গজারিয়ায় সংঘর্ষে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র গুলি উদ্ধারে তৎপরতা নেই পুলিশের

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন:
চৈত্রের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সোলেমান লেংটার মেলায় যাতায়তের খেয়া পাড়ের ইজারা পরিশোধ নিয়ে বিতর্কের জের ধরে ৭ এপ্রিল শনিবার গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অস্ত্র প্রদর্শন ও আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি ছোড়ে আতংক ও ভীতি ছড়ানোর ঘটনার দুই সপ্তাহ পার হলেও কোন অস্ত্র উদ্ধার বা অবৈধ অস্ত্রধারী আটক হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত অস্ত্র গুলি উদ্ধার ও কেউ আটক না হওয়ায় জনমনে ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী পুলিশ অফিসার গজারিয়া থানার এস আই মো: ওয়ালিয়ূর রহমান জানান, ওই দিনের ঘটনায় উভয় পক্ষ পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেছে থানায়। দুটি অভিযোগের কোনটিই মামলা হিসেবে নথিভূক্ত হয়নি গতকাল পর্যন্ত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চৈত্র মাসে মতলব থানার বেলতলীতে অনুষ্ঠিত সোলেমান শাহ (লেংটা ফকিরের) বার্ষিক মেলায় যাতায়তকারী মানুষদের কাছে গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন ঘাটের ইজারাদার চক্র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চৈত্রের শেষ সপ্তাহে সোলেমান লেংটার মেলায় যাওয়ার পথে খেয়া ঘাটের ইজারাদারের নিয়োজিত গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে জামাল মিয়া একই ইউপি‘র বালুচর গ্রামের ইন্নত আলীর ছেলে কালু মিয়াকে মারধর করে।
কালুকে মারধরের জের ধরে ৭ এপ্রিল শনিবার বালুচর গ্রামে পেয়ে জামাল মিয়াকে মারধর করে কালুর লোকজন ।
জামাল মিয়া তাকে মারধরের প্রতিশোধ নিতে ওই দিনই তাঁর দলের পিয়াস,মামুন, নয়ন ও রিপনের নেতৃত্বে দশ থেকে বার জনের একটি দল আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত হয়ে বালুচর গ্রামের কালুর বাড়িতে আক্রমন করে নাসির মুন্সী ও মজিবুর রহমানসহ চারজনকে আহত করে।

এ সময় বালুচর গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে জামাল মিয়ার দলের সদস্যদের ধাওয়া দিলে তাঁরা একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়ে আতংক ও ভীতি প্রদর্শন করে ফিরে যায়।
এ দিকে জামাল মিয়া তার ভাই রায়হানকে বাদী করে ঘটনার পর দিন রোববার কালুসহ কয়েকজনকে বিবাদী করে গজারিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে তাকে মারধর ও টাকালুটের উল্লেখ করে । স্থানীয়রা একে শাঁক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
একই দিনের অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি ছোরার ঘটনায় কালু মিয়া বাদী হয়ে আরো একটি অভিযোগ করে গজারিয়া থানায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের একাধিক সদস্য (মেম্বার)নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধির পরোক্ষ সহযোগিতায় জামাল, রিপন, পিয়াস ও মামুনের নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র দল গুয়াগাছিয়া এলাকার নদী পথে যাতায়তকারী নৌযান থেকে দীর্ঘদিন চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে।
স্থানীয় প্রশাসন প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা নিয়েছে এমন তাঁরা জানেন না।
সার্বিক বিষয়ে আজ শুক্রবার গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: হারুন অর রশিদ জানান, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রুপটি অধিকাংশ সময় চাঁদপুরের মতলব এলাকায় অবস্থান করে। তাঁরা হুটহাট করে নদী পথে এসে আমাদের থানা এলাকায় ঢুকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে চলে যায়। তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।