বুড়ি আপার বিয়ে || ইবনুল কাইয়ুম

সান্টুদের পাড়ায় বাড়ি বুড়ি আপাদের। বুড়ি আপার নামটা কেনো বুড়ি হলো সান্টুর কাছে সে এক বিষ্ময়। কারণ বুড়ি আপা মোটেও বুড়ি নন। তা ছাড়া দেখতেও খুবই সুন্দরী। এমন সুন্দরী একটি মেয়ের নাম কিভাবে বুড়ি হয় ভেবে পায় ‍না সান্টু। বুড়ি আপার বিয়ে ঠিক হয়েছে। বিয়ের পর বুড়ি আপা আর এই গ্রামে থাকবে না জেনে সান্টুর খুব খারাপ লাগছে।

ভেতরে ভেতরে সান্টুর খুব মন খারাপ হয়। কোথাকার কোন এক লোক এসে বুড়ি আপাকে নিয়ে যাবে। আর সেখানেই নাকি বুড়ি আপাকে সারা জীবন থাকতে হবে। দাদির কাছে এ কথা শোনার পর থেকেই ওর মন খারাপ। এমন কেনো হবে? একটা মানুষ বাবা-মা, ভাই-বোনকে ছেড়ে আরেক জনের সঙ্গে অন্য কোথাও গিয়ে থাকবে, তাও সারা জীবনের জন্য! ভাবতেই সান্টুর রাগ লাগে।

যে লোকটার সঙ্গে বুড়ি আপার বিয়ে হবে তার ওপর বেশি করে রাগ লাগছে সান্টুর। কি দরকার তার বিয়ে করার? সে বিয়ে না করলে তো আর বুড়ি আপা তাদের গ্রাম ছেড়ে চলে যেতো না। বুড়ি আপাটা কি যে ভালো। বিকেলে কোনো দিন যদি ঘুরতে ঘুরতে সান্টু তাদের বাড়িতে গেছে, ওমনি বুড়ি আপা তাকে ডেকে কিছু না কিছু খেতে দেয়। স্কুলে ভর্তি হয়েছে শুনে খুব আদর করে। বলে ভালো করে পড়াশুনা কর সান্টু। তোকে অনেক বড় হতে হবে। আরো নানা কথা। আর সেই বুড়ি আপা কিনা তাদের ছেড়ে চলে যাবে?

সান্টু সেদিন বিকেলে বুড়ি আপাদের বাড়ি যায়। গিয়ে দেখে এলাহী কাণ্ড। চারিদিকে কেমন যেনো উৎসবের আমেজ। বুড়ি আপাদের বাড়িতে পাড়ার সকল ছেলেমেয়েদের ভিড়। সবাই কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত। সেই সঙ্গে ছোটাছুটি, হৈ হল্লা, রং মাখামাখি… বাড়ি একেবারে গম গম করছে। মাইকে গান বাজছে- হলুদ বাটো, মিন্দি বাটো… সান্টু চেয়ে চেয়ে দেথতে থাকে। হঠাৎ সে বুড়ি আপাকে আবিষ্কার করে উঠোনের এক পাশে কাপড় ঘেরা একটি যায়গায়। সেখানে একটি ছোটো খাটের ওপর হলুদ রঙের শাড়ি পরে বসে আছে বুড়ি আপা। তার গায়ে হলুদ লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর বুড়ি আপা হাসি হাসি মুখ করে বসে আছে।

সান্টু পায়ে পায়ে এগিয়ে যায় সেদিকে। বুড়ি আপা তাকে দেখে ডাক দেয়। কিরে সান্টু সবাই এতো আনন্দ করে বেড়াচ্ছে, আর তোর দেখাই পাচ্ছি না। ব্যাপার কি? আজ আমার গায়ে হলুদ। তুই হলুদ দিবি না আমাকে? আয় আমার গায়ে একটু হলুদ মাখিয়ে দে। বলে বুড়ি আপা সান্টুর হাতে একটু খানি বাটা হলুদ ধরিয়ে দেয়। বুড়ি আপার মুখে হলুদ লাগাতে লাগাতে সান্টু বলে, আপা তোমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে তো তোমার খারাপ লাগছে না?

