গজারিয়া গণহত্যা দিবস আজ

আজ ৯ মে। গজারিয়া গণহত্যা দিবস। এইদিন ভোরে পাক সেনারা মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া আক্রমণ চালিয়ে নির্মম নৃসংশভাবে ৩৬০ জন নিরহ নিরঅস্ত্র বাঙালিকে হত্যা করে। গজারিয়া, নয়ানগর, গোসাইরচর, বালুর চর, নাগেরচর, কাজিপুরা, প্রধানেরচর, বাশঁগাও, সোনইরকান্দি, দক্ষিণ ফুলদিগ্রামের লোকজনকে পাকবাহীনি অর্তকিত হামলা চালিয়ে হত্যা করে।

এ হত্যাকাণ্ডে সৃষ্ট গজারিয়া ইউনিয়নে মোট ১০টি বদ্ধভূমি অরক্ষিত ও অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। ১১টির মধ্যে কেবলমাত্র একটি বদ্ধভূমি চিহ্নত করা হয়েছে। বাকি বদ্ধভূমিগুলো সংরক্ষণ করা হয়নি স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও। কালের আবর্তে এসব বদ্ধভূমিগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। চরম অবহেলায় রয়েছে শহীদ পরিবারগুলো। এমনকি পাকসেনাদের আক্রমেণে আহত হয়ে যারা এখনও বেঁচে আছেন তারাও পাননি কোন সহযোগিতা এবং স্বীকৃতি। গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে রাষ্ট্রীয়ভাবে এবার আয়োজন করা হয়নি কোন স্মরণ সভার।

পাকসেনাদের আক্রমণে নিহত ৩৬০ জনের মধ্যে ১০৩ জনের নাম পরিচয় পাওয়া গেলেও স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও ২৫৭ জনের নাম পরিচয় পাওয়া কোন উদ্যোগ নেয়নি বর্তমান ও বিগত কোন সরকার। গোসাইরচরে ৫০ জন, গজারয়িা গ্রামের ৭জন, নয়ানগর গ্রামের ২৪ জন, বালুরচরের ৪ জন, সোনাইরকান্দি গ্রামের ৪ জন, নাগেরচরের ৮ জন, বাশগাওয়ের ৩ জন, কাজিপুরা, প্রধানেরচর ও দক্ষিণ ফুলদি গ্রামের ১ জন করে মোট ৩জন। শহীদ পরিবারগুলো এখনও মানবেতর জীবন যাপন করছে। আজ অবধি সরকারিভাবে তাদের স্বীকৃতি বা কোন ধরণের সহযোগিতা করা হয়নি।

এসব পরিবারগুলোর কেউ হারিয়েছেন স্বামী, সন্তান, আবার কেউ বা বাবা ও ভাইকে। অনেক আবার হারিয়েছেন পুর পারিবাবে ৭-৮ জন সদস্যা। এদের হারিয়ে এখন সৃতি নিয়ে বেছে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই শহীদ পরিবারগুলোর।

গজারিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার নজরুল ইসলাম বলেন, আগরে কে কি করেছে সেটা জানিনা। তবে আমি আজ থেকে শহীদ পরিবারদের স্বীকৃতি পাওয়ার ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালাবো।

বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার গজারিয়ার এসব অরক্ষিত ও অবহেলিত বদ্ধভূমি চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করবে এবং শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় মার্যাদায় স্বীকৃতি দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে এমন আশায় বুক বেঁধে আজও বেঁচে আছেন ওইসব শহীদ পরিবারের সদস্যগুলো।

গজারিয়ানিউজ/জাফর/