ঢাকায় মঙ্গলবার সব ধরণের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ হচ্ছে। দেশের প্রধান দুই দল একই দিন একই ধরণের কর্মসূচি ঘোষণা করায় উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ এ ধরণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সোমবার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘৫ জানুয়ারি সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকতে পারে। এ থেকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া যায় না। পুলিশের কাছে সবচেয়ে বড় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পরস্পরবিরোধী সমাবেশ একই স্থানে, একই সময়ে হবে। সেখানে একে অপরের সঙ্গে হামলা-সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে। এ অবস্থায় জননিরাপত্তার স্বার্থে আমরা কোনো ধরণের সাংঘর্ষিক সমাবেশের অনুমতি দিতে পারি না। নিকট অতীতে আমরা অনেকবার দেখেছি। এ ধরণের কোনো কর্মসূচির অনুমতি আমরা দেব না। সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড যেই করুক, তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, মহানগর পুলিশের কিছু নিয়মকানুন আছে। রমনা ও শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি কী হতে পারে, হুমকি বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। দুই থানার প্রতিবেদন পেলে সমাবেশের অনুমতির ব্যাপারে চূড়ান্তভাবে দুই দলকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, কেউ যদি শান্তিপূর্ণভাবে কোনো কর্মসূচি করে, তাতে পুলিশের বাঁধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে জনগণের বিষয়টিও তাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সংঘর্ষ ও নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করে এরই মধ্যে গোয়েন্দারা প্রতিবেদন দিয়েছে। এ কারণে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত রাজধানীতে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকায় কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, শোভাযাত্রা, মিছিল, র্যালি, গণমিছিল বা জমায়েত করা যাবে না। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হবে।
৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট দিনটিকে ‘সংবিধান সুরক্ষা ও গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ রাজধানীর ১৮ স্থানে সমাবেশ ও র্যালির অনুমতি চেয়েছে। বিএনপিও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চায়।