বুড়ি আপা সান্টুর মুখে এ কথা মুনে একটু থমকায়। অপ্রস্তুত হেসে বলে, খারাপ লাগছে তো ভাই। তা তুমি হাসছ যে? বুড়ি আপা বলে, তুই এখন বুঝবি না। বড় হলে বুঝবি। সান্টু নাছোড় বান্দার মতো করে বলে, আপা তুমি চলে গেলে আমাদের খুব খারাপ লাগবে। হাসান, তরিকুল, দেলু, মন্টু, রানা সবাই বলছিল ওদেরও খুব খারাপ লাগবে। আমাদের দেখতে না পেলে তোমার খারাপ লাগবে না? হাসতে গিয়ে বুড়ি আপার ঠোঁট কেঁপে যায়। দুফোঁটা জল গড়িয়ে নামে গাল বেয়ে। পাড়ার ছোটো ছোটো বাচ্চারা তাকে এতটা ভালোবাসে তা সে জানত না। সে ওদের জন্য কিইবা এমন করেছে? ছোটো বাচ্চাদের খুব ভালো লাগে তার। এজন্য ওদের কাউকে দেখলে ডেকে নিয়ে ঘরে থাকা কিছু খাবার খাইয়েছে। আর একটু আদর করে পড়ালেখার ব্যাপারে উপদেশ দিয়েছে। এতেই বাচ্চারা তাকে এতো ভালোবাসে তা সে কোনোদিন বোঝেনি।

বুড়ি আপা সান্টুকে বলে, শোন বিয়েতে এভাবে মুখ পেঁচার মতো করে রাখতে নেই। তাহলে অমঙ্গল হয়। দেখছিস না সবাই কেমন আনন্দ করছে? তুইও আনন্দ করগে সবার মতো। সান্টু বলে, যে লোকটার সঙ্গে তোমার বিয়ে হচ্ছে, তোমাকে বিয়ে না করলে তার কি এমন হতো? বুড়ি আপা ফিক করে হেসে বলে, কেন রে? সান্টু বলে, লোকটার ওপরে খুব রাগ হচ্ছে। আর নাকি কখনো তোমাকে এই গ্রামে আসতে দেবে না। বুড়ি আপা বলে, কে বলেছে? আমি মাঝে মাঝেই এসে তোদের দেখে যাবো। সত্যি, সান্টুর মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বুড়ি আপা হেসে বলে হ্যা, সত্যি। বুড়ি আপা দুষ্টুমি করে বলে, শোন বর আসলে তোকে একটা কাজ করতে হবে। পারবি? সান্টু বলে, কি কাজ? বুড়ি আপা সান্টুর কানের কাছে মুখ নিয়ে কি যেনো বলে। হাসিতে মুখ ভরে ওঠে সান্টুর।

এমন সময় পেছন থেকে রানা এসে সান্টুকে চেপে ধরে। হিরা আর কবির সান্টুর মুখে রং লাগিয়ে দেয়। তারপরই ভোঁ দৌড়। ওদের সবার মুখে নানা রকমের রং মিলেমিশে একাকার। কাউকে তেমন চেনা যাচ্ছে না। তবু সান্টু ওদের ঠিকই চিনে ফেলেছে। ওকে দেখতে ঠিক সার্কাসের জোকারের মতো লাগছে। বুড়ি আপা হো হো করে হেসে ওঠে। সান্টু ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে। বুড়ি আপা তখন একটা ছোট্ট আয়না বের করে সান্টুর মুখের সামনে ধরে। নিজেকে দেখে সান্টু নিজেকেই চিনতে পারে না। পরে সেও হেসে ফেলে। দু কানে গিয়ে ঠেকে হাসি। তারপর বুড়ি আপার পায়ের কাছে রাখা হলুদের বাটি থেকে এক মুঠো বাটা হলুদ নিয়ে তেড়ে যায়। যারা রং লাগিয়েছে তাদের খুঁজতে থাকে। আরে আমার হলুদ দিয়ে যা… বলে চিৎকার করতে থাকে বুড়ি আপা।

পরের দিন বুড়ি আপার বিয়ে। চারিদিকে বিশাল তোড় জোড় চলছে। সান্টু আজ খুব সুন্দর একটা পোশাক পরে এসেছে। তার বন্ধুরাও সুন্দর সুন্দর পোশাক পরেছে। তারা এক যায়গায় গোল হয়ে দাাঁড়িয়ে কি যেনো শলাপরমর্শ করছে। ওদের দলে হিরাও গিয়ে যোগ দেয়। অন্য সময় হলে হিরাকে সবাই এড়িয়ে যেতো। কিন্তু এখন ওকেও দলে ভিড়িয়ে নেয় সবাই। হিরা এ পাড়ার সবচেয়ে দুর্ধর্ষ মেয়ে। ছেলেদের অনেকেই হিরাকে ভয় করে চলে। কারণ ওর সঙ্গে ঝগড়া এবং মারামারিতে কেউ পারে না। গায়ে যেমন জোর তেমনি শয়তানি বুদ্ধি কিলবিল করে মাথার মধ্যে। বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে হিরা। আর দেখতে ভারি মিষ্টি চেহারা হওয়ায় কেউ তেমন শাসন করে না। লাই পেয়ে পেয়ে একেবারে মাথায় গিয়ে চড়েছে। একটু পর ওদের মিটিং শেষ হয়। সবাই এক সঙ্গে হেসে ওঠে। এখন শুধু বরের আসা বাকি।

