নগ্ন নারীর ছবি ছাপাবে না প্লেবয় ম্যাগাজিন

সুন্দরী মডেল কন্যাদের নগ্ন ছবি ছাপিয়ে ও নান্দনিক ডিজাইনের কারণে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়েছিলো পুরুষদের ম্যাগাজিন ‘প্লেবয়’। ম্যাগাজিনটি একটা সময় এতই জনপ্রিয় হয়েছে যে, ৭০’র দশকে এর সার্কুলেশন ছিলো ৫৬ লাখ! তবে তাদের সে জোয়ারে এখন তীব্র ভাটা।

৭০’র দশকের ৫৬ লাখ সার্কুলেশন ২০১৫ সালে এসে ঠেকেছে মাত্র ৮ লাখে। আর তাই ম্যাগাজিনটির কর্তৃপক্ষ এটিকে আবার নতুন করে হাজির করতে চাইছে পাঠকদের কাছে।

এরই অংশ হিসেবে ম্যাগাজিনটির কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা আর নারীদের নগ্ন ছবি ছাপাবে না। তবে একেবারে নগ্ন ছবি না ছাপালেও নারীদের উত্তেজক ছবি ছাপাবে তারা।

বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে এসে ‘প্লেবয়’ এখন আর শুধু একটি ম্যাগাজিনেই সীমাবদ্ধ নেই। তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবেও বেশ সরব তারা। নতুন এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ম্যাগাজিনটি ইতিমধ্যেই তাদের ওয়েবসাইট থেকে নগ্ন নারীদের ছবি ও ভিডিও সরিয়ে নিয়েছে।

মূলত গত মাসেই এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে প্লেবয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান এডিটর-ইন-চিফ হিউ হেফনারও উপস্থিত ছিলেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ বরাত দিয়ে বলেছে, নতুন এসব সিদ্ধান্তের ফলে ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর ম্যাগাজিনটি যে পরিমাণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো, তা আবার ফিরে পাবে।

প্লেবয়ের প্রধান নির্বাহী স্কট ফ্ল্যান্ডার্সের বলেন, বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে আপনি যেকোন ধরণের যৌনতাপূর্ণ ছবি থেকে মাত্র এক ক্লিক দূরে। ব্যাপারটি এখন একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।

তিনি বলেন, একটা সময় মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, ম্যালকম এক্স এবং জিমি কার্টারের মত ব্যক্তিদের ছবিসহ সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে প্লেবয় ম্যাগাজিনে। সেসব সাক্ষাৎকার ম্যাগাজিনটিকে সাংস্কৃতিকভাবে এবং রাজনৈতিকভাবে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু এখর আর সেসব দিন নেই।

নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে নগ্ন ভিডিও সরানোর পর ওয়েবসাইটটির ভিজিটর অন্তত চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই যৌনতার সমার্থক হয়ে আছে প্লেবয় ম্যাগাজিনটি। ম্যাগাজিনটির এ রুপের সাথেই পরিচিত এর পাঠকরা। এখন ম্যাগাজিনটির ৮৯ বছর বয়সী সম্পাদক হিউ হেফনারের নতুন সংস্কার কর্মসূচি এটিকে কতটা জনপ্রিয় করে তুলবে, তা সময় বলে দেবে।

সূত্র: বিবিসি।