আমার বার্তা সম্পাদকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
দৈনিক আমার বার্তা’র সম্পাদক ও প্রকাশক মো. জসিমের বিরুদ্ধে নিজ শিক্ষা সনদ জালিয়াতি, ব্যবসায়ীদের সাংবাদিক পরিচয়ে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পাইয়ে দিয়ে সচিবালয়ে নিয়মিত প্রবেশের সুযোগ করে দেয়া, তৎবির বানিজ্য, অবৈধ অর্থ-সম্পদ অর্জনের তদন্ত শুরু হচ্ছে শিগগিরই। তথ্যমন্ত্রী, তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন চেয়ারম্যান, এটর্নি জেনারেল, এসবি প্রধান ও আতিরিক্ত আইজিপি, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির কাছে সুনির্দিস্ট অভিযোগ তদন্তের লিখিত আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী, এনএসআই’র মহাপরিচালক ও ডিএফপি’র মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রসাশকের কাছে দৈনিক আমার বার্তা’র ডিক্লারেশন বাতিলের আবেদনও জানানো হয়েছে। চলতি জানুয়ারির ২৩ তারিখ থেকে এ সব আবেদন জানানো হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, এসএসসি, এইচএসসি ও ডিগ্রী পরীক্ষায় পাসের জাল সনদ দিয়ে দৈনিকের আমার বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. জসিম পুলিশের এসবি, এনএসআই ও তথ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের পাঁচ পাঁচটি বিভাগের সাথে প্রত্যারণা করেছে, মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। দৈনিক আমার বার্তার ডিক্লারেশন পেতে করা আবেদনপত্রের সাথে দাখিল করা তিনটি শিক্ষা সনদের মধ্যে ১৯৯৪ সালে এসএসসি, ১৯৯৬ সালে এইচএসসি ও ১৯৯৮ সালে ডিগ্রী পাস সনদ জাল। তদন্তে শিক্ষা সনদগুলো জাল প্রমানিত হলে বিধিমোতাবেক পত্রিকাটির ডিকলারেশন বাতিল এবং জেল-জরিমানা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় কয়েকজন আইনজীবী।
গজারিয়ার নিজামুল হাসান শফিক দৈনিক আমার বার্তায় ছদ্মনামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশ করে যাচ্ছেন। এসব রিপোর্টে বানোয়াট, মনগড়া তথ্য, অশালীন ভাষা, উদ্দেশ্যপ্রনোদীত ও বিষোদগারের চিত্র স্পস্টই দেখা যাচ্ছে। কোন পেশাদার সাংবাদিকের পক্ষে কোন ভাবেই এমন দায়িত্বহীন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন গজারিয়ার নাগরিক সমাজ। গজারিয়াবাসী জানতে চায় নিজামুল হাসান শফিক কি কারনে জেল খেটেছিলেন, আর তাঁর পেশাই বা কি।
জনমনে প্রশ্ন- স্কুলের বারান্দায় পা না রেখেই কি করে ডিগ্রী পাস করলেন মো. জসিম। এর ওপর দৈনিকের সম্পাদক! পর্যায়ক্রমে চলচ্চিত্র প্রযোজক, হজ্ব এজেন্সি, রেকর্ডিং স্টুডিওর মালিক বনে যান মো. জসিম। আবার সব সময়ই তিনি ছিলেন একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক। চেহারা বদলে এখন হয়েছেন আওয়ামী লীগের সমর্থক। দৈনিক আমার বার্তার বিগত ৬ মাসের সংখ্যাগুলোতে গজারিয়া আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে বিষোদগার করেছেন। গজারিয়ায় সাংবাদিকদের বড় অংশই মনে করে সরকারের গোয়েন্দা তদন্ত হলে আমার বার্তা সম্পাদকের আসল রূপ প্রকাশ পাবে।