ওদেরকে আরো অনেক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো বরের জন্য। এর মধ্যে ওরা সবাই এক টেবিলে বসে খেয়ে নিয়েছে। সেকি দারুন রান্না। বাড়ির রান্নার মতো নয়। কোথা থেকে যেনো বাবুর্চি এসেছে রান্না করতে। এতো দারুন রান্না ওরা এর আগে কেউ খায়নি। খেয়ে দেয়ে ওরা সবাই গিয়েছিল বুড়ি আপাকে দেখতে। কিন্তু কাউকে ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ঘরের ভেতর থেকে সাফ বলে দিয়েছে এখন বউ সাজানোর কাজ চলছে, কারো প্রবেশ চলবে না। ওরা সবাই তখন বাধ্য হয়ে রাস্তায় এগিয়ে গিয়ে দেখে বর কতদূর এলো।

কিছুক্ষণ পর বর আসছে… বর আসছে… বলে চিৎকার করতে করতে কয়েকজন বিয়ে বাড়ির দিকে ছুটে যায়। সান্টুরাও দলবল নিয়ে গেটের সামনে গিয়ে প্রস্তুত হয়। সেখানে গ্রামের বড় ছেলে-মেয়েরা ফিতে দিয়ে গেটর মুখের বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে। বরকে বাড়িতে ঢুকতে হলে তাদের কিছু ধাঁধাঁর জবাব দিতে হবে। তা ছাড়া শালা-শালীর দলকে খুশি করতে বর বেচারাকে বেশ কিছু টাকাও খসাতে হবে। এসব ঝামেলা মিটলে বর গিয়ে তার জন্য নির্দ্দিষ্ট করে রাখা আসনে গিয়ে বসে। কাল যেখানে বুড়ি আপার গায়ে হলুদ দেওয়া হচ্ছিল, সেখানে সুন্দর একটা  বিছানার চাদর পেতে বালিশ দিয়ে সাজিয়ে বরের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর সেখানে বসার সঙ্গে সঙ্গে চারিদিক থেকে হাত পাখার বাতাসের ধুম পড়ে যায়। বাতাসের চোটে বরের পাগড়ি একবার উড়ে গেলো। সেটি কুড়িয়ে নিয়ে আবার বরের মাথায় পরিয়ে দেওয়া হলো। সান্টু দেখল বর দেখতে বেশ সুন্দর। হাসি হাসি চেহারা। লোক খারাপ বলে মনে হচ্ছে না। সান্টুর রাগ খানিকটা পড়ে যায়। তবে তাতে ওদের প্লানের হেরফের হচ্ছে না।

প্রথম প্রথম বেশ কিছুক্ষণ ওরা বরের কাছেপিঠে ভিড়তে পারল না। বরের পাশে বসার সুযোগ খুঁজতে লাগল সান্টু। তবে বরের সঙ্গে আসা কয়েকটা ছেলে-মেয়ের কারণে ওদের দলের কেউ সুযোগ পাচ্ছিল না। এদিকে বিয়ে পড়ানো হয়ে গেছে। বরের চলে যাবার সময় হয়ে আসছে। ওরা যখন ভাবছে কি করা যায়, এমন সময় দেখে হিরা বরের পাশে গিয়ে চুপটি করে বসে আছে। হিরাকে থুতনি নেড়ে দিয়ে আদর করল বর লোকটা। হিরা তার বকবকানি শুরু করে দিল। এক সময় সে হাত নেড়ে সান্টুদের ডাকে। বরও ওদের দেখে বেশ খুশি হয়। তারা সবাই মিলে বরকে ছেঁকে ধরে। এরই মধ্যে ওদের একজন গিয়ে বরের জুতা জোড়া লুকিয়ে রাখল। কেউ টেরও পেলো না। সান্টু মনে মনে ভাবে কেবল একটা কাজ হলো, আসল কাজ এখনো বাকি।

এমন সময় দেখা গেলো কয়েকজন মিলে বুড়ি আপাকে নিয়ে এদিকে আসছে। ওমা, কি সুন্দর দেখতে লাগছে বুড়ি আপাকে! একেবারে রাজকন্যাদের মতো। সবাই মিলে বুড়ি আপাকে নিয়ে বরের পাশে বসাল। বর এবং বউ দুজনেই লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। তবে লম্বা ঘোমটার মধ্যে থাকায় বুড়ি আপার মুখ কেউ দেখতে পেলো না। আর বর তার হাতের রুমালটি সজোরে নিজের মুখের সঙ্গে চেপে ধরল। হাসির একটা রোল পড়ে গেলো সবার মধ্যে। এমন সময় সবাই মিলে বাচ্চাদের সরিয়ে দিতে উদ্যত হয়। তবে হিরা বরের পাশে জোঁকের মতো সেঁটে থাকে। সান্টু দেরি না করে তার কাজ শুরু করে। পকেট থেকে একমুঠো সেপটিপিন বের করে সে। হাতে হাতে সেগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তার দলের সবার কাছে।

