আমার বার্তা সম্পাদকের সব সনদই জাল !

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সভাপতি, গজারিয়া উপজেলা প্রেসক্লাব, মুন্সীগঞ্জ:
এসএসসি, এইচএসসি ও ডিগ্রী পরীক্ষায় পাসের জাল সনদ দিয়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত আমার বার্তা নামে একটি দৈনিকের সম্পাদক ও প্রকাশক! তিনটি শিক্ষা সনদ জাল করে পুলিশের এসবি, এনএসআই ও তথ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের পাঁচ পাঁচটি বিভাগকে বোকা বানিয়েছেন দৈনিক আমার বার্তা’র সম্পাদক মো. জসীম ।
দৈনিক আমার বার্তার ডিক্লারেশন পেতে করা আবেদনপত্রের সাথে দাখিল করা তিনটি শিক্ষা সনদের মধ্যে ১৯৯৪ সালে এসএসসি পাসের সনদ নিরীক্ষার পর ‘ভেরিফাইড এন্ড ফাউন্ড ফেক’ বলে লিখিত মন্তব্য করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-নিয়ন্ত্রক মাসুদা বেগম। ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পাস করা দেখানো জাল সনদে উল্লেখ করা রোল নম্বরটি (৩২৭৩০৫) ছিল পদ্মা কলেজের শিক্ষার্থী মো.মোজাফ্ফর হোসেনের। ঢাকা কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম জালিয়াতি করতেও চিন্তা করেননি মো. জসীম । ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী পরিচয়ে ১৯৯৮ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রী পাস সনদটি দেখলেই বোঝা যায় এটি জাল।
মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নে তার গ্রামের বাড়ী ছোট রায়পাড়াতে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে মো. জসীমের বাবা জানে আলম গ্রামের চৌকিদার হিসেবে চাকরির আগে মেঘনা নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলার কাজ করতো । ঐ সময়ে কিশোর জসীম বাবার সাথে থেকে নদীর পাড়ে খাবার পানি বিক্রি করতো। বখাটে প্রকৃতির হওয়ায় জসীমকে স্কুলে পাঠাতে পারেনি বাবা-মা। কখনো ফেরিওয়ালা আবার কখনো হকার হিসেবে কেটে যায় তার ১০/১২ বছর। তরুণ বয়সে রাজধানী ঢাকা এসে ড্রাইভিং শিখেন তিনি। চাকরি নেন। এরই মধ্যে আলাদীনের প্রদ্বীপ পেয়ে যান জসীম, মাত্র ৫/৬ বছরের মধ্যে দৈনিক পত্রিকার প্রকাশক, পর্যায়ক্রমে চলচ্চিত্র প্রযোজক, হজ্ব এজেন্সি, রেকর্ডিং স্টুডিওর মালিক বনে যান এই বিতর্কিত যুবক মো. জসীম ।
দৈনিক আমার বার্তার প্রকাশক, রাইসা ফিল্ম প্রোডাকশন (চলচ্চিত্র প্রযোজক), রাইসা ট্রাভেলস (হজ্ব এজেন্সি), ঢাকার মগবাজারে রেকর্ডিং স্টুডিও সমৃদ্ধ ফোকাস মাল্টি মিডিয়ার মালিক মো. জসীমের বৈধ আয় তেমন নেই। তার ব্যাংক হিসাব ও আয়কর তথ্য দেখলেই এর সত্যতা মিলবে। কিন্তু তার বিলাসী জীবনযাত্রা নানা প্রশ্নের সৃস্টি করেছে যা তদন্তের দাবি রাখে। এলজিআরডি মন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, যুবলীগের কয়েকজন নেতা, পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকার্তার নাম ভাঙ্গিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন রাজধানী। একদল তৎবিরবাজকে আমার বার্তার সাংবাদিক পরিচয়ে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পাইয়ে দিয়ে তাদের দিয়ে সচিবালয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন তৎবির বানিজ্য। দৈনিক আমার বার্তার স্টিকার লাগিয়ে রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি জেলায় চলাচল করছে সাংবাদিক পরিচয় দেয়া কয়েক ব্যাবসায়ির ব্যাক্তিগত গাড়ী। জসীমের সহদর লিটনের তত্বাবধায়নে দৈনিক আমার বার্তার স্টিকার লাগিয়ে গজারিয়া-ঢাকা সড়কে ভাড়ায় চলাচল করছে কয়েকটি মাইক্রোবাস। সার্টিফিকেট জালিয়াত চক্রের সাথে সম্পৃক্ত গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া গ্রামের নিজামুল হাসান শফিক, রসুলপুরের জাকির দর্জি ও টেকপাড়ার মুকবুল হোসেন মুকুলের সাথেও রয়েছে জসীমের রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ###