ইসলামের দৃষ্টিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় করণীয়-পূর্বপ্রস্তুতি

পৃথিবীর সবকিছুই সংঘটিত হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশে। তার নির্দেশেই মানুষের জীবন ধারণের অপরিহার্য উপাদান প্রকৃতি কখনো বিরূপ আচরণ করে থাকে। এর দ্বারা সৃষ্টিজগৎ বিভিন্ন ক্ষয়-ক্ষতির মুখোমুখি হয়। পৃথিবীর সব দেশেই কম-বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটে। তবে আমাদের দেশেও এর মাত্রাটা কম নয়। নানা দুর্যোগের মধ্যেই যাপিত হচ্ছে আমাদের জীবন। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রকৃতির নিজস্ব কোনো সৃষ্টি নয়। বরং জল-স্থল, চন্দ্র-সূর্য, আলো-বাতাস তথা প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানে যা কিছু ঘটে সেগুলো মহান আল্লাহর সূক্ষ্ম পরিকল্পনারই অংশ। দুর্যোগ-দুর্ঘটনাও তারই ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ। বিপর্যয়ের জন্য দায়ী মানুষের কৃতকর্ম। সমাজে অন্যায়-অনাচার বেড়ে গেলেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকে বেশি।

রাসুল (সা.) হাদিসে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি নিজেও উম্মতের ওপর দুর্যোগের ব্যাপারে শঙ্কিত ছিলেন। তিনি দোয়া করেছেন যেন তার উম্মতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়ে এক সঙ্গে ধ্বংস না করা হয়। কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিলে রাসুল (সা.) বিচলিত হয়ে পড়তেন। আল্লাহর শাস্তির ভয় করতেন। বেশি বেশি তওবা-ইস্তেগফার করতেন এবং অন্যদেরও তা করার নির্দেশ দিতেন। ঝড়-তুফান শুরু হলে তিনি মসজিদে চলে যেতেন। নফল নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানাতেন। রাসুল (সা.)-এর এই আমল দ্বারা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুহূর্তে আমাদের করণীয় কী তা জানতে পারি। আমাদের উচিত নিজেদের আমল-আখলাক বিশুদ্ধ করে খাঁটি মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যেহেতু মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়, অগণিত মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে, তাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসাও একটি মহৎ কাজ। যে কোনো দুর্যোগের মুহূর্তে প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ সাধ্যানুযায়ী সাহায্যের হাত প্রসারিত করা। মানুষ মানুষের জন্য এই নীতি প্রয়োগের উৎকৃষ্ট সময় হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুহূর্ত। ঝড়-বৃষ্টি, টর্নেডো-জলোচ্ছ্বাস, খরা-বন্যা প্রতিটি দুর্যোগেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। আল্লাহ কারো সামর্থ্য দেখেন না, তিনি দেখেন আন্তরিকতা। মানুষের জন্য কিছু করার মানসিকতা থাকলে এর সুফল আল্লাহর কাছ থেকে অবশ্যই পাওয়া যাবে।