজা ধাক্কায় এবং বলে মিলন মিজি কোথায় তোর মজিবুর বাবা ও রাসেল বাবা আসছে। পরে ঘরে প্রবেশ করতে না পেরে জানালা দিয়ে গুলি করে এবং জিজ্ঞেস করে মিলন মিজির কাথা, মিলিন মিজি বাড়িতে নাই জেনে মিলিন মিজিকে মেরে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

অপরদিকে রাসুলপুরের মকসুদ মোল্লাকে হাত্যার টার্গেক করে অপর একটি গ্রুপ একই সময়ে হামলা করে মকসুদ মোল্লার বাড়িতে। তাকে না পেয়ে ভাই বি.আলমের দোতলার কক্ষে প্রবেশ করে ঘুমের মধ্যেই বি.আলমকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। দুই পায়ের রগ কেটে দেয় এবং মাথায় আঘাত করে থেতলে দেয়। হাসপাতালে নেয়ার পরে ত্রিশটি সেলাই দিতে হয় তার মাথায়।

মামলার স্বাক্ষী রাজিবের বাবা জমশেদের বাড়ীতে আরো একটি গ্রুপ এই সময় হামলা করে শমসের মোল্লাকে এলোপাথারি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তিন বাড়িতে হামলায় ৯জন আহত হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া সার্কেল অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আশফাকুজ্জামান শুক্রবার জুমার নামাজের পূর্ব মুহুর্তে বি. আলমের বাড়ী পরিদর্শন করেন এবং নিহতের স্ত্রী, মা ও ভাই মকসুদের সাথে কথা বলে শোক শন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ও সন্ত্রাসী রাসেলসহ সকল আসামীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ^াস দেন। নিহতের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পরিমানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।