ইসলামের দৃষ্টিতে সদাচরণের গুরুত্ব

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রকৃত মুসলমান সে-ই, যার জবান ও হাত থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে। একজন মুসলমানকে তাই অবশ্যই সদাচরণের আদর্শে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। সততায় তাকে হতে হবে আদর্শস্থানীয়। তাকে হতে হবে সত্যবাদী। হতে হবে মানবদরদী। আমরা যদি নিজেদের মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিতে চাই, তবে নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে আমাদের আচরণে অর্থাত্ কথা ও কাজে অন্য কোনো মানুষ কষ্ট না পায়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবারা সমাজের অন্য সব মানুষের কাছে সদাচরণের আদর্শ হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তারা নিজেদের পরশ পাথর হিসেবে প্রমাণ করতে পেরেছিলেন। যাদের সংস্পর্শে এলে মানুষ অসৎ কাজ থেকে দূরে সরে আসে। যাদের সংস্পর্শে মানুষ সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের অনুগামী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ হয়।

সদাচরণকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবিরা নিজেদের আদর্শ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। যে আরব সমাজে কথায় কথায় দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগে থাকত সেখানে তারা শান্তির পরিবেশ গড়ে তোলেন। সংঘাতের বদলে শান্তি আরব সমাজের বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়। সদাচরণকে মুমিনরা তাদের ভূষণ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

প্রতিহিংসাপরায়ণতাকে তারা নিজেদের জীবন থেকে মুছে ফেলেছিলেন কোরআন ও হাদিসের আলোকে। মুসলমানরা এমন এক সত্তায় পরিণত হয় যাদের ওপর অনায়াসে আস্থা রাখা যায়। এ কারণে মক্কার সেই দিনগুলোতে যখন মুসলমানরা কোরাইশদের জিঘাংসার পাত্রে পরিণত হয়েছিল ওই সময়ও তারা তাদের সম্পদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গচ্ছিত রাখতে আগ্রহী হতো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তারা যখন প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব পোষণ করত তখনো তাকে অভিহিত করত আল-আমিন অর্থাৎ বিশ্বাসী হিসেবে।

সদাচরণকে ইসলামে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিসে। যাতে বলা হয়েছে- যার অনষ্টি থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, সে মুমিন নয়। অর্থাৎ মুমিন হতে হলে আমাদের সৎ ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে। আল্লাহ সবাইকে সদাচরণের সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।