সর্বশেষ খবর

গজারিয়ায় মাধ্যমিকে ফলাফল বিপর্যয়॥ প্রতিবছর ঝড়ে পরছে দেড় হাজার শিক্ষার্থী॥

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন :
গজারিয়া উপজেলা শিল্প প্রতিষ্ঠানে এগিয়ে গেলেও আগায়নি শিক্ষাগত মান। গজারিয়া উপজেলায় ৮টি ইউনিয়ন। নির্বিঘেœ, নিরাপত্তা নিয়ে কোন মেয়ে শিশু শিক্ষা গ্রহণ করতে বিদ্যালয়ে আসতে প্রতিনিয়ত ভীতি কাজ করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাল্য বিবাহ, লেখাপড়ার খরচ যোগান দিতে না পারা, সংসারের অভাব অনটন, নারী শিশুদের নিরাপত্তার অভাবে ঝরে পরছে শিক্ষার্থীরা। ঝরে পরা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেক। এই ঝরে পরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসন, স্কুল, মাদ্রাসা কেউই কোন কাজ করেনি। প্রতিবছর ঝড়ে পরে দেড় হাজার শিক্ষার্থী। ঝড়ে পরা শিক্ষার্থীদের বেশীরভাগই নারী শিশু। বাল্য বিবাহের অভিশাপ থেকে কোনভাবেই রক্ষা করা যাচ্ছে না গজারিয়াবাসীকে। অভিভাবকদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, তারা তাদের মেয়েদের নিরাপত্তার অভাব মনে করে পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ হলেই তাকে বিবাহ দিয়ে দিচ্ছেন।

গজারিয়া এস.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ এ ধস। ২০১৯ সালে ১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ২২১৮ জন। কৃতকার্য হয়েছে ১৭৭৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৪৪৩ জন। জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে মাত্র ১৮ জন। তথ্য অনুসন্ধানে পাওয়া যায় এবছর পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে নকল করতে না দেওয়াতেই এই ফলাফলে বিপর্যয় নেমে এসেছে। নামী দামী ১০টি স্কুলে জিপিএ ৫.০০ এর দেখা মেলেনি। বাকী ৭টি প্রতিষ্ঠানে যারা জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে সেখানেও দেখা যায় মেধা তালিকার শিক্ষার্থীরা পায়নি। গজারিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫৯জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৫ জন জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে পাস করেছে ১৫৭জন অকৃতকার্য ২জন পাশের হার ৯৮.৭৪। সবচেয়ে বেশী ৩৭৯জন অর্থাৎ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয় ভবেরচর ওয়াজীর আলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। কিন্তু ফেলের সংখ্যাও বেশী। জিপিএ ৫.০০ এর সংখ্যা মাত্র ৩জন। এই স্কুলটির বিপর্যয়ের কারণ খুজতে গিয়ে দেখা যায়, টেস্ট পরীক্ষায় যারা অকৃতকার্য হয়েছে তাদেরকেও বিশেষভাবে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করানো হয়েছে। অন্যান্য স্কুলগুলোতে ৪৩, ৩৮, ৩২, ২৮, ২৫, ২৪ জন করে ফেল করেছে। গজারিয়ার মাধ্যমিক স্কুলগুলোর ফলাফল বিপর্যয়ে হতাশ অভিভাবক ও সুধিমহল। অভিভাবক ও সুধিমহল অভিযোগ করে প্রশ্ন করেন, ১২ মাস প্রাইভেট, কোচিং, মডেল টেস্ট নেয়ারও পরেও কেন ফলাফলে এত বিপর্যয়?

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালের জেএসসি পরীক্ষায় একটি জুনিয়র স্কুলসহ ১৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২৬২৯জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। ১৬৩ জন জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে। ২৩৪৩জন কৃতকার্য হয়েছে। অকৃতকার্য হয়েছে ২৮৬জন। এখানে দেখা যায় ৪১১জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে নাই। কারণ হিসেবে দেখা যায়, বাল্য বিবাহ ও দারিদ্রতা ও অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে ঝরে পরেছে। একই কারণে ১২৫ জন জেএসসিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীই ঝরে পরেছে এস.এস.সি পরীক্ষা দেয়নি।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রাতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ৪১১জন শিক্ষার্থী কেন কিভাবে ঝরে পরেছে তা তারা কখনও খোজ নেননি। বিষয়টির তথ্য সরকারি বিভিন্ন ওয়েব সাইডে আপডেট করার কথা থাকলেও তারা এ বিষয়টির প্রতি কোন গুরুত্বই দেননি। কেন শিক্ষার্থী ঝরে পরে তা নিয়ে তারা সচেতন না।

আরো গভীর অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়,্ সমাপণী ২০১৩ সালে ৩২২৩জন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ২জন ছাড়া সকলেই উত্তীর্ণ হয়। জিপিএ ৫.০০ পায় ৪৭১জন। অস্টম শ্রেণিতে এসে ঝরে পরেছে ৮৮০জন। পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরে ঝরে পরা ৮৮০জন শিক্ষার্থী কোথায় গেল? কেন জেএসসি পরীক্ষা দিল না আজ পর্যন্ত কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষা অফিসার তদন্ত করেননি।

এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন জানান, গজারিয়া উপজেলায় জাতীয় পর্যায়ে ফলাফলে বিপর্যয় হয়নি। শিক্ষার্থী ঝরে পরার বিষয়টি আমাদের নলেজে নেই।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

Latest Posts

আলোচিত খবর