স্বাস্থ্য গুণে টইটম্বুর কমলালেবু

শীতের দুপুরে বা পিকনিকের ব্রেকফাস্টের মেনু, কমলালেবু ছাড়া ভাবাই যায় না৷ পুষ্টিগুণও প্রচুর৷
ছোটবেলার কথা মনে পড়ে? শীতের দুপুরে রোদ পোয়াতে পোয়াতে কমলালেবু খাওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের সবারই আছে৷ শীতের এই ফলটি অনেকেরই খুব প্রিয়৷ আর কমলালেবু শুধু ফল হিসেবেই খেতে হবে তা নয়৷ রান্নাতেও কমলালেবু ব্যবহার করা যেতে পারে৷

অরেঞ্জ চিকেন, কমলালেবুর কেক বা সন্দেশও খেতে সুস্বাদু৷ আবার অন্যান্য মৌসুমি ফলের টুকরোর সঙ্গে কমলালেবুর কোয়া মিশিয়ে ফ্রুট স্যালাডও তৈরি করা যেতে পারে৷ তাই শীতকালভর এই মৌসুমি ফলটিকে আপনার খাবারের তালিকায় জায়গা দিতে পারেন৷

কমলালেবুর পুষ্টিগুণের কথা বলতে হলে প্রথমেই বলতে হয়, এই ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি৷ অ্যান্টি অক্সিডেন্টেরও উপকারিতা মিলবে এই ফলটি থেকে৷ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের টক্সিন দূর করে, ইমিউনিটি সিস্টেমকে মজবুত করে তোলে৷ শীতকালে আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেম এমনিতেই দুর্বল থাকে৷ তাই শরীরে নিয়মিত অ্যান্টি অক্সিডেন্টের উপাদানের যোগান থাকা জরুরি৷ তাছাড়া ভিটামিন সি ঠাণ্ডা লাগার হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে৷ শীতকালে প্রায়ই সর্দি-কাশি হয়৷ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট তা প্রতিরোধে সাহায্য করে৷ ভিটামিন সি আমাদের শরীরের কোষগুলিকেও সুরক্ষিত রাখে৷ তাতে যেমন ক্যান্সারের মতো রোগকে প্রতিরোধ করা যায়, তেমনই আমাদের ত্বকও ভালো থাকে

ভিটামিন সি ছাড়াও অন্যান্য ভিটামিনের গুণও এই ফলটিতে রয়েছে৷যেমন ভিটামিন-এ৷ কমলা লেবুতে রয়েছে ফাইবারের পুষ্টিগুণও৷ তাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে এই মরশুমি ফলটি৷ ফাইবার কনস্টিপেশনের সমস্যার সমাধানেও সহায়তা করে৷ হার্ট ভালো রাখে৷ কারণ এই ফলে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম৷ শরীরে পটাশিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে, হার্ট স্বাভাবিক ভাবে কাজ করে না৷ তাই এই বিশেষ খনিজটি আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়৷ পটাশিয়াম ছাড়াও কমলালেবুতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম৷ এটি ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করে৷

এছাড়াও কমলালেবুতে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও কপারের মতো মিনারেল৷ সমীক্ষা বলছে, ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্টের থেকে, এক গ্লাস কমলার রস অনেক বেশি উপকারী৷ তবে চিনি বা সুইটনার দেওয়া চলবে না৷ অরেঞ্জ জুসের বদলে অরেঞ্জ স্মুদি বানিয়ে খেতে পারেন৷

সূত্র: এই সময়।