আমার বার্তা সম্পাদক জসিম একজন প্রতারক

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
মো : জসিমের এসএসসি সার্টিফিকেটে স্কুলের নাম লেখা রয়েছে ভাটারচর দে এ মান্নান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। পিতার নাম জানে আলম। কিন্তু স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফারজানা ইয়াসমীন লিখিতভাবে জানিয়েছেন মো: জসিম, পিতা জানে আলম নামে কোনো শিক্ষার্থী তাদের স্কুলে ছিল না।

স্কুলটি মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলায় অবস্থিত। মো : জসিমের এসএসসি সনদে পাসের সাল ১৯৯৪ এবং রোল নম্বর লেখা রয়েছে ৩০১০১১। স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফারজানা স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রে উক্ত সন, রোল নম্বর, পিতার নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে জসিম নামে কোন শিক্ষার্থী তাদের স্কুলে পড়ালেখা করেছে এ মর্মে তাদের স্কুলে কোনো তথ্য নেই।

আরো মজার তথ্য হলো ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে যাচাই শেষে জসিমের এসএসসি সনদের পাশে লেখা হয়েছে ‘ফেক’ । মানে জসিমের এসএসসি সনদ জাল। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উপনিয়ন্ত্রক মাসুদা বেগমের স্বাক্ষরে এ মন্তব্য করা হয়েছে।

মো: জসিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তার সাথে জমা দেয়া কাগজপত্রে এ তথ্য রয়েছে। জসিমের এইচএসসি সনদে কলেজের নাম লেখা রয়েছে ঢাকা কলেজ। রোল নম্বর ৩২৭৩০৫। পাসের সন ১৯৯৬। যাচাই শেষে ধরা পড়েছে জসিমের সনদের রোল নম্বরটি প্রকৃতপক্ষে মো : মোজাফফর হোসেন নামে আরেক শিক্ষার্থী। তার মানে জসিমের এইচএসসি সনদটিও জাল। এভাবে জসিমের ডিগ্রী সনদটিও জাল বলে উল্লেখ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগপত্রে। জসিমের সনদ জালিয়াতিসহ আরো বিভিন্ন ধরনের প্রতরাণার অভিযোগ দুদক ছাড়াও, তথ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নিজেনারেল কার্যালয়, অতিরিক্ত আইজিপিসহ সংম্লিষ্ট বিভিন্ন অফিসেন জমা দেয়া হয়েছে।

জসিমের এলাকার সূত্র জানিয়েছে প্রকৃতপক্ষে সে প্রাইমারি স্কুলের গন্ডিও অতিক্রম করেনি। কিন্তু ডিগ্রী পর্যন্ত জাল সনদ তৈরি করে সে নানা ধরনের প্রতারণা করে আসছে।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে জসিম এসব জাল সনদ জমা দিয়ে ঢাকা থেকে একটি দৈনিক পত্রিকার নামে ডিক্লারেশন নিয়েছেন যার সম্পাদক ও প্রকাশক সে নিজে। রাইসা ফিল্ম প্রডাকশন, রাইসা ট্রাভেলস (হজ এজেন্সি), মগবাজারে রেকডিং স্টুডিও সমৃদ্ধ ফোকাস মাল্টিমিডিয়া নামে তার নামে প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জসিম পত্রিকার নামে সচিবালয় থেকে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড (সাংবাদিকদের সরকারি পরিচয়পত্র) সংগ্রহ করে তা বিভিন্নজনকে বিতরণ করেছেন যারা এ কার্ড দেখিয়ে অবাধে যখন খুসী সচিবালয়ে প্রবেশ করতে পারছে। জসিম মূলত সাংবাদিকতার জন্য তাদেরকে এ কার্ড দেননি বরং তাদেরকে দিয়ে বিভিন্ন তদ্বিরের জন্য সচিবালয়ে পাঠায়। অনেককে নানা ধরনের অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে জসিম কাজ আদায় করেন। এ ছাড়া জসিম তার বহুমুখী জালিয়াতি, প্রতারণা, অপকর্ম নির্বিঘেœ পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিবর্গকে নানা ধরনের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে থাকে ।

দায়ের করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে পত্রিকার স্টিকার ও সাংবাদিক পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কয়েকটি রুটে গাড়ি পরিচালনা করছেন জসিম। জসিমের ভাই লিটনের তত্ত্বাবধানে পত্রিকার স্টিকার লাগিয়ে গজারিয়া ঢাকা রুটে মাইক্রোবসা চলাচল করছে।
অভিযোগে জসিমের জাল সনদ চক্রের সাথে গজারিয়ার নিজামুল হাসান শফিক, জাকির দর্জি ও মকবুল হোসেন মুকুলের নাম উল্লেখ রয়েছে। জসিম নিজেকে সরকার দলীয় লোক পরিচয় দিয়ে এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের নাম ভাঙ্গিয়ে নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে। পত্রিকায় লেখা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অনেককে জব্দ করে টাকা আদায় করেছেন। তার প্রতারণার কারনে মানসম্মান নিয়ে শঙ্কিত তার এলাকার অনেক গণমান্য ব্যক্তি।

তার গ্রামের বাড়ি ছোট রায়পাড়ায় সরেজমিন তদন্ত করলেই তার প্রকৃত চিত্র বের হয়ে আসবে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান জসিম একসময় মেঘনা ফেরিঘাটে পানি বিক্রি করত। এরপর সে এ কাজ ছেড়ে নানা ধরনের প্রতারণার, জালিয়াতি কাজে লিপ্ত হয়।

মো : জসিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তীব্র উত্তেজনায় ফেটে পড়েন জসিম গালিগালাজ শুরু করেন। তোরে ফাইরা হালামু, তুই আমার সামনে এসে দাড়া, তোর এত বড় সাহস তুই আমাকে ফোন দিয়েছিস, তোর নাম বল, তুই কে তোর পরিচয় আমি তদন্ত করে বের করতেছি । এসময় জসিমকে বলা হয়, আপনি যে ভাষায় কথা বলছেন তা কোনো সাংবাদিক, সম্পাদকের ভাষা হতে পারে না। এটা একজন সন্ত্রাসীর ভাষা। আপনি যে ভাষায় কথা বলছেন তাতে আপনি প্রমান করলেন আপনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য। আপনি একজন প্রতারক, কোনো সাংবাদিক নন। এরপর তাকে শান্ত হতে বলে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগ বিষয়ে জবাব দিতে বলা হয়। তখন জসিম বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভুয়া, মিথ্যা। তার পত্রিকার উন্নতিতে একটি শ্রেণি কাতর হয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।