বুড়ি আপা বলে দিয়েছিল, একটা সেফটিপিন সান্টু যেনো বরের পাঞ্জাবী আর বুড়ি আপার শাড়ির আঁচলের সঙ্গে লাগিয়ে দেয়। তাহলে নাকি খুব মজা হবে। তবে সান্টু আরো কিছুটা বাড়তি মজা করবে বলে ভেবে রেখেছিল। সে বুড়ি আপার কথা মতো সেফটিপিন লাগায়। আর ওদিকে সবাই বরের পাঞ্জাবীর পিছনের অংশের সঙ্গে বিছানার চাদরে সেফটিপিন লাগিয়ে একে একে কেটে পড়ে। শুধু পূর্ব পরিকল্পনা মতো হিরা বসে থাকে সেখানে।

দেখতে দেখতে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়ে এলো। এবার বর-বধূর বিদায় নেবার পালা। বিদায় বেলার বিরহে সবার মুখে আষাঢ়ের মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। চোখ সবারই ছল ছল করছে। বুড়ি আপাও কেঁদে চলেছে একটানা। তার চোখের জল টপ টপ করে গাল বেয়ে পড়ছে। এমন সময় মুরুব্বি গোছের কে একজন এসে দেরি হয়ে যাচ্ছে বলে খুব তাড়া লাগালো। একেবারে হুলস্থুল কাণ্ড। খাট ছেড়ে পা মাটিতে নামায় বর। যেখানে তার জুতা থাকার কথা, সেখানে কিছুই নেই। জুতা খোঁজ খোঁজ রব পড়ে গেলো চারিদিকে। ভালোমানুষের মতো মুখ করে হিরা বলে, জুতা চাইলে বখশিস দিতে হবে। গেটের বখশিস আমরা পাইনি। সব বড় ভাইয়া আর আপুরা পেয়েছে। বর বেচারা ভালো মানুষের মতো পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে দেয়। হিরা টাকা হাতে নেওয়ার পরপরই কোথা থেকে ভোজবাজির মতো জুতা এসে হাজির।

জুতা পায়ে বর দাঁড়াতেই বুড়ি আপাও উঠে দাঁড়ায়। তাদের পাঞ্জাবী ও আঁচলের মধ্যে পরস্পর টান লাগাতে উভয়ে একে অন্যের দিকে তাকায়। চোখে চোখ পড়ে দুজনের। মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে পড়ে দুজনের মুখেই। সলজ্জ হেসে উভয়েই চোখ ফিরিয়ে নেয়। ততক্ষণে সবাই বিষয়টি খেয়াল করে মুচকি মুচকি হাসে। সবাই বেশ মজা পেয়েছে।

খানিক পর আবার কেমন করে যেনো পরিবেশটা ভারি হয়ে ওঠে। আবার একদফা কান্নার রোল ওঠে। এরপর বর যখন একটু এগিয়ে যায়, তখন বিছানার চাদরও বরের পেছনে পেছনে চলে। পেছন থেকে হাসির রোল ওঠে। দুজন মুরুব্বি পেছন থেকে কিছু না বুঝেই বিছানার চাদর ধরে জোরে একটা টান দেয়। টানের চোটে বিছানার চাদরের সঙ্গে বরের পাঞ্জাবীর পিছনের অংশও ফড় ফড় করে ছিঁড়ে আসে। বরের সামনের অংশে পাঞ্জাবী আছে, পেছন আলগা। হায় হায়, এখন কি হবে?

সবাই হতভম্ব হয়ে যায় এ কাণ্ডে। কে করল, কে করল এই কাজ? চারিদিকে রব ওঠে। ততক্ষণে কি আর সান্টু বাহিনী আশপাশে আছে? তারা কোথায় যেনো গায়েব হয়ে গেছে। এই কাণ্ড দেখে কান্না ভুলে গেছে বুড়ি আপা। সে ঠিকই বুঝতে পারে এ কাণ্ড কার। হাসি চেপে রাখতে না পেরে বেশ জোরে সোরে হেসে ওঠে সে। বর বেচারা বুড়ি আপার দিকে বোকা বোকা চেহারা নিয়ে তাকিয়ে থাকে। হাসবে না কাঁদবে বুঝে উঠতে পারে